১০:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

পুড়ে কালো হয়ে গেছে সবুজঃ মানবতার যুদ্ধে লড়ছে কিছু তরুণপ্রাণ

❑ আরিফ আহমেদ মুন্না ✍️

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের মানসিক প্রতিবন্ধী সবুজ ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। যেখানে সুস্থ-সবল মানুষের পক্ষেও ওঠা অসম্ভব সেখানে মানসিক প্রতিবন্ধী সবুজ কীভাবে উঠলেন, তা নিয়ে রহস্যের জট খোলেনি। স্থানীয়দের দাবি জ্বিনের আছর। তবে নেপথ্য ঘটনা যা-ই থাকুক, মারাত্মক তড়িতাহত হয়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে আছেন সবুজ। কিন্তু তার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে উচ্চমাত্রার বিদ্যুতে। সবুজ বর্তমানে ঢাকার জাতীয় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দেহেরগতি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে বাহেরচর বাঁশতলা গ্রামে বাড়ি সবুজ হাওলাদারের (৩০)। মা ছাড়া এই পৃথিবীতে কেউ নেই তার। অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের জন্ম নেওয়া তাহের আলী হাওলাদারের ছেলে সবুজ হাওলাদার ছোটবেলা থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন। তার চিকিৎসা বা খোঁজখবর নেওয়ার মতো তেমন কোনো আত্মীয়-স্বজনও নেই। মা-ই সবুজকে দেখাশোনা করতেন।

গত ১৯ আগস্ট সবার অলক্ষ্যে সবুজ তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী ৩৩ কিলোভোল্টের বিদ্যুতের মেইন গ্রিড লাইনের খুঁটিতে উঠে পড়েন। এসময় মারাত্মক তড়িতাহত হয়ে তিনি ছিটকে পড়ে নিচের নিউট্রাল লাইনে পেঁচিয়ে ঝুলে থাকেন। পরে স্থানীয়রা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে যায়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে তাৎক্ষণিক নিয়ে যেতে বলে শেবাচিম কর্তৃপক্ষ।

যে অসহায় মা বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল ঠিকমতো চেনেন না তিনি কীভাবে ঢাকার বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে নিয়ে যাবেন ছেলেকে? টাকা পাবেন কোথায়? এমন পরিস্থিতিতে সবুজের পাশে দাঁড়ান স্থানীয় যুবক আসাদুজ্জামান নূর ও রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে স্থানীয় কতিপয় স্বেচ্ছাসেবী যুবক। তারাই নিজেরা চাঁদা তুলে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাকে নিয়ে যান ঢাকায়। ভর্তি করেন জাতীয় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতাল। সেখানেই বাবুগঞ্জের কতিপয় মানবিক যুবকের প্রচেষ্টায় চলছে মানসিক ভারসাম্যহীন সবুজের ব্যয়বহুল চিকিৎসা।

জাতীয় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালের সার্জন ডাঃ আহসানুল কবির জানিয়েছেন, সবুজের শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে। তিনি এখনো পুরোপুরি আশংকামুক্ত নন। আগামী কয়েকদিন পরে বলা যাবে তিনি কবে এবং কতটা সুস্থ হতে পারেন।’

বাবুগঞ্জের দেহেরগতি ইউনিয়নের উদ্ধারকারী স্থানীয় যুবক আসাদুজ্জামান নূর, রাজিব হোসেন ও আবিদ আল সাকিব জানান, সবুজের মা ছাড়া দুনিয়াতে তার কেউ নেই। সহজ-সরল অসহায় মা কিছু জানে না, কিছু চেনে না। যেখানে ছেলেকে নিয়ে তিনবেলা খাবারের টাকা যোগাড় করতে তিনি হিমসিম খান সেখানে ছেলের এমন ব্যয়বহুল চিকিৎসা করাবেন কীভাবে? তাই আমরা স্থানীয় কয়েকজন বন্ধুরা মিলে ঢাকায় এসে চেষ্টা করছি সবুজকে বাঁচাতে। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বেশ কয়েক লাখ টাকা। আমরা বন্ধু মহল আমাদের পরিচিতজনদের কাছে হাত পেতে আর নিজেরা চাঁদা তুলে তার চিকিৎসা করাচ্ছি। আমাদের আহবানে সাড়া দিয়ে অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। সবুজকে বাঁচাতে এবং পুনর্বাসন করতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা দরকার। #

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০৮:১৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
২১ বার পড়া হয়েছে

পুড়ে কালো হয়ে গেছে সবুজঃ মানবতার যুদ্ধে লড়ছে কিছু তরুণপ্রাণ

আপডেট সময় ০৮:১৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের মানসিক প্রতিবন্ধী সবুজ ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। যেখানে সুস্থ-সবল মানুষের পক্ষেও ওঠা অসম্ভব সেখানে মানসিক প্রতিবন্ধী সবুজ কীভাবে উঠলেন, তা নিয়ে রহস্যের জট খোলেনি। স্থানীয়দের দাবি জ্বিনের আছর। তবে নেপথ্য ঘটনা যা-ই থাকুক, মারাত্মক তড়িতাহত হয়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে আছেন সবুজ। কিন্তু তার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে উচ্চমাত্রার বিদ্যুতে। সবুজ বর্তমানে ঢাকার জাতীয় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দেহেরগতি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে বাহেরচর বাঁশতলা গ্রামে বাড়ি সবুজ হাওলাদারের (৩০)। মা ছাড়া এই পৃথিবীতে কেউ নেই তার। অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের জন্ম নেওয়া তাহের আলী হাওলাদারের ছেলে সবুজ হাওলাদার ছোটবেলা থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন। তার চিকিৎসা বা খোঁজখবর নেওয়ার মতো তেমন কোনো আত্মীয়-স্বজনও নেই। মা-ই সবুজকে দেখাশোনা করতেন।

গত ১৯ আগস্ট সবার অলক্ষ্যে সবুজ তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী ৩৩ কিলোভোল্টের বিদ্যুতের মেইন গ্রিড লাইনের খুঁটিতে উঠে পড়েন। এসময় মারাত্মক তড়িতাহত হয়ে তিনি ছিটকে পড়ে নিচের নিউট্রাল লাইনে পেঁচিয়ে ঝুলে থাকেন। পরে স্থানীয়রা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে যায়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে তাৎক্ষণিক নিয়ে যেতে বলে শেবাচিম কর্তৃপক্ষ।

যে অসহায় মা বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল ঠিকমতো চেনেন না তিনি কীভাবে ঢাকার বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে নিয়ে যাবেন ছেলেকে? টাকা পাবেন কোথায়? এমন পরিস্থিতিতে সবুজের পাশে দাঁড়ান স্থানীয় যুবক আসাদুজ্জামান নূর ও রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে স্থানীয় কতিপয় স্বেচ্ছাসেবী যুবক। তারাই নিজেরা চাঁদা তুলে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাকে নিয়ে যান ঢাকায়। ভর্তি করেন জাতীয় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতাল। সেখানেই বাবুগঞ্জের কতিপয় মানবিক যুবকের প্রচেষ্টায় চলছে মানসিক ভারসাম্যহীন সবুজের ব্যয়বহুল চিকিৎসা।

জাতীয় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালের সার্জন ডাঃ আহসানুল কবির জানিয়েছেন, সবুজের শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে। তিনি এখনো পুরোপুরি আশংকামুক্ত নন। আগামী কয়েকদিন পরে বলা যাবে তিনি কবে এবং কতটা সুস্থ হতে পারেন।’

বাবুগঞ্জের দেহেরগতি ইউনিয়নের উদ্ধারকারী স্থানীয় যুবক আসাদুজ্জামান নূর, রাজিব হোসেন ও আবিদ আল সাকিব জানান, সবুজের মা ছাড়া দুনিয়াতে তার কেউ নেই। সহজ-সরল অসহায় মা কিছু জানে না, কিছু চেনে না। যেখানে ছেলেকে নিয়ে তিনবেলা খাবারের টাকা যোগাড় করতে তিনি হিমসিম খান সেখানে ছেলের এমন ব্যয়বহুল চিকিৎসা করাবেন কীভাবে? তাই আমরা স্থানীয় কয়েকজন বন্ধুরা মিলে ঢাকায় এসে চেষ্টা করছি সবুজকে বাঁচাতে। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বেশ কয়েক লাখ টাকা। আমরা বন্ধু মহল আমাদের পরিচিতজনদের কাছে হাত পেতে আর নিজেরা চাঁদা তুলে তার চিকিৎসা করাচ্ছি। আমাদের আহবানে সাড়া দিয়ে অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। সবুজকে বাঁচাতে এবং পুনর্বাসন করতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা দরকার। #