সিলেটে শিকল বেঁধে তরুণীকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সোমবার রাত ১১টার দিকে শাহজালাল উপশহরের বি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার সড়কে ওই তরুণীকে শিকল দিয়ে বেঁধে হাঁটানো হয়। তার আগে সন্ধ্যা সাতটার দিকে মসজিদ মার্কেট এলাকার একটি দোকানে চুরির চেষ্টার অভিযোগে তাঁকে আটক করেন ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় কয়েকজন।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ওই তরুণী একটি দোকানের ক্যাশবাক্সে হাত দিয়েছিলেন, কিন্তু টাকা নিতে পারেননি। খবর পেয়ে পুলিশ গেলে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলেন। পরে পুলিশ চলে আসে। পরে রাত ১১টার দিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আবার ফোন দিলে পুলিশ গিয়ে ওই তরুণীকে থানায় নিয়ে আসেন। তবে চুরির অভিযোগে কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি।
এদিকে শাহজালাল উপশহরের একটি দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে চুরির চেষ্টার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রথম আলোর হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বোরকা পরা তিনজন ওই দোকানে আসেন। তখন দোকানে একটি শিশু ছেলে ছিল। ছেলেটি তাঁদের বিভিন্ন পণ্য দেখাচ্ছিল। একপর্যায়ে দুজন শিশুটির সঙ্গে দোকানের সামনের অংশে গেলে অন্য নারী দোকানের ভেতরে মাথা নুইয়ে ক্যাশবাক্স টান দেন। কিন্তু তিনি ক্যাশবাক্স থেকে কোনো টাকা নিয়েছেন কি না, সেটা স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি।
আজ বুধবার দুপুরে উপশহর এলাকার ওই দোকানে গিয়ে একজনকে পাওয়া যায়। তিনি দোকানের মালিক মো. জাকির হোসেনের চাচাতো ভাই। তবে নাম বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, পাশে তাঁদের আরও একটি দোকান আছে। সেখান থেকে এই দোকান সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি করা হয়। যেদিন ঘটনা ঘটে, সেদিন তিনি দোকানে ছিলেন না।
পাশের দোকানের কর্মচারী তানভির আহমদ বলেন, চুরির চেষ্টা করেছিল। বিষয়টি সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখে দোকানের মালিক দৌড়ে গিয়ে একজনকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসেছিল। প্রথমে তাঁকে পুলিশে দেওয়া হয়নি, পরে রাতে দেওয়া হয়। শিকল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তি কে, তা জানতে চাইলে বলেন, ওই ব্যক্তির নাম জানেন না, তবে আগে দেখেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাশের একটি দোকানের ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঠিক আছে চুরির চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাঁকে পুলিশে না দিয়ে এভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে হাঁটিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ভালো হয়নি।’
বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে আটকের পর পুলিশ বাদী হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ওই তরুণীকে আটকে রেখে নির্যাতন, শ্লীলতাহানি ও নির্যাতনের ঘটনা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। আজ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তরুণীর ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি বলেন, আদালতে পাঠানোর পর মুচলেকা দিয়ে ওই তরুণী ছাড়া পেয়ে তিনি বাড়িতে চলে গেছেন। তাঁর বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায়।


