০২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

ছাত্রলীগের দোসর থেকে রাতারাতি ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও ‘সাংবাদিক’: গৌরনদীতে বহুরূপী সোলায়মানের চরম ধৃষ্টতা!

আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের দুঃশাসনের দোসররা এখন ভোল পাল্টে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘শহীদদের’ মঞ্চে! ৫ আগস্টের আগে যারা স্বৈরাচারের স্তাবকতা করেছে, তারাই এখন নির্লজ্জভাবে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করছে। এমনই এক চরম ধৃষ্টতা ও প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে গৌরনদীতে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদদের স্মরণসভায় গণঅধিকার পরিষদের নেতা ও কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে মঞ্চে উঠেছিলেন বহুরূপী সোলায়মান তুহিন। তবে প্রকৃত যোদ্ধাদের তোপের মুখে লেজ গুটিয়ে মঞ্চ ছাড়তে বাধ্য হন এই সুবিধাবাদী।

আওয়ামী লীগের দালাল থেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হওয়ার নির্লজ্জ নাটক অনুষ্ঠানে নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে সোলায়মান বক্তব্য দিতে গেলে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপস্থিত ছাত্রদল, যুবদল এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত যোদ্ধারা।

পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাচ্চুসহ স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সোলায়মান তুহিন মূলত একজন সুবিধাবাদী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিজয়ের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সে সরাসরি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল। তৎকালীন মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারিছুর রহমান হারিস এবং এমপি  হাসনাত আব্দুল্লাহর মতো নেতাদের ছায়াসঙ্গী ছিল সে। এছাড়াও ছাত্রলীগের সভাপতি সন্তু ভুঁইয়ার চামচা ছিলো। জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে তার বিন্দুমাত্র কোনো ভূমিকা ছিল না। অথচ আজ সে নির্লজ্জের মতো শহীদদের মঞ্চে ভাগ বসাতে এসেছে!

বাচ্চু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে আমরা ১৭ বছর আন্দোলন করলাম, সেই আওয়ামী লীগের কোনো লোক যদি আজ জুলাই মঞ্চে ওঠে, তবে আমাদের রক্তক্ষরণ হয়। আমরা ছবিসহ অকাট্য প্রমাণ ইউএনও মহোদয়ের কাছে উপস্থাপন করেছি।” পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং প্রকৃত যোদ্ধাদের তোপের মুখে বাধ্য হয়ে ইউএনও এই অনুপ্রবেশকারীকে মঞ্চ থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে (নামিয়ে দিতে) বাধ্য হন।

সাংবাদিকতার নামে ভণ্ডামি ও পদ দখলের নোংরা খেলা ৫ আগস্টের পর রাতারাতি ভোল পাল্টে ফেলেন সোলায়মান। সাংবাদিক জহিরের লেজুড়বৃত্তি করে একটি নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টালের কার্ড ঝুলিয়ে নিজেকে ‘সাংবাদিক সোলায়মান তুহিন’ হিসেবে জাহির করতে শুরু করেন।

তার ধৃষ্টতা এখানেই থেমে নেই। গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস মিয়ার আত্মীয় হওয়ার সুবাদে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সে বাগিয়ে নেয় গৌরনদী উপজেলা সভাপতির পদ। নিয়োগের সময়ই দলের ভেতর চরম আপত্তি উঠেছিল। তখন ইলিয়াস মিয়া হাস্যকর যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন— “এলাকায় গণঅধিকার পরিষদের রাজনীতি করার মতো লোকের সংকট থাকায় সোলায়মানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে!” একটি রাজনৈতিক দলের সভাপতি পদ দখল করায় ইতিমধ্যেই প্রেসক্লাব থেকে এই ভণ্ড সাংবাদিকের সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।

নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি ও আসল সাংবাদিকের ক্ষোভ সোলায়মানের প্রতারণার জাল আরও বিস্তৃত। গৌরনদীর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক টিএম তুহিন অভিযোগ করেছেন, এই সুবিধাবাদী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার নাম ভাঙিয়ে চলছেন। ১৯৯৯ সালে প্রয়াত ফকীর আবদুর রাজ্জাকের হাত ধরে সাংবাদিকতা শুরু করা টিএম তুহিন জানান, তার নামের সাথে মিল থাকার সুযোগ নিয়ে এই প্রতারক বিভিন্ন মানুষকে ফোন দিয়ে হয়রানি করছে। এর ফলে প্রবীণ এই সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

মুখে কুলুপ এঁটেছেন অভিযুক্তরা প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করে মঞ্চে ওঠার এই স্পর্ধা এবং একের পর এক জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কথিত জুলাই যোদ্ধা সোলায়মান তুহিন কাপুরুষের মতো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে, স্বজনপ্রীতি করে তাকে পদে বসানো গণঅধিকার পরিষদের নেতা ইলিয়াস মিয়াও কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি শুধু বলেছেন, “সেদিনের ওখানকার বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।”

আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি- জুলাইয়ের রক্তস্নাত মাটিতে স্বৈরাচারের কোনো দোসর বা ভোল পাল্টানো সুবিধাবাদীর ঠাঁই হবে না। এদের শিকড় উপড়ে ফেলাই এখন প্রকৃত যোদ্ধাদের প্রধান লক্ষ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ১১:০০:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
১৭ বার পড়া হয়েছে

ছাত্রলীগের দোসর থেকে রাতারাতি ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও ‘সাংবাদিক’: গৌরনদীতে বহুরূপী সোলায়মানের চরম ধৃষ্টতা!

আপডেট সময় ১১:০০:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬

আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের দুঃশাসনের দোসররা এখন ভোল পাল্টে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘শহীদদের’ মঞ্চে! ৫ আগস্টের আগে যারা স্বৈরাচারের স্তাবকতা করেছে, তারাই এখন নির্লজ্জভাবে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করছে। এমনই এক চরম ধৃষ্টতা ও প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে গৌরনদীতে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদদের স্মরণসভায় গণঅধিকার পরিষদের নেতা ও কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে মঞ্চে উঠেছিলেন বহুরূপী সোলায়মান তুহিন। তবে প্রকৃত যোদ্ধাদের তোপের মুখে লেজ গুটিয়ে মঞ্চ ছাড়তে বাধ্য হন এই সুবিধাবাদী।

আওয়ামী লীগের দালাল থেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হওয়ার নির্লজ্জ নাটক অনুষ্ঠানে নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে সোলায়মান বক্তব্য দিতে গেলে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপস্থিত ছাত্রদল, যুবদল এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত যোদ্ধারা।

পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাচ্চুসহ স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সোলায়মান তুহিন মূলত একজন সুবিধাবাদী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিজয়ের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সে সরাসরি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল। তৎকালীন মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারিছুর রহমান হারিস এবং এমপি  হাসনাত আব্দুল্লাহর মতো নেতাদের ছায়াসঙ্গী ছিল সে। এছাড়াও ছাত্রলীগের সভাপতি সন্তু ভুঁইয়ার চামচা ছিলো। জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে তার বিন্দুমাত্র কোনো ভূমিকা ছিল না। অথচ আজ সে নির্লজ্জের মতো শহীদদের মঞ্চে ভাগ বসাতে এসেছে!

বাচ্চু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে আমরা ১৭ বছর আন্দোলন করলাম, সেই আওয়ামী লীগের কোনো লোক যদি আজ জুলাই মঞ্চে ওঠে, তবে আমাদের রক্তক্ষরণ হয়। আমরা ছবিসহ অকাট্য প্রমাণ ইউএনও মহোদয়ের কাছে উপস্থাপন করেছি।” পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং প্রকৃত যোদ্ধাদের তোপের মুখে বাধ্য হয়ে ইউএনও এই অনুপ্রবেশকারীকে মঞ্চ থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে (নামিয়ে দিতে) বাধ্য হন।

সাংবাদিকতার নামে ভণ্ডামি ও পদ দখলের নোংরা খেলা ৫ আগস্টের পর রাতারাতি ভোল পাল্টে ফেলেন সোলায়মান। সাংবাদিক জহিরের লেজুড়বৃত্তি করে একটি নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টালের কার্ড ঝুলিয়ে নিজেকে ‘সাংবাদিক সোলায়মান তুহিন’ হিসেবে জাহির করতে শুরু করেন।

তার ধৃষ্টতা এখানেই থেমে নেই। গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস মিয়ার আত্মীয় হওয়ার সুবাদে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সে বাগিয়ে নেয় গৌরনদী উপজেলা সভাপতির পদ। নিয়োগের সময়ই দলের ভেতর চরম আপত্তি উঠেছিল। তখন ইলিয়াস মিয়া হাস্যকর যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন— “এলাকায় গণঅধিকার পরিষদের রাজনীতি করার মতো লোকের সংকট থাকায় সোলায়মানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে!” একটি রাজনৈতিক দলের সভাপতি পদ দখল করায় ইতিমধ্যেই প্রেসক্লাব থেকে এই ভণ্ড সাংবাদিকের সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।

নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি ও আসল সাংবাদিকের ক্ষোভ সোলায়মানের প্রতারণার জাল আরও বিস্তৃত। গৌরনদীর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক টিএম তুহিন অভিযোগ করেছেন, এই সুবিধাবাদী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার নাম ভাঙিয়ে চলছেন। ১৯৯৯ সালে প্রয়াত ফকীর আবদুর রাজ্জাকের হাত ধরে সাংবাদিকতা শুরু করা টিএম তুহিন জানান, তার নামের সাথে মিল থাকার সুযোগ নিয়ে এই প্রতারক বিভিন্ন মানুষকে ফোন দিয়ে হয়রানি করছে। এর ফলে প্রবীণ এই সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

মুখে কুলুপ এঁটেছেন অভিযুক্তরা প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করে মঞ্চে ওঠার এই স্পর্ধা এবং একের পর এক জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কথিত জুলাই যোদ্ধা সোলায়মান তুহিন কাপুরুষের মতো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে, স্বজনপ্রীতি করে তাকে পদে বসানো গণঅধিকার পরিষদের নেতা ইলিয়াস মিয়াও কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি শুধু বলেছেন, “সেদিনের ওখানকার বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।”

আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি- জুলাইয়ের রক্তস্নাত মাটিতে স্বৈরাচারের কোনো দোসর বা ভোল পাল্টানো সুবিধাবাদীর ঠাঁই হবে না। এদের শিকড় উপড়ে ফেলাই এখন প্রকৃত যোদ্ধাদের প্রধান লক্ষ্য।