০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬

গৌরনদীতে সৎ কর্মকর্তাদের টিকে থাকা কঠিন

না‌সির উদ্দিন সৈকত :

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জন্য কাজ করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইব্রাহিম এবং গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিক হাসান রাসেল স্বেচ্ছায় বদলির আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তাদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ রয়েছে—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গৌরনদীতে দীর্ঘদিন ধরে একটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে, যেখানে সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তারা নানা ধরনের চাপ ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। বিশেষ করে কিছু অসাধু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর কারণে সৎ কর্মকর্তাদের স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অনেকে মনে করছেন, সমাজের একটি অংশ মাদক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকায় খারাপ কাজগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক রূপ নিচ্ছে। ফলে যারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন, তারাই হয়ে উঠছেন অস্বস্তির কারণ।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা মুখে ভালো মানুষ দাবি করলেও বাস্তবে ভালো মানুষদের মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হচ্ছি। বরং সৎ কর্মকর্তাদের কাজের পথে বাধা সৃষ্টি করছি।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শুধু প্রশাসনের নয়, সাধারণ জনগণের মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন। অন্যথায় সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তারা এখানে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহ হারাবেন, যা এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, গৌরনদীতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ১১:২৫:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
৭৫ বার পড়া হয়েছে

গৌরনদীতে সৎ কর্মকর্তাদের টিকে থাকা কঠিন

আপডেট সময় ১১:২৫:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

না‌সির উদ্দিন সৈকত :

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জন্য কাজ করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইব্রাহিম এবং গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিক হাসান রাসেল স্বেচ্ছায় বদলির আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তাদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ রয়েছে—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গৌরনদীতে দীর্ঘদিন ধরে একটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে, যেখানে সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তারা নানা ধরনের চাপ ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। বিশেষ করে কিছু অসাধু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর কারণে সৎ কর্মকর্তাদের স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অনেকে মনে করছেন, সমাজের একটি অংশ মাদক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকায় খারাপ কাজগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক রূপ নিচ্ছে। ফলে যারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন, তারাই হয়ে উঠছেন অস্বস্তির কারণ।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা মুখে ভালো মানুষ দাবি করলেও বাস্তবে ভালো মানুষদের মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হচ্ছি। বরং সৎ কর্মকর্তাদের কাজের পথে বাধা সৃষ্টি করছি।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শুধু প্রশাসনের নয়, সাধারণ জনগণের মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন। অন্যথায় সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তারা এখানে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহ হারাবেন, যা এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, গৌরনদীতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।