তারিক হাসান রাসেলের নেতৃত্বে গৌরনদীতে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ
বরিশালের গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তারিক হাসান রাসেল দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে মাদক, চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ওসি তারিক হাসান রাসেল অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকের আস্তানা চিহ্নিত করে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবনের প্রবণতা কমে এসেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও জনসমাগমস্থলে পুলিশি টহল জোরদার করায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সম্প্রতি উপজেলার শাওড়া গ্রামের এক নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে ফুসলিয়ে অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু করে। অভিযোগকারী স্কুলছাত্রীর বাবা মো. নুরুল আমিন সরদার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পুলিশের এই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এছাড়া সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও নিষ্পত্তি, থানায় সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে গৌরনদী মডেল থানা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফলে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা আগের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মত দিয়েছেন অনেকেই।
মাহিলাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও গণঅধিকার পরিষদ গৌরনদী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ নিশান হাওলাদার বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বর্তমান ওসির নেতৃত্বে পুলিশের কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়েছে। বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে অনেক এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি, অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।”
গৌরনদী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দীপক মন্ডল বলেন, কিছুদিন আগেও বিভিন্ন এলাকায় মাদক নিয়ে মানুষের উদ্বেগ ছিল। বর্তমানে পুলিশের নিয়মিত অভিযান ও নজরদারির কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে আমরা লক্ষ্য করছি। সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করছে। আমরা চাই, মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের এই কার্যক্রম আরও জোরদার হোক এবং ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকুক।
এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তারিক হাসান রাসেল বলেন, গৌরনদীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও যেকোনো ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনগণের সহযোগিতা নিয়ে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত গৌরনদী গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গৌরনদী মডেল থানা সর্বদা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ওসি তারিক হাসান রাসেলের নেতৃত্বে গৌরনদী মডেল থানার চলমান মাদকবিরোধী অভিযান, দ্রুত অপরাধ উদ্ঘাটন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। পুলিশ ও জনসাধারণের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত গৌরনদী গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।






















