০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডনের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি

তিন দশক ধরে ঝুলে থাকা চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুরহস্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন খল অভিনেতা আশরাফুল হক ডন। পাঁচদিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সিআইডির দাবি, সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডে ডনের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। রিমান্ডে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে যে-কোনো সময় আবারো তাকে রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে।

সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে অনেক কিছু জানার কথা থাকলেও জিজ্ঞাসাবাদে ডন গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য এড়িয়ে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার আগে-পরে এবং মৃত্যুর সময় তার আচরণ ও গতিবিধি বিশ্লেষণ করে মামলার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে কাজ করছে সিআইডি।

বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে ডনকে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। রিমান্ড শেষে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে। ডনের পক্ষে এদিন কোনো আবেদন ছিল না বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচদিনের রিমান্ডে ছিলেন ডন। ৩০ বছর আগে একই দিনে অর্থাৎ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান তৎকালীন জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। একই দিনে ডনকে রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনা কী কাকতালীয় না কি তদন্ত সংস্থার কোনো সুপরিকল্পিত স্ট্রোক, তা জানতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র আমার দেশ’কে জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে ডন প্রশ্নের উত্তরের বদলে নিজের জীবনযাপন নিয়ে কথা বলে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি খুব সাধারণ জীবনযাপন করেন, কখনো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হননি ইত্যাদি জিজ্ঞাসাবাদের বাইরে কথা বলে প্রসঙ্গ পাল্টানোর চেষ্টা করেছেন। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন বারবার।

সূত্র জানায়, ডনের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে যোগসূত্র পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনে এজাহারের বাইরেও যে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এক্ষেত্রে তাকে অন্যদের মুখোমুখিও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে।

আদালতে দেওয়া সিআইডির আবেদনে বলা হয়েছে, সালমান শাহর সঙ্গে ডনের ঘনিষ্ঠতা ছিল দীর্ঘদিনের। ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা একাধিক চলচ্চিত্রে একসঙ্গে কাজ করেন। ফলে সালমানের ব্যক্তিগত জীবন, চলাফেরা ও ঘনিষ্ঠজনদের সম্পর্কে ডনের জানাশোনা থাকার কথা। মামলার এজাহারে থাকা পলাতক আসামিদের সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তাদের চেনেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু মামলার মূল ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তার বক্তব্যে বেশকিছু অসংগতি ও এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০৩:৫৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ বার পড়া হয়েছে

ডনের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি

আপডেট সময় ০৩:৫৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তিন দশক ধরে ঝুলে থাকা চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুরহস্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন খল অভিনেতা আশরাফুল হক ডন। পাঁচদিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সিআইডির দাবি, সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডে ডনের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। রিমান্ডে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে যে-কোনো সময় আবারো তাকে রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে।

সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে অনেক কিছু জানার কথা থাকলেও জিজ্ঞাসাবাদে ডন গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য এড়িয়ে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার আগে-পরে এবং মৃত্যুর সময় তার আচরণ ও গতিবিধি বিশ্লেষণ করে মামলার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে কাজ করছে সিআইডি।

বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে ডনকে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। রিমান্ড শেষে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে। ডনের পক্ষে এদিন কোনো আবেদন ছিল না বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচদিনের রিমান্ডে ছিলেন ডন। ৩০ বছর আগে একই দিনে অর্থাৎ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান তৎকালীন জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। একই দিনে ডনকে রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনা কী কাকতালীয় না কি তদন্ত সংস্থার কোনো সুপরিকল্পিত স্ট্রোক, তা জানতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র আমার দেশ’কে জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে ডন প্রশ্নের উত্তরের বদলে নিজের জীবনযাপন নিয়ে কথা বলে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি খুব সাধারণ জীবনযাপন করেন, কখনো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হননি ইত্যাদি জিজ্ঞাসাবাদের বাইরে কথা বলে প্রসঙ্গ পাল্টানোর চেষ্টা করেছেন। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন বারবার।

সূত্র জানায়, ডনের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে যোগসূত্র পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনে এজাহারের বাইরেও যে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এক্ষেত্রে তাকে অন্যদের মুখোমুখিও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে।

আদালতে দেওয়া সিআইডির আবেদনে বলা হয়েছে, সালমান শাহর সঙ্গে ডনের ঘনিষ্ঠতা ছিল দীর্ঘদিনের। ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা একাধিক চলচ্চিত্রে একসঙ্গে কাজ করেন। ফলে সালমানের ব্যক্তিগত জীবন, চলাফেরা ও ঘনিষ্ঠজনদের সম্পর্কে ডনের জানাশোনা থাকার কথা। মামলার এজাহারে থাকা পলাতক আসামিদের সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তাদের চেনেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু মামলার মূল ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তার বক্তব্যে বেশকিছু অসংগতি ও এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।