আগৈলঝাড়ার দাসের হাটে ভোররাতেই জমে ওঠে দেশি মাছের পোনা-রেণুর পাইকারি মেলা
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার দাসের হাটে প্রতিদিন ভোররাত থেকেই জমে ওঠে দেশি মাছের পোনা ও রেণুর জমজমাট পাইকারি বাজার। সূর্য ওঠার আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মাছচাষি, ব্যবসায়ী ও পোনা বিক্রেতাদের আনাগোনায় সরগরম হয়ে ওঠে পুরো হাট এলাকা।
দাসের হাটের এই পোনা-রেণুর বাজারকে ঘিরে প্রতিবছরই বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম। ভোররাত থেকে শুরু হয়ে সকাল পর্যন্ত চলে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছের পোনা কেনাবেচা। মাছচাষিরা নিজেদের পুকুর ও জলাশয়ে চাষের জন্য প্রয়োজনীয় পোনা সংগ্রহ করতে ছুটে আসেন এই হাটে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যশোর, খুলনা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মৎস্যচাষিরা দাসের হাটে আসেন। কেউ সরাসরি পোনা কিনে নিয়ে যান, আবার কেউ পাইকারি দরে পোনা সংগ্রহ করে নিজ নিজ এলাকার চাষিদের কাছে সরবরাহ করেন।
হাটে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছের পোনা ও রেণু পাওয়া যায়। চাহিদা অনুযায়ী পোনা বাছাই করে ক্রেতারা পানিভর্তি বিশেষ পাত্র, ড্রাম ও অন্যান্য উপায়ে তা নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে যান। ভোরের ব্যস্ত সময়ে হাটজুড়ে দেখা যায় পোনা বেচাকেনা, দরদাম ও পরিবহনের ব্যস্ততা।
মৎস্যচাষিদের মতে, ভালো মানের পোনা সংগ্রহ মাছ চাষের সফলতার অন্যতম প্রধান শর্ত। তাই দূর-দূরান্ত থেকেও তারা দাসের হাটে এসে পোনা সংগ্রহ করেন। তাদের দাবি, মানসম্মত দেশি মাছের পোনা সহজলভ্য হওয়ায় এই বাজারটি দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্যচাষিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, দাসের হাটের এই পোনা বাজারকে কেন্দ্র করে ভোর থেকেই ছোট-বড় ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও ক্রেতাদের কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, বাজারটির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পোনার মান নিয়ন্ত্রণ এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দাসের হাটের এই দেশি মাছের পোনা-রেণুর বাজার ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে গড়ে উঠবে।
ভোরের কুয়াশা কাটার আগেই দাসের হাটে শুরু হয় পোনা-রেণুর হাঁকডাক—আর সেই ব্যস্ততাই জানান দেয়, দেশি মাছের চাষে এই বাজারটির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে





























