বাবুগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির দুই নেতার সংবাদ সম্মেলন
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সরকারি আবুল কালাম কলেজে ভাঙারি মালামাল (স্ক্যাপ) বিক্রির ট্রাক আটকে ৪৫ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি ও বাস্তুহারা দলের দুই নেতা। নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা। বুধবার (২০ মে) বিকেলে উপজেলার রহমতপুরে কামিনী রেস্তোরাঁয় ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অভিযুক্ত দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন-আহবায়ক সরোয়ার হাওলাদার। এসময় অপর অভিযুক্ত একই ইউনিয়নের বাস্তুহারা দলের আহবায়ক সোহাগ হাওলাদার উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের বিএনপি নেতা সরোয়ার হাওলাদার স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, গত ১৪ মে রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে কলেজ সংলগ্ন এলাকায় একটি জটলা দেখে সরোয়ার হাওলাদার ও সোহাগ হাওলাদার ঘটনাস্থলে যান। সেখানে কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে একটি পিকআপভর্তি পুরাতন রড, ঢেউটিন, ভাঙা দরজা, জানালা ও গ্রিল দেখতে পান। পরে চালকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভাঙারি মালামালগুলো কেনা হয়েছে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিএনপি নেতারা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান। পরে কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ও প্রভাষক সেলিম হোসেন ঘটনাস্থলে এসে জানান, এগুলো পুরাতন ভবনের অপ্রয়োজনীয় ভাঙারি মালামাল, যা বিক্রি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সরোয়ার হাওলাদার অভিযোগ করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত টেন্ডার বা উন্মুক্ত নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বিধান থাকলেও রাতের আঁধারে গোপনে এসব মালামাল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল- সে বিষয়ে মূলত তারা প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে এ বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হতে শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তারা স্থানীয়দের শান্ত করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন। একপর্যায়ে মালামালবাহী গাড়িটি নিরাপদে চলে যেতে সহায়তা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো দাবি করেন, পরবর্তীতে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনেছে, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ আকারে প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি আবুল কালাম কলেজ তাঁর পৈত্রিক জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এবং তিনি এই কলেজের একজন দাতা সদস্য। তাই এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর আলাদা মায়া-মমতা আছে। অথচ একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ এনে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন বিএনপি নেতা সরোয়ার হাওলাদার। এসময় তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক চাঁদাবাজির অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আশা প্রকাশ করেন। #




































