নেছারাবাদের সুটিয়াকাঠিতে বিএনপি কর্মীকে হাতুরির আঘাতে রক্তাক্ত ও আঙ্গুল কামড়ে ছিড়ে ফেলার অভিযোগ আওয়ামী নেতার বিরুদ্ধে
সোহেল রায়হান, জেলা প্রতিনিধি (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের (১ নং ওয়ার্ড) বালিহাড়িতে স্থানীয় মৃত মোঃ নুরুল হকের ছেলে আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ শাহ আলম (৪৫) ও তার স্ত্রী মোসাঃ শ্যামলী বেগম (৪০) জমি সংক্রান্ত জেরে বাড়ির ভেতরে যাওয়ার রাস্তা তৈরিতে বাঁধা দিতে গিয়ে একই গ্রাম/ বাড়ির স্থানীয় মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে বিএনপি কর্মী মোঃ হেমায়েত উদ্দিনকে (৮০) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটানো এবং ডান হাতের মধ্যমা আঙ্গুল কামড় দিয়ে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ পাওয়া যায়।
গত ১৯ আগষ্ট (বুধবার) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের বালিহাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন কাশ্মির এলাকার ১০/১২ টি পরিবারের বাড়ির ভেতরে প্রবেশের রাস্তা তৈরির সময় প্রতিবেশি আওয়ামী নেতা শাহ আলম তার জায়গা দিয়ে রাস্তা করা যাবেনা বলে বাঁধা প্রদানকালে দুপক্ষের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আওয়ামী নেতা শাহ আলম তার স্ত্রী ও সন্তানকে সাথে নিয়ে বিএনপি কর্মী হেমায়েত উদ্দিনের পরিবার ও তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার সময় শাহ আলম হেমায়েত উদ্দিনকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে হেমায়েত উদ্দিনের মাথা ফেঁটে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হয়। পরক্ষণে শাহ আলমের স্ত্রী শ্যামলী বেগম হেমায়েত উদ্দিনের ডান হাতের মধ্যমা আঙ্গুলে কামড় দিয়ে আঙ্গুলের মাথা ছিড়ে ফেলে। এতে হাতের আঙ্গুল থেকেও প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হয়। পরবর্তীতে হেমায়েত উদ্দিনের পরিবার তার অবস্থা বেগতিক দেখে চিকিৎসার জন্য নেছারাবাদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। মেডিকেল রিপোর্ট দেখে যানা যায়, হেমায়েত উদ্দিনের মাথায় দুইটা সেলাই লেগেছে এবং হাতের আঘাতও গুরুতর। পরবর্তীতে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করে।
ঘটনার দিন ১৯ আগষ্ট (বুধবার) হেমায়েত উদ্দিনের বড় ছেলে মোঃ সেলিম নেছারাবাদ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে গত ২৫ আগষ্ট (মঙ্গলবার) নেছারাবাদ থানায় উপস্থিত হয়ে হেমায়েত উদ্দিনের ছোট ছেলে মোঃ ইমরান বাদী হয়ে শাহ আলম ও তার স্ত্রী শ্যামলী বেগমের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করেন। কিন্তু আজ-অব্দি আসামীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী হেমায়েত উদ্দিনের বড় ছেলে মোঃ সেলিম মিয়া বলেন, আব্বার শারিরীক অবস্থা খারাপ দেখে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে দৌড়োদৌড়ির কারনে থানায় মামলা করতে একটু দেরি হয়েছে। তবে অভিযোগ ও মামলার সময় প্রায় এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত আসামীদের কেনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। আমরা অতি দ্রুত দোষীকে গ্রেফতার করে আইনি প্রকৃয়ায় কঠিন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টির বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ ও এজহার দায়ের হয়েছে। আইনি প্রকৃয়ায় তদন্ত করে আসামীদের গ্রেফতারের প্রকৃয়া চলমান। খুব দ্রুতই আসামীদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করা হবে।































