১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

গৌরনদীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেতর থেকে ৩টি ট্রান্সফরমার চুরি

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের গৌরনদীতে সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় চত্বরে মসজিদের পেছনে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি থেকে পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি ট্রান্সফরমারসহ সংযোগের বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা গেছে, গৌরনদী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেতরে মসজিদের পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে দক্ষিণ বিজয়পুর এলাকার বণিক প্যালেসে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। ওই সংযোগের মাধ্যমে বণিক প্যালেসের বিভিন্ন কক্ষ ও দোকানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো।
বণিক প্যালেসের মালিক তাপস বণিক জানান, গত ১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টার দিকে হঠাৎ তার ভবনের বিদ্যুৎ চলে যায়। তিনি প্রথমে এটিকে স্বাভাবিক লোডশেডিং বলে মনে করেন। পরদিন সকালে আশপাশের ভবনগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে তিনি গৌরনদী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেন।
খবর পেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, বিদ্যুতের খুঁটি থেকে তিনটি ট্রান্সফরমারসহ সংযোগের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে শুধু ট্রান্সফরমারের খোসা পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
চুরির ঘটনায় বণিক প্যালেসে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় সেখানে অবস্থানরত ভাড়াটিয়া ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তাপস বণিকের দাবি, চুরির কারণে পুনরায় সংযোগ নিতে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী ট্রান্সফরমারের মূল্যের ৫০ শতাংশ অর্থ গ্রাহককে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে তিনি ও ভবনের ভাড়াটিয়ারা আর্থিক ও ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।
এদিকে, সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের সীমানার ভেতরে এবং চারদিকে বাউন্ডারি ওয়াল থাকা সত্ত্বেও কীভাবে চলমান বিদ্যুৎ লাইনের তিনটি ট্রান্সফরমার একসঙ্গে চুরি হলো, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি পরিকল্পিত কি না এবং এর সঙ্গে কোনো চক্র বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগসাজশ রয়েছে কি না—তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বণিক প্যালেসের মালিক তাপস বণিক বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানের সীমানার ভেতর থেকে এভাবে তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয়দেরও দাবি, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০৯:৪১:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
২৩ বার পড়া হয়েছে

গৌরনদীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেতর থেকে ৩টি ট্রান্সফরমার চুরি

আপডেট সময় ০৯:৪১:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের গৌরনদীতে সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় চত্বরে মসজিদের পেছনে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি থেকে পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি ট্রান্সফরমারসহ সংযোগের বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা গেছে, গৌরনদী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেতরে মসজিদের পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে দক্ষিণ বিজয়পুর এলাকার বণিক প্যালেসে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। ওই সংযোগের মাধ্যমে বণিক প্যালেসের বিভিন্ন কক্ষ ও দোকানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো।
বণিক প্যালেসের মালিক তাপস বণিক জানান, গত ১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টার দিকে হঠাৎ তার ভবনের বিদ্যুৎ চলে যায়। তিনি প্রথমে এটিকে স্বাভাবিক লোডশেডিং বলে মনে করেন। পরদিন সকালে আশপাশের ভবনগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে তিনি গৌরনদী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেন।
খবর পেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, বিদ্যুতের খুঁটি থেকে তিনটি ট্রান্সফরমারসহ সংযোগের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে শুধু ট্রান্সফরমারের খোসা পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
চুরির ঘটনায় বণিক প্যালেসে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় সেখানে অবস্থানরত ভাড়াটিয়া ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তাপস বণিকের দাবি, চুরির কারণে পুনরায় সংযোগ নিতে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী ট্রান্সফরমারের মূল্যের ৫০ শতাংশ অর্থ গ্রাহককে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে তিনি ও ভবনের ভাড়াটিয়ারা আর্থিক ও ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।
এদিকে, সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের সীমানার ভেতরে এবং চারদিকে বাউন্ডারি ওয়াল থাকা সত্ত্বেও কীভাবে চলমান বিদ্যুৎ লাইনের তিনটি ট্রান্সফরমার একসঙ্গে চুরি হলো, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি পরিকল্পিত কি না এবং এর সঙ্গে কোনো চক্র বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগসাজশ রয়েছে কি না—তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বণিক প্যালেসের মালিক তাপস বণিক বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানের সীমানার ভেতর থেকে এভাবে তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয়দেরও দাবি, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।