যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু: গৌরনদীতে তথ্যমন্ত্রী ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান মার্কিন রাষ্ট্রদূতের
নাসির উদ্দিন সৈকত স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের অন্যতম। দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বরিশালের গৌরনদীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সম্প্রীতির বাংলাদেশ ধরে রাখার আহ্বান
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রয়েছে। এই ঐতিহ্য কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সংলাপের মাধ্যমে বিভেদ দূর করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় রাষ্ট্রের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক, ধর্মীয় নেতা ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।
‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হবে’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিক্ষা, উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা করে আসছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা হবে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমেই এ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
গৌরনদীতে উৎসবমুখর পরিবেশ
অনুষ্ঠানকে ঘিরে গৌরনদীতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সুধীজন এতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য। এই সম্প্রীতি অটুট রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
তারা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সহনশীলতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।























