০৩:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

খাল খনন কর্মসূচির নামে সারাদেশে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য কায়েম করেছে সরকারি দলঃ ব্যারিস্টার ফুয়াদ

❑ আরিফ আহমেদ মুন্না ✍️

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ অভিযোগ করে বলেছেন, ‘খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক লুটপাট চলছে। এলাকার প্রয়োজনীয় খালগুলো খনন না করে লুটপাটের স্বার্থে সরকারি অন্য দপ্তরের পূর্বে খনন করা খালেই আবার নতুন করে খাল খনন প্রকল্পের কাজ চলছে। অথচ যে খালগুলোর প্রকৃত খনন প্রয়োজন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যেগুলো খননের জন্য অর্থবরাদ্দ করা হয়েছিল সেগুলো বাতিল করা হচ্ছে। খাল খনন কর্মসূচির নামে সারাদেশে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য কায়েম করেছে সরকারি দল। গতকাল মঙ্গলবার বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা বাজারে এবি পার্টির কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ আড্ডা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ এসময় আরো বলেন, ‘আমাদের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন এক কিলোমিটার খাল খননে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হওয়ার কথা নয়। কিন্তু অনেক প্রকল্পে এক কিলোমিটার খাল খননের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। নেতাকর্মীদের লুটপাটের জন্যই খান খননে এমন অস্বাভাবিক অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে।’ সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সমালোচনা করে ফুয়াদ বলেন, ‘সরকার বিভিন্ন ধরনের কার্ড দিচ্ছে। সেই কার্ড বিতরণের খবর প্রচারের জন্য আবার ৪১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে সারাদেশে ৪৪ হাজার বিলবোর্ড স্থাপন করা হবে। সরকার মানুষের জন্য ৫ টাকা ব্যয় করে, আবার সেই ৫ টাকার খবর প্রচারের জন্য ৫ হাজার টাকা খরচ করে। এগুলোই হলো লুটপাট প্রকল্প। এই বিলবোর্ড নির্মাণের কাজও সরকারি দলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাই পাবে। এই ৪১২ কোটি টাকা থেকে সরকারি দলের অনেক লোক কোটিপতি হয়ে যাবে।’

মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফুয়াদ বলেন, ‘দেশে মাদকের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিটি মহল্লায় মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পরে গাঁজার গন্ধে অনেক রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। সরকারি দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। একইভাবে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু লোক মাদক ব্যবসায় সহযোগিতা করে। তাই নিজে এবং সন্তানকে বাঁচানোর স্বার্থেই স্থানীয় এলাকাবাসীকে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ করতে হবে।’

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মাধবপাশা ইউনিয়ন শাখার আহবায়ক আব্দুল আজিজ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখার সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জি এম রাব্বী, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক কর্নেল (অব.) আব্দুল খালেক, সদস্য সোহরাব হোসেন, মাধবপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান, এবি পার্টির ইউনিয়ন সদস্য সচিব জামাল আকন, কামরুল ইসলাম প্রমুখ। সভা শেষে বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও স্থানীয় এক দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় পাঠ্যবই উপহার দেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতাকালে এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জি.এম রাব্বী বলেন, ‘জনগণ যতদিন তাদের নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হবে ততদিন তাদের উপরে শোষণ-জুলুম চলতেই থাকবে। রাজনীতির নামে কিছু নীতিহীন অসৎ নেতারা জনগণকে জিম্মি করে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছে। একদল দীর্ঘদিন মানুষের অধিকার হরণ করে আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে অবশেষে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আরেক দল ক্ষমতায় এসে একই পথে হাঁটা শুরু করেছে। জনগণ সোচ্চার না হলে এই সিস্টেমের পরিবর্তন অসম্ভব। #

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০১:৪৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
৮ বার পড়া হয়েছে

খাল খনন কর্মসূচির নামে সারাদেশে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য কায়েম করেছে সরকারি দলঃ ব্যারিস্টার ফুয়াদ

আপডেট সময় ০১:৪৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ অভিযোগ করে বলেছেন, ‘খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক লুটপাট চলছে। এলাকার প্রয়োজনীয় খালগুলো খনন না করে লুটপাটের স্বার্থে সরকারি অন্য দপ্তরের পূর্বে খনন করা খালেই আবার নতুন করে খাল খনন প্রকল্পের কাজ চলছে। অথচ যে খালগুলোর প্রকৃত খনন প্রয়োজন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যেগুলো খননের জন্য অর্থবরাদ্দ করা হয়েছিল সেগুলো বাতিল করা হচ্ছে। খাল খনন কর্মসূচির নামে সারাদেশে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য কায়েম করেছে সরকারি দল। গতকাল মঙ্গলবার বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা বাজারে এবি পার্টির কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ আড্ডা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ এসময় আরো বলেন, ‘আমাদের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন এক কিলোমিটার খাল খননে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হওয়ার কথা নয়। কিন্তু অনেক প্রকল্পে এক কিলোমিটার খাল খননের জন্য ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। নেতাকর্মীদের লুটপাটের জন্যই খান খননে এমন অস্বাভাবিক অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে।’ সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সমালোচনা করে ফুয়াদ বলেন, ‘সরকার বিভিন্ন ধরনের কার্ড দিচ্ছে। সেই কার্ড বিতরণের খবর প্রচারের জন্য আবার ৪১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে সারাদেশে ৪৪ হাজার বিলবোর্ড স্থাপন করা হবে। সরকার মানুষের জন্য ৫ টাকা ব্যয় করে, আবার সেই ৫ টাকার খবর প্রচারের জন্য ৫ হাজার টাকা খরচ করে। এগুলোই হলো লুটপাট প্রকল্প। এই বিলবোর্ড নির্মাণের কাজও সরকারি দলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাই পাবে। এই ৪১২ কোটি টাকা থেকে সরকারি দলের অনেক লোক কোটিপতি হয়ে যাবে।’

মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফুয়াদ বলেন, ‘দেশে মাদকের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিটি মহল্লায় মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পরে গাঁজার গন্ধে অনেক রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। সরকারি দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। একইভাবে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু লোক মাদক ব্যবসায় সহযোগিতা করে। তাই নিজে এবং সন্তানকে বাঁচানোর স্বার্থেই স্থানীয় এলাকাবাসীকে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ করতে হবে।’

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মাধবপাশা ইউনিয়ন শাখার আহবায়ক আব্দুল আজিজ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখার সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জি এম রাব্বী, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক কর্নেল (অব.) আব্দুল খালেক, সদস্য সোহরাব হোসেন, মাধবপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান, এবি পার্টির ইউনিয়ন সদস্য সচিব জামাল আকন, কামরুল ইসলাম প্রমুখ। সভা শেষে বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও স্থানীয় এক দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় পাঠ্যবই উপহার দেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতাকালে এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জি.এম রাব্বী বলেন, ‘জনগণ যতদিন তাদের নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হবে ততদিন তাদের উপরে শোষণ-জুলুম চলতেই থাকবে। রাজনীতির নামে কিছু নীতিহীন অসৎ নেতারা জনগণকে জিম্মি করে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছে। একদল দীর্ঘদিন মানুষের অধিকার হরণ করে আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে অবশেষে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আরেক দল ক্ষমতায় এসে একই পথে হাঁটা শুরু করেছে। জনগণ সোচ্চার না হলে এই সিস্টেমের পরিবর্তন অসম্ভব। #