০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের প্রভাবশালী নেতা কারাগারে

❑ আরিফ আহমেদ মুন্না ✍️

বরিশালে ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২ প্রভাবশালী নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক উভয়কে কারাগারে প্রেরণ করেন। তারা হলেন, বরিশাল জেলা শ্রমিকলীগ সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর আজাদ হোসেন কালাম মোল্লা (৫০) এবং বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের রামপট্টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ ওরফে হারুন প্রধান (৫২)।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাবুগঞ্জ উপজেলার রামপট্টি এলাকা থেকে হারুন প্রধানকে গ্রেপ্তার করে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। হারুন প্রধানের নামে সুনির্দিষ্ট মামলা না থাকলেও গত ১৬ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতা হারুন প্রধান ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরেও এলাকা ছেড়ে যাননি। স্থানীয় বংশীয় প্রভাব এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সখ্যতার কারণে সরকার পরিবর্তনের পরেও তিনি রামপট্টি এলাকায় বিভিন্ন বিচার সালিশ করতেন বলে জানায় স্থানীয়রা।

এদিকে সোমবার রাতে বরিশালের ছয়মাইল এলাকার পৈত্রিক বাড়িতে অসুস্থ মায়ের সাথে দেখা করতে এসে ডিবি পুলিশের হাতে আটক হন বরিশাল জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আজাদ হোসেন কালাম মোল্লা। পরে তাকে এয়ারপোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। তিনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরে কালাম মোল্লার বিরুদ্ধে বরিশালে দায়ের হওয়া ২ মামলাসহ বিভিন্ন থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মোট ৬ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মঙ্গলবার আদালতে হাজির করার সময় কালাম মোল্লার সাথে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার কারণে আদালত চত্ত্বরে পুলিশের সামনেই তাঁর এক কর্মীকে মারপিট করে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের কয়েকজন সহকারী। ৫ আগস্টের পরে প্রভাবশালী শ্রমিক নেতা কালাম মোল্লার নেতৃত্বেই বরিশালের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সংগঠিত হয়ে মিছিল-সমাবেশ ও শোডাউন করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিএমপির এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমানের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কালাম মোল্লা একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। হারুন প্রধানের বিরুদ্ধেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের গোপন কার্যক্রম পরিচালনা এবং নেতৃত্ব প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অযথা কাউকে গ্রেপ্তার কিংবা হয়রানি করা হচ্ছে না।’ #

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ১১:৩৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৮৪ বার পড়া হয়েছে

বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের প্রভাবশালী নেতা কারাগারে

আপডেট সময় ১১:৩৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরিশালে ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২ প্রভাবশালী নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক উভয়কে কারাগারে প্রেরণ করেন। তারা হলেন, বরিশাল জেলা শ্রমিকলীগ সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর আজাদ হোসেন কালাম মোল্লা (৫০) এবং বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের রামপট্টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ ওরফে হারুন প্রধান (৫২)।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাবুগঞ্জ উপজেলার রামপট্টি এলাকা থেকে হারুন প্রধানকে গ্রেপ্তার করে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। হারুন প্রধানের নামে সুনির্দিষ্ট মামলা না থাকলেও গত ১৬ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতা হারুন প্রধান ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরেও এলাকা ছেড়ে যাননি। স্থানীয় বংশীয় প্রভাব এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সখ্যতার কারণে সরকার পরিবর্তনের পরেও তিনি রামপট্টি এলাকায় বিভিন্ন বিচার সালিশ করতেন বলে জানায় স্থানীয়রা।

এদিকে সোমবার রাতে বরিশালের ছয়মাইল এলাকার পৈত্রিক বাড়িতে অসুস্থ মায়ের সাথে দেখা করতে এসে ডিবি পুলিশের হাতে আটক হন বরিশাল জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আজাদ হোসেন কালাম মোল্লা। পরে তাকে এয়ারপোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। তিনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরে কালাম মোল্লার বিরুদ্ধে বরিশালে দায়ের হওয়া ২ মামলাসহ বিভিন্ন থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মোট ৬ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মঙ্গলবার আদালতে হাজির করার সময় কালাম মোল্লার সাথে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার কারণে আদালত চত্ত্বরে পুলিশের সামনেই তাঁর এক কর্মীকে মারপিট করে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের কয়েকজন সহকারী। ৫ আগস্টের পরে প্রভাবশালী শ্রমিক নেতা কালাম মোল্লার নেতৃত্বেই বরিশালের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সংগঠিত হয়ে মিছিল-সমাবেশ ও শোডাউন করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিএমপির এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমানের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কালাম মোল্লা একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। হারুন প্রধানের বিরুদ্ধেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের গোপন কার্যক্রম পরিচালনা এবং নেতৃত্ব প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অযথা কাউকে গ্রেপ্তার কিংবা হয়রানি করা হচ্ছে না।’ #