১২:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬

সাবেক মন্তৃী সর্গীয় সুনীল গুপ্ত

বরিশালের মাটি মানুষকে শুধু জন্ম দেয় না—তাদের মধ্যে কিছু মানুষকে ইতিহাস বানিয়ে দেয়। তেমনই এক নাম স্বর্গীয় সুনীল গুপ্ত। তাঁর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে, স্মৃতির অ্যালবাম খুললেই ভেসে ওঠে এক সাদামাটা কিন্তু দৃঢ়চেতা মানুষের প্রতিচ্ছবি।
এক সময়ের কথা। গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার মেঠোপথ, কাঁচা রাস্তা আর নদীর পাড় ঘেঁষে হাঁটতেন এক মানুষ—সাদা পাঞ্জাবি, কাঁধে গামছা, চোখে স্বপ্ন। তিনি সুনীল গুপ্ত। তাঁর পাশে ছায়ার মতো থাকতেন আরেক কিংবদন্তি, মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। ভাসানীর কাছ থেকেই শিখেছিলেন মানুষের জন্য রাজনীতি মানে কী—ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব।
গ্রামের এক বৃদ্ধ একদিন তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন,
“বাবা, এত কষ্ট করে মানুষের জন্য কাজ করো কেন?”
সুনীল গুপ্ত হেসে বলেছিলেন,
“এই মাটিই তো আমাকে মানুষ করেছে, এখন আমার পালা এর ঋণ শোধ করার।”
সময় গড়াল। দেশ স্বাধীন হলো, রাজনীতি পাল্টালো, কিন্তু তাঁর আদর্শ বদলায়নি। তিনি হয়ে উঠলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ক্ষমতার শীর্ষে উঠেও তিনি মাটির মানুষই রয়ে গেলেন। সংসদ সদস্য, মন্ত্রী—এসব পরিচয়ের আড়ালেও তিনি ছিলেন মানুষের ‘সুনীল দা’, যাঁর দরজা সবসময় খোলা থাকত সাধারণ মানুষের জন্য।
একদিন রাতে, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে এক অসহায় কৃষক তাঁর বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়ায়। ফসল নষ্ট, ঘরে খাবার নেই। খবর পেয়ে সুনীল গুপ্ত নিজে দরজা খুলে দেন। শুধু সাহায্যই করেননি, সেই কৃষকের কাঁধে হাত রেখে বলেছিলেন,
“ভয় পেও না, আমি আছি।”
সেই “আমি আছি”—এই তিনটি শব্দই ছিল তাঁর রাজনীতির সারকথা।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তিনি ভুলে যাননি গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার মানুষকে। তাঁর স্বপ্ন ছিল—একটি উন্নত, শিক্ষিত, বৈষম্যহীন সমাজ। হয়তো তিনি আজ নেই, কিন্তু তাঁর স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে এই জনপদের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে।
আজ তাঁর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে, আমরা শুধু একজন রাজনীতিবিদকে স্মরণ করি না—আমরা স্মরণ করি একজন মানবিক নেতাকে, একজন নির্ভরতার প্রতীককে।
সুনীল গুপ্ত হয়তো চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর সেই কথাগুলো আজও বাতাসে ভেসে বেড়ায়—
“মানুষের পাশে থাকো, তাহলেই মানুষ তোমার পাশে থাকবে।”
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ—স্বর্গীয় সুনীল গুপ্ত।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০৮:৫৯:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
১০ বার পড়া হয়েছে

সাবেক মন্তৃী সর্গীয় সুনীল গুপ্ত

আপডেট সময় ০৮:৫৯:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

বরিশালের মাটি মানুষকে শুধু জন্ম দেয় না—তাদের মধ্যে কিছু মানুষকে ইতিহাস বানিয়ে দেয়। তেমনই এক নাম স্বর্গীয় সুনীল গুপ্ত। তাঁর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে, স্মৃতির অ্যালবাম খুললেই ভেসে ওঠে এক সাদামাটা কিন্তু দৃঢ়চেতা মানুষের প্রতিচ্ছবি।
এক সময়ের কথা। গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার মেঠোপথ, কাঁচা রাস্তা আর নদীর পাড় ঘেঁষে হাঁটতেন এক মানুষ—সাদা পাঞ্জাবি, কাঁধে গামছা, চোখে স্বপ্ন। তিনি সুনীল গুপ্ত। তাঁর পাশে ছায়ার মতো থাকতেন আরেক কিংবদন্তি, মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। ভাসানীর কাছ থেকেই শিখেছিলেন মানুষের জন্য রাজনীতি মানে কী—ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব।
গ্রামের এক বৃদ্ধ একদিন তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন,
“বাবা, এত কষ্ট করে মানুষের জন্য কাজ করো কেন?”
সুনীল গুপ্ত হেসে বলেছিলেন,
“এই মাটিই তো আমাকে মানুষ করেছে, এখন আমার পালা এর ঋণ শোধ করার।”
সময় গড়াল। দেশ স্বাধীন হলো, রাজনীতি পাল্টালো, কিন্তু তাঁর আদর্শ বদলায়নি। তিনি হয়ে উঠলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ক্ষমতার শীর্ষে উঠেও তিনি মাটির মানুষই রয়ে গেলেন। সংসদ সদস্য, মন্ত্রী—এসব পরিচয়ের আড়ালেও তিনি ছিলেন মানুষের ‘সুনীল দা’, যাঁর দরজা সবসময় খোলা থাকত সাধারণ মানুষের জন্য।
একদিন রাতে, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে এক অসহায় কৃষক তাঁর বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়ায়। ফসল নষ্ট, ঘরে খাবার নেই। খবর পেয়ে সুনীল গুপ্ত নিজে দরজা খুলে দেন। শুধু সাহায্যই করেননি, সেই কৃষকের কাঁধে হাত রেখে বলেছিলেন,
“ভয় পেও না, আমি আছি।”
সেই “আমি আছি”—এই তিনটি শব্দই ছিল তাঁর রাজনীতির সারকথা।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তিনি ভুলে যাননি গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার মানুষকে। তাঁর স্বপ্ন ছিল—একটি উন্নত, শিক্ষিত, বৈষম্যহীন সমাজ। হয়তো তিনি আজ নেই, কিন্তু তাঁর স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে এই জনপদের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে।
আজ তাঁর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে, আমরা শুধু একজন রাজনীতিবিদকে স্মরণ করি না—আমরা স্মরণ করি একজন মানবিক নেতাকে, একজন নির্ভরতার প্রতীককে।
সুনীল গুপ্ত হয়তো চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর সেই কথাগুলো আজও বাতাসে ভেসে বেড়ায়—
“মানুষের পাশে থাকো, তাহলেই মানুষ তোমার পাশে থাকবে।”
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ—স্বর্গীয় সুনীল গুপ্ত।