১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

অপহরন মামলার সূত্র ধরে মাথাবিহীন অজ্ঞাতনামা মহিলার মৃতদেহের পরিচয় সনাক্ত

খুলনা জেলা বিশেষ প্রতিনিধি

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানাধীন সাজিয়ারা গ্রামস্থ জনৈক মজিদ ফকিরের ছেলে শামিম ফকির (৩০) তার মা সালেহা বেগমের অপহরন সংক্রান্তে একই গ্রামের মোঃ লালন গাজীকে আসামি করে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পিবিআই খুলনার এসআই (নিঃ) রেজোয়ান উক্ত মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন। তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারেন ভিকটিম সালেহা বেগম দীর্ঘদিন যাবত পিরোজপুর জেলার ইন্দুকানী থানা এলাকায় অবস্থান করতেন কিন্তু গত ১৯/০৮/২০২৫ খ্রিঃ সন্ধ্যা থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকে। এই বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানা এলাকায় খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারেন ভিকটিম সালেহা বেগম ও আসামি মোঃ লালন গাজী একত্রে উক্ত থানার চাড়াখালী গ্রামস্থ জনৈকা মোছাঃ জেসমিন বেগমের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করতেন। সর্বশেষ গত ১৯/০৮/২০২৫ খ্রিঃ সন্ধ্যায় ভিকটিম এবং আসামি মোঃ লালন গাজী তার মামা বাড়ি খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা থানাধীন গজালিয়া গ্রামে যাওয়ার কথা বলে একত্রে বাসা থেকে বের হয়ে চলে আসে। এই মামলাটি তদন্তকালে জানা যায় গত ইং ২০/০৮/২০২৫ খ্রিঃ ১৬.৩০ ঘটিকায় বটিয়াঘাটা থানা পুলিশ বটিয়াঘাটা থানাধীন ৪নং সুরখালী ইউনিয়নের সুখদাড়া গ্রামস্থ জনৈক শহীদ শেখ এর বাড়ির পশ্চিম দিকে ঝপঝপিয়া নদী হতে মাথাবিহীন অজ্ঞাতনামা একজন মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষনিকভাবে উক্ত মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় থানা পুলিশ উক্ত মৃতদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করতঃ ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনায় প্রেরণ করেন এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও ডিএনএ প্রোফাইল সংরক্ষণ করেন। এ সংক্রান্তে বটিয়াঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়, যার মামলা নং-০৯, তাং ২০/০৮/২০২৫ ইং, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড। উদ্ধারকৃত অজ্ঞাতনামা মহিলার মৃতদেহটি সংক্রান্তে থানা পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন পূর্বক বেওয়ারিশ মৃতদেহ হিসেবে দাফন করে। এমতাবস্থায় পিবিআই খুলনার ক্রাইমসিন টিম কর্তৃক ইতোপূর্বে সংগৃহীত উপরোক্ত হত্যা মামলার অজ্ঞাতনামা মাথাবিহীন মহিলার মৃতদেহের একাধিক স্থিরচিত্র তদন্তাধীন অপহরন মামলার বাদী ও তার পরিবারকে দেখালে তারা উক্ত অজ্ঞাতনামা মাথাবিহীন মহিলার মৃতদেহের পরিধেয় বস্ত্র এবং শারীরিক অবয়ব দেখে মৃতদেহটি বাদীর মা ভিকটিম সালেহা বেগমের মর্মে প্রাথমিকভাবে দাবী করে। এ অবস্থায় বটিয়াঘাটা থানায় রুজুকৃত উপরোক্ত হত্যা মামলাটি পিবিআই এর সিডিউল ভুক্ত হওয়ায় পিবিআই খুলনা স্ব-উদ্যোগে মামলাটি গ্রহন করতঃ মামলার তদন্তভার এসআই (নিঃ) রেজোয়ান এর উপর অর্পণ করে। এসআই (নিঃ) রেজোয়ান উক্ত হত্যা মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করতঃ তদন্তকালে দেখতে পান যে হত্যা মামলাটির অজ্ঞাতনামা মহিলার মৃতদেহটি উদ্ধার হওয়ার পর থেকে পূর্বের অপহরন মামলার আসামি মোঃ লালন গাজী পলাতক রয়েছে।
অতঃপর উক্ত হত্যা মামলার ঘটনা সংক্রান্তে পিবিআই প্রধান জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল, অ্যাডিশনাল আইজিপি, বাংলাদেশ পুলিশ এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায়, পিবিআই খুলনা জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা এর নেতুত্ত্বে এসআই (নিঃ) রেজোয়ান, এসআই (নিঃ) মোঃ সোহানুর রহমান, এসআই (নিঃ) খোন্দকার নাঈম-উল-ইসলাম সহ পিবিআই খুলনা জেলার চৌকস দল সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, নারায়নগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু আসামি মোঃ লালন গাজী অত্যন্ত ধুরন্ধর এবং চালাক প্রকৃতির হওয়ায় সে কোন মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না এবং নিজের পরিবার সহ এলাকার কারো সাথে কোন যোগাযোগ রাখত না। এমতাবস্থায় পিবিআই, খুলনার চৌকস দল দীর্ঘ ৪০ দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভিকটিম সালেহা বেগমকে হত্যার ঘটনায় আসামি মোঃ লালন গাজীকে গত ১৮/১২/২০২৫ খ্রিঃ রাত ০৮.৪৫ ঘটিকায় সুনামগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন হালুয়ারঘাট বাজার সংলগ্ন খেয়াঘাট হতে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে আসামি মোঃ লালন গাজীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামির এবং ভিকটিম সালেহা বেগমের বাড়ি একই গ্রামে। ভিকটিম ইতোপূর্বে প্রবাসি শ্রমিক হিসেবে সৌদি আরবে ছিলো। ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে ভিকটিম সৌদি আরব হতে বাংলাদেশে ফেরত চলে আসে। দেশে আসার পর হতে গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ লালন গাজীর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এরপর আসামি ভিকটিমকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে পরিচয় দিয়ে একত্রে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানাধীন চাড়াখালী সাকিনস্থ জনৈকা মোছাঃ জেসমিন বেগমের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে শুরু করে এবং তার নিজস্ব মাটি কাটার ভেকু পরিচালনা করতেন। সেখানে অবস্থানকালীন আসামি ভিকটিমের ব্যাংক একাউন্ট থেকে ১৪,০০,০০০/- (চৌদ্দ লক্ষ) টাকা উত্তোলন করে নিয়ে নেয়। এই নিয়ে ভিকটিম আসামিকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য এবং ভিকটিমকে বিবাহ করার জন্য চাপ দিলে আসামি ভিকটিমকে হত্যা করার পরিকল্পনা করতে থাকে। এ অবস্থায় গত ১৯/০৮/২০২৫ খ্রিঃ বিকাল অনুমান ১৭.৩০ ঘটিকায় উক্ত ভাড়া বাসা হতে ভিকটিম সালেহা বেগমকে নিয়ে গ্রেফতারকৃত আসামি খুলনা যাওয়ার কথা বলে বাহির হয় এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহায়তায় খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা থানাধীন পার বটিয়াঘাটা নামক খেয়াঘাট এলাকায় নিয়ে ভিকটিমকে হত্যা করে শরীর হতে মাথা বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ গোপন করার জন্য বটিয়াঘাটা থানধীন ঝপঝপিয়া নদীতে ফেলে দেয়। পরদিন ২০/০৮/২০২৫ খ্রিঃ বটিয়াঘাটা থানা পুলিশ কর্তৃক ভিকটিমের মাথা বিহীন মৃতদেহ উদ্ধার হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ লালন গাজীকে যথাসময়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের আদেশে ০৭ (সাত) দিনের পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদকালে আসামি মোঃ লালন গাজীর দেখানো মতে গত ২৭/১২/২০২৫ খ্রিস্টাব্দ বেলা ১৩.১০ ঘটিকায় এবং ২৭/১২/২০২৫ খ্রিস্টাব্দ ১৪.০৫ ঘটিকায় বটিয়াঘাটা থানাধীন গজালিয়া গ্রামস্থ আসামির মামাতো ভাইয়ের বাড়ির বসতঘর, রান্নাঘর ও রান্নাঘর সংলগ্ন উঠানের মাটির নিচ হতে ভিকটিম সালেহা বেগমের ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল সহ পরিধেয় বস্ত্র জব্দ করা হয়। অদ্য ২৯/১২/২০২৫ খ্রিঃ আসামি মোঃ লালন গাজীকে ০৭ (সাত) দিনের পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিজ্ঞ আদালতে যথাসময়ে সোপর্দ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
১। তদন্ত তদারকী কর্মকর্তাঃ রেশমা শারমিন পিপিএম-সেবা, পুলিশ সুপার, পিবিআই, খুলনা জেলা, মোবাঃ ০১৩২০-০৩২৭৭০।
২। তদন্তকারী কর্মকর্তাঃ এসআই (নিঃ) রেজোয়ান, তদন্তকারী কর্মকর্তা, পিবিআই, খুলনা, মোবাঃ ০১৭১০-১০৯০৮০।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০৯:২৮:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
৯১ বার পড়া হয়েছে

অপহরন মামলার সূত্র ধরে মাথাবিহীন অজ্ঞাতনামা মহিলার মৃতদেহের পরিচয় সনাক্ত

আপডেট সময় ০৯:২৮:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

খুলনা জেলা বিশেষ প্রতিনিধি

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানাধীন সাজিয়ারা গ্রামস্থ জনৈক মজিদ ফকিরের ছেলে শামিম ফকির (৩০) তার মা সালেহা বেগমের অপহরন সংক্রান্তে একই গ্রামের মোঃ লালন গাজীকে আসামি করে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পিবিআই খুলনার এসআই (নিঃ) রেজোয়ান উক্ত মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন। তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারেন ভিকটিম সালেহা বেগম দীর্ঘদিন যাবত পিরোজপুর জেলার ইন্দুকানী থানা এলাকায় অবস্থান করতেন কিন্তু গত ১৯/০৮/২০২৫ খ্রিঃ সন্ধ্যা থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকে। এই বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানা এলাকায় খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারেন ভিকটিম সালেহা বেগম ও আসামি মোঃ লালন গাজী একত্রে উক্ত থানার চাড়াখালী গ্রামস্থ জনৈকা মোছাঃ জেসমিন বেগমের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করতেন। সর্বশেষ গত ১৯/০৮/২০২৫ খ্রিঃ সন্ধ্যায় ভিকটিম এবং আসামি মোঃ লালন গাজী তার মামা বাড়ি খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা থানাধীন গজালিয়া গ্রামে যাওয়ার কথা বলে একত্রে বাসা থেকে বের হয়ে চলে আসে। এই মামলাটি তদন্তকালে জানা যায় গত ইং ২০/০৮/২০২৫ খ্রিঃ ১৬.৩০ ঘটিকায় বটিয়াঘাটা থানা পুলিশ বটিয়াঘাটা থানাধীন ৪নং সুরখালী ইউনিয়নের সুখদাড়া গ্রামস্থ জনৈক শহীদ শেখ এর বাড়ির পশ্চিম দিকে ঝপঝপিয়া নদী হতে মাথাবিহীন অজ্ঞাতনামা একজন মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষনিকভাবে উক্ত মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় থানা পুলিশ উক্ত মৃতদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করতঃ ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনায় প্রেরণ করেন এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও ডিএনএ প্রোফাইল সংরক্ষণ করেন। এ সংক্রান্তে বটিয়াঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়, যার মামলা নং-০৯, তাং ২০/০৮/২০২৫ ইং, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড। উদ্ধারকৃত অজ্ঞাতনামা মহিলার মৃতদেহটি সংক্রান্তে থানা পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন পূর্বক বেওয়ারিশ মৃতদেহ হিসেবে দাফন করে। এমতাবস্থায় পিবিআই খুলনার ক্রাইমসিন টিম কর্তৃক ইতোপূর্বে সংগৃহীত উপরোক্ত হত্যা মামলার অজ্ঞাতনামা মাথাবিহীন মহিলার মৃতদেহের একাধিক স্থিরচিত্র তদন্তাধীন অপহরন মামলার বাদী ও তার পরিবারকে দেখালে তারা উক্ত অজ্ঞাতনামা মাথাবিহীন মহিলার মৃতদেহের পরিধেয় বস্ত্র এবং শারীরিক অবয়ব দেখে মৃতদেহটি বাদীর মা ভিকটিম সালেহা বেগমের মর্মে প্রাথমিকভাবে দাবী করে। এ অবস্থায় বটিয়াঘাটা থানায় রুজুকৃত উপরোক্ত হত্যা মামলাটি পিবিআই এর সিডিউল ভুক্ত হওয়ায় পিবিআই খুলনা স্ব-উদ্যোগে মামলাটি গ্রহন করতঃ মামলার তদন্তভার এসআই (নিঃ) রেজোয়ান এর উপর অর্পণ করে। এসআই (নিঃ) রেজোয়ান উক্ত হত্যা মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করতঃ তদন্তকালে দেখতে পান যে হত্যা মামলাটির অজ্ঞাতনামা মহিলার মৃতদেহটি উদ্ধার হওয়ার পর থেকে পূর্বের অপহরন মামলার আসামি মোঃ লালন গাজী পলাতক রয়েছে।
অতঃপর উক্ত হত্যা মামলার ঘটনা সংক্রান্তে পিবিআই প্রধান জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল, অ্যাডিশনাল আইজিপি, বাংলাদেশ পুলিশ এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায়, পিবিআই খুলনা জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা এর নেতুত্ত্বে এসআই (নিঃ) রেজোয়ান, এসআই (নিঃ) মোঃ সোহানুর রহমান, এসআই (নিঃ) খোন্দকার নাঈম-উল-ইসলাম সহ পিবিআই খুলনা জেলার চৌকস দল সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, নারায়নগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু আসামি মোঃ লালন গাজী অত্যন্ত ধুরন্ধর এবং চালাক প্রকৃতির হওয়ায় সে কোন মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না এবং নিজের পরিবার সহ এলাকার কারো সাথে কোন যোগাযোগ রাখত না। এমতাবস্থায় পিবিআই, খুলনার চৌকস দল দীর্ঘ ৪০ দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভিকটিম সালেহা বেগমকে হত্যার ঘটনায় আসামি মোঃ লালন গাজীকে গত ১৮/১২/২০২৫ খ্রিঃ রাত ০৮.৪৫ ঘটিকায় সুনামগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন হালুয়ারঘাট বাজার সংলগ্ন খেয়াঘাট হতে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে আসামি মোঃ লালন গাজীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামির এবং ভিকটিম সালেহা বেগমের বাড়ি একই গ্রামে। ভিকটিম ইতোপূর্বে প্রবাসি শ্রমিক হিসেবে সৌদি আরবে ছিলো। ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে ভিকটিম সৌদি আরব হতে বাংলাদেশে ফেরত চলে আসে। দেশে আসার পর হতে গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ লালন গাজীর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এরপর আসামি ভিকটিমকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে পরিচয় দিয়ে একত্রে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানাধীন চাড়াখালী সাকিনস্থ জনৈকা মোছাঃ জেসমিন বেগমের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে শুরু করে এবং তার নিজস্ব মাটি কাটার ভেকু পরিচালনা করতেন। সেখানে অবস্থানকালীন আসামি ভিকটিমের ব্যাংক একাউন্ট থেকে ১৪,০০,০০০/- (চৌদ্দ লক্ষ) টাকা উত্তোলন করে নিয়ে নেয়। এই নিয়ে ভিকটিম আসামিকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য এবং ভিকটিমকে বিবাহ করার জন্য চাপ দিলে আসামি ভিকটিমকে হত্যা করার পরিকল্পনা করতে থাকে। এ অবস্থায় গত ১৯/০৮/২০২৫ খ্রিঃ বিকাল অনুমান ১৭.৩০ ঘটিকায় উক্ত ভাড়া বাসা হতে ভিকটিম সালেহা বেগমকে নিয়ে গ্রেফতারকৃত আসামি খুলনা যাওয়ার কথা বলে বাহির হয় এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহায়তায় খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা থানাধীন পার বটিয়াঘাটা নামক খেয়াঘাট এলাকায় নিয়ে ভিকটিমকে হত্যা করে শরীর হতে মাথা বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ গোপন করার জন্য বটিয়াঘাটা থানধীন ঝপঝপিয়া নদীতে ফেলে দেয়। পরদিন ২০/০৮/২০২৫ খ্রিঃ বটিয়াঘাটা থানা পুলিশ কর্তৃক ভিকটিমের মাথা বিহীন মৃতদেহ উদ্ধার হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ লালন গাজীকে যথাসময়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের আদেশে ০৭ (সাত) দিনের পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদকালে আসামি মোঃ লালন গাজীর দেখানো মতে গত ২৭/১২/২০২৫ খ্রিস্টাব্দ বেলা ১৩.১০ ঘটিকায় এবং ২৭/১২/২০২৫ খ্রিস্টাব্দ ১৪.০৫ ঘটিকায় বটিয়াঘাটা থানাধীন গজালিয়া গ্রামস্থ আসামির মামাতো ভাইয়ের বাড়ির বসতঘর, রান্নাঘর ও রান্নাঘর সংলগ্ন উঠানের মাটির নিচ হতে ভিকটিম সালেহা বেগমের ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল সহ পরিধেয় বস্ত্র জব্দ করা হয়। অদ্য ২৯/১২/২০২৫ খ্রিঃ আসামি মোঃ লালন গাজীকে ০৭ (সাত) দিনের পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিজ্ঞ আদালতে যথাসময়ে সোপর্দ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
১। তদন্ত তদারকী কর্মকর্তাঃ রেশমা শারমিন পিপিএম-সেবা, পুলিশ সুপার, পিবিআই, খুলনা জেলা, মোবাঃ ০১৩২০-০৩২৭৭০।
২। তদন্তকারী কর্মকর্তাঃ এসআই (নিঃ) রেজোয়ান, তদন্তকারী কর্মকর্তা, পিবিআই, খুলনা, মোবাঃ ০১৭১০-১০৯০৮০।