শালিখায় বাড়ছে অবৈধ বেড়িবাঁধ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে বাড়ছে জলাবদ্ধতা ও কৃষি সংকট
বিশেষ প্রতিনিধিঃ সুবির ঘোষ।
মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার বিভিন্ন খাল একের পর এক দখল হয়ে সংকুচিত হয়ে পড়ছে। কোথাও অবৈধ বেড়িবাঁধ, কোথাও মাটি ভরাট, আবার কোথাও খালের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার কারণে শত বছরের প্রাকৃতিক জলপথ আজ নালায় পরিণত হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় পরিবেশ। উপজেলার শিবুদাসপুর গ্রামের নিকটবর্তী একটি খাল বর্তমানে দখল ও ভরাটের ফলে তার স্বাভাবিক অস্তিত্ব হারিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এই খাল দিয়ে বর্ষার পানি দ্রুত নেমে যেত এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেত। এখন খালের দুই পাড় দখল করে বিভিন্ন স্থানে মাটি ফেলা হয়েছে। কোথাও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে, কোথাও খালের প্রবাহপথ এতটাই সংকুচিত হয়েছে যে সেটি কার্যত একটি সরু নালায় পরিণত হয়েছে। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে উপজেলার বারেঙ্গা খালে । এই খালটি ফটকি নদীতে গিয়ে মিলিত হয়। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই খাল অঞ্চলটির প্রধান পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করে আসছে। সেওজগাতী এলাকা থেকে নেমে আসা একটি ঐতিহাসিক খালও বারেঙ্গা খালে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবৈধ দখল, বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং মুখ বন্ধ করে দেওয়ার কারণে এসব খালের স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বর্ষাকালে পানি নামতে না পারায় বিস্তীর্ণ জমিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকে। এতে ধান, পাট ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে চাষাবাদ শুরু করা যায় না। মাছের প্রাকৃতিক আবাসও ধ্বংস হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বসতবাড়িও হুমকির মুখে পড়ছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, খাল কেবল পানি চলাচলের পথ নয়; এটি একটি জীবন্ত পরিবেশব্যবস্থা। খাল ভরাট ও দখল হলে এলাকার জীববৈচিত্র্য, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে; এই পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক জলপথ রক্ষা করা আরও জরুরি। বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সরকারি খাল, নদী ও জলাশয় দখল করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবু কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের অভাবে অনেক এলাকায় দখলদাররা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, শালিখা উপজেলার সব খাল জরিপ করে সীমানা নির্ধারণ করতে হবে, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে এবং খননের মাধ্যমে জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধার করতে হবে। একই সঙ্গে খালের মুখে নির্মিত অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। খাল বাঁচানো মানে কৃষি বাঁচানো, পরিবেশ বাঁচানো এবং মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা করা। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী জলপথগুলো যদি এখনই উদ্ধার করা না হয়, তবে আগামী দিনে শালিখা উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ আরও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকটে পড়বে।























