০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রামদা ধার দিচ্ছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী, ভিডিও ভাইরাল

নাটোরের বড়াইগ্রামে একটি ঘরে একসঙ্গে কয়েকজন তরুণের রামদা ধার দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য এক প্রার্থী ও তাঁর অনুসারীদের দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গত সোমবার রাত থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ঘরে খাটের ওপর বিছানায় চার তরুণ বসে বড় বড় রামদা সিরিশ কাগজ দিয়ে ঘষে ধার দিচ্ছেন। কয়েকজন চেয়ারে বসে রামদা ধার দিচ্ছেন। একজন বড় একটা ছুরি ধার দিচ্ছিলেন। ধার দেওয়ার শব্দও শোনা যাচ্ছিল ভিডিওতে। বিছানার ওপর পড়ে আছে কয়েকটি হকিস্টিক। এ সময় একজন ওই ঘরে ঢুকে বলছেন, ‘এখানে ঘোষাঘোষি কিসের?’

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা যায়, ভিডিওতে যাঁদের দেখা যাচ্ছে তাঁদের মধ্যে আছেন সাব্বাব হক (সাবু)। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি সোমবার বড়াইগ্রাম থানায় দায়ের হওয়া একটি মাদক মামলার আসামি। সাব্বাব বড়াইগ্রামের ৩ নম্বর জুনাইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। যদিও তাঁর দলীয় কোনো পদ–পদবি নেই। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে এলাকাবাসীকে তাঁর শুভেচ্ছা জানানোর পোস্টারও রয়েছে।

ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সাব্বাব দলের সমর্থন চান বলে জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল কাদের মিয়া। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘ভিডিওটি আমিও দেখেছি। সাব্বাব হক চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশা করছে সত্য। তবে বিএনপিতে তার কোনো পদ–পদবি নেই।’

ভিডিওতে আরও যাঁদের দেখা গেছে তাঁরা সাব্বাবের অনুসারী বলে জানান স্থানীয় লোকজন। তাঁদের মধ্যে আছেন বড়াইগ্রামের কুমারখালী গ্রামের মাহফুজ আলম, চৌমুহন গ্রামের রাহিম হোসেন, সোহান হোসেন এবং পাবনার চাটমোহর উপজেলার সন্ধবা গ্রামের কিরণ হোসেন।

এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ভিডিওটি নজরেও এসেছে। ভিডিওতে থাকা সাব্বাবের বিরুদ্ধে একটি মাদকের মামলা রয়েছে। এ ছাড়া অন্যদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। দ্রুত এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০৪:০০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩ বার পড়া হয়েছে

রামদা ধার দিচ্ছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী, ভিডিও ভাইরাল

আপডেট সময় ০৪:০০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাটোরের বড়াইগ্রামে একটি ঘরে একসঙ্গে কয়েকজন তরুণের রামদা ধার দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য এক প্রার্থী ও তাঁর অনুসারীদের দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গত সোমবার রাত থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ঘরে খাটের ওপর বিছানায় চার তরুণ বসে বড় বড় রামদা সিরিশ কাগজ দিয়ে ঘষে ধার দিচ্ছেন। কয়েকজন চেয়ারে বসে রামদা ধার দিচ্ছেন। একজন বড় একটা ছুরি ধার দিচ্ছিলেন। ধার দেওয়ার শব্দও শোনা যাচ্ছিল ভিডিওতে। বিছানার ওপর পড়ে আছে কয়েকটি হকিস্টিক। এ সময় একজন ওই ঘরে ঢুকে বলছেন, ‘এখানে ঘোষাঘোষি কিসের?’

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা যায়, ভিডিওতে যাঁদের দেখা যাচ্ছে তাঁদের মধ্যে আছেন সাব্বাব হক (সাবু)। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি সোমবার বড়াইগ্রাম থানায় দায়ের হওয়া একটি মাদক মামলার আসামি। সাব্বাব বড়াইগ্রামের ৩ নম্বর জুনাইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। যদিও তাঁর দলীয় কোনো পদ–পদবি নেই। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে এলাকাবাসীকে তাঁর শুভেচ্ছা জানানোর পোস্টারও রয়েছে।

ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সাব্বাব দলের সমর্থন চান বলে জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল কাদের মিয়া। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘ভিডিওটি আমিও দেখেছি। সাব্বাব হক চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশা করছে সত্য। তবে বিএনপিতে তার কোনো পদ–পদবি নেই।’

ভিডিওতে আরও যাঁদের দেখা গেছে তাঁরা সাব্বাবের অনুসারী বলে জানান স্থানীয় লোকজন। তাঁদের মধ্যে আছেন বড়াইগ্রামের কুমারখালী গ্রামের মাহফুজ আলম, চৌমুহন গ্রামের রাহিম হোসেন, সোহান হোসেন এবং পাবনার চাটমোহর উপজেলার সন্ধবা গ্রামের কিরণ হোসেন।

এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ভিডিওটি নজরেও এসেছে। ভিডিওতে থাকা সাব্বাবের বিরুদ্ধে একটি মাদকের মামলা রয়েছে। এ ছাড়া অন্যদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। দ্রুত এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।