০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রকে উপেক্ষা, ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টিতে ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ

📌 যুক্তরাষ্ট্রকে উপেক্ষা, ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টিতে ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ
────────────────────────────────────────────────────────────

প্রকাশ :০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ১৫

ইসরাইলি দখলকৃত পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করতে একযোগে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের একাধিক দেশ। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার নেতৃত্বে নেওয়া এই উদ্যোগে আরও নয়টি দেশ সমর্থন জানিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের দূরত্ব আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা শুধু বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানি বন্ধের উদ্যোগই নেয়নি; বসতি স্থাপন কার্যক্রমে সহায়তা, অর্থায়ন বা মুনাফা করে এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কথা জানিয়েছে। ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেনও বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করার উদ্যোগে যোগ দিয়েছে।

দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে পশ্চিম তীরের কৌশলগত এলাকা ই১-এ নতুন ইসরাইলি বসতি নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তারা উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বসতি থেকে আসা পণ্য ইসরাইল ও যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক বাণিজ্যের তুলনায় খুব বড় অংশ নয়। দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। তবে পশ্চিম তীরের পৃথক বসতিগুলোর অর্থনীতিতে খেজুর, ওয়াইন ও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন পণ্যের আয় এবং ইসরাইলি সরকারি ভর্তুকি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইলবিষয়ক সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল সি. কার্টজার বলেন, বসতিগুলোর পণ্য আলাদাভাবে চিহ্নিত করা বা সেগুলোর ওপর বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের আলোচনা বহুদিনের হলেও বাস্তবে খুব কম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এবার গৃহীত পদক্ষেপ বসতি আন্দোলন এবং বসতি সম্প্রসারণকে সমর্থনকারী যেকোনো ইসরাইলি সরকারের ওপর উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে ব্যক্তি ও কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। উদাহরণ হিসেবে তারা এমন কোনো ইসরাইলি ব্যাংকের কথা বলেছেন, যেটি পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণে ঋণ দেয়, আবার একই সঙ্গে ইসরাইলের অন্যান্য অঞ্চলে সাম্প্রতিক অবস্থান পরিবর্তন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে মধ্য স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে।

ইসরাইলের প্রতি ব্রিটেনের সাম্প্রতিক অবস্থান পরিবর্তন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে চলেছে লন্ডন। কিন্তু গাজা যুদ্ধ ও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটিশ অবস্থান তুলনামূলকভাবে কঠোর হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০৩:৫৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
০ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রকে উপেক্ষা, ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টিতে ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ

আপডেট সময় ০৩:৫৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

📌 যুক্তরাষ্ট্রকে উপেক্ষা, ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টিতে ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ
────────────────────────────────────────────────────────────

প্রকাশ :০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ১৫

ইসরাইলি দখলকৃত পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করতে একযোগে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের একাধিক দেশ। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার নেতৃত্বে নেওয়া এই উদ্যোগে আরও নয়টি দেশ সমর্থন জানিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের দূরত্ব আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা শুধু বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানি বন্ধের উদ্যোগই নেয়নি; বসতি স্থাপন কার্যক্রমে সহায়তা, অর্থায়ন বা মুনাফা করে এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কথা জানিয়েছে। ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেনও বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করার উদ্যোগে যোগ দিয়েছে।

দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে পশ্চিম তীরের কৌশলগত এলাকা ই১-এ নতুন ইসরাইলি বসতি নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তারা উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বসতি থেকে আসা পণ্য ইসরাইল ও যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক বাণিজ্যের তুলনায় খুব বড় অংশ নয়। দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। তবে পশ্চিম তীরের পৃথক বসতিগুলোর অর্থনীতিতে খেজুর, ওয়াইন ও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন পণ্যের আয় এবং ইসরাইলি সরকারি ভর্তুকি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইলবিষয়ক সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল সি. কার্টজার বলেন, বসতিগুলোর পণ্য আলাদাভাবে চিহ্নিত করা বা সেগুলোর ওপর বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের আলোচনা বহুদিনের হলেও বাস্তবে খুব কম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এবার গৃহীত পদক্ষেপ বসতি আন্দোলন এবং বসতি সম্প্রসারণকে সমর্থনকারী যেকোনো ইসরাইলি সরকারের ওপর উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে ব্যক্তি ও কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। উদাহরণ হিসেবে তারা এমন কোনো ইসরাইলি ব্যাংকের কথা বলেছেন, যেটি পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণে ঋণ দেয়, আবার একই সঙ্গে ইসরাইলের অন্যান্য অঞ্চলে সাম্প্রতিক অবস্থান পরিবর্তন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে মধ্য স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে।

ইসরাইলের প্রতি ব্রিটেনের সাম্প্রতিক অবস্থান পরিবর্তন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে চলেছে লন্ডন। কিন্তু গাজা যুদ্ধ ও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটিশ অবস্থান তুলনামূলকভাবে কঠোর হয়েছে।