১০:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

মাগুরার এন.এস বিউটি পার্লারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ স্কুল শিক্ষিকার

বিশেষ প্রতিনিধিঃ সুবির ঘোষ

মহাক্ষতি : ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ দায়ের!

মাগুরার শশী বিউটি পার্লারে চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য গিয়ে উল্টো চুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নাহিদা আক্তার সাথী নামে এক স্কুল শিক্ষিকা।
এ ঘটনায় তিনি মাগুরা জেলা কার্যালয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ভোক্তা অধিকার সহকারী পরিচালক মোহাঃ সজল আহম্মেদ এন.এস বিউটি পার্লার কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করলেও ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী নাহিদা আক্তার সাথীর অভিযোগ, গত মার্চ মাসের ১৬ তারিখে ঈদকে সামনে রেখে চুলে বিশেষ কালার ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তিনি মাগুরার “এন.এস বিউটি পার্লার”- মেকওভার উইথ শশী তে যান।
সেখানে দীর্ঘ প্রায় ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা ধরে তার চুলে ব্লিচ ও কালার ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীতে তার চুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, জায়গায় জায়গায় চুল ছিঁড়ে পড়ে যায় এবং মাথার কিছু অংশে টাকও দেখা দেয়।
তিনি বলেন, “আমি সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য পার্লারে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা এমনভাবে আমার চুল নষ্ট করেছে যে মানুষের সামনে যাওয়ার মতো অবস্থাও ছিল না। চুলগুলো একেবারে কুঁচকে গেছে, ভেঙে পড়ছে। এটা ঠিক করতে আমার দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।”
তিনি আরও জানান, পার্লারের সেবার জন্য তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
পরে চিকিৎসক দেখানো ও ওষুধপত্র মিলিয়ে আরও প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
এ ঘটনায় তিনি মাগুরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন।
শুনানি শেষে এন.এস বিউটি পার্লার কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। তবে নাহিদা আক্তার সাথীর দাবি, শুধুমাত্র জরিমানা নয়, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।
তিনি বলেন, “ফেসবুকে ভিডিও, ব্লগ করে মানুষকে আকৃষ্ট করে তারা ব্যবসা করছে। অথচ: অদক্ষ সেবার কারণে নারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল।”
তিনি দাবি করেন, নিজের ঘটনার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর আরও কয়েকজন নারী তার সঙ্গে যোগাযোগ করে একই পার্লারের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করার পর তিনি হুমকি-ধমকির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পার্লার মালিকের আত্মীয় পরিচয়ে একজন ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান। এ ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান।
এছাড়া মাগুরা প্রেসক্লাবের সাজ্জাদ হোসেন নামের এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও তিনি ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তোলেন।
তার দাবি, ওই সাংবাদিক সাজ্জাদ তাকে “মিউচুয়াল” করার প্রস্তাব দেন এবং রাজি না হওয়ায় চাকরি ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে হুমকি দেন।
এ সংক্রান্ত অডিও রেকর্ড তার কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি। নাহিদা আক্তার সাথী বলেন, “আমি চাই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হোক।
যারা অদক্ষ সেবা দিয়ে মানুষের সৌন্দর্য নষ্ট করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এন.এস বিউটি পার্লার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারাও গতকাল বৃহস্পতিবার ১৪ মে সকাল ১০ টার সময় মাগুরা ভোক্তা অধিকার সহকারী পরিচালক মোহাঃ সজল আহম্মেদ এর শোনানিতে উপস্থিত ছিলেন এবং বড় বড় চটাং কথাবার্তা বলছিলেন।

মাগুরা জেলা কার্যালয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক মোহাঃ সজল আহম্মেদ এর আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি উভয়পক্ষকে ফেসবুকে পোস্ট ও মোবাইল ফোনে হুমকি ধামকি দিতে নিষেধ করে দেন। আর নাহিদা আক্তার সাথীর মাথার চুলের ক্ষতির জন্য এন.এস বিউটি পার্লার কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

মাগুরা সদর থানা সাধারণ ডায়েরী করার লিখিত সূত্র থেকে জানা যায়, জিডি নং- ৮০৫
তারিখ: ১২/০৫/২০২৬ নাহিদা আক্তার সাথী (৩৫), পিতা- রতন বিশ্বাস, মাতা- কোহিনুর বেগম, ঠিকানা (স্থায়ী) গ্রাম- দেড়ুয়া, থানা মাগুরা সদর, জেলা- মাগুরা ও ঠিকানা (বর্তমান), স্টেডিয়ামপাড়া, ওয়ার্ড নং-০২, মাগুরা সদর, মাগুরা, খুলনা। গত ইং ১৬/০৩/২০২৬ তারিখ সকাল অনুমান ১১.৩০ টার সময় আমি চুলের কালার করার জন্য মাগুরা শহরের কাউন্সিল পাড়াস্থ এন এস বিউটি পার্লার নামীয় প্রতিষ্ঠানে যাই এবং উক্ত বিউটি পার্লারের মালিক বিবাদী শশী (২৫), মাইশা (২০), নিশি (৩০), সর্ব পিতা তৌহিদুল ইসলাম, সাং-কাউন্সিল পাড়া, থানা-মাগুরা সদর, জেলা- মাগুরাগন দীর্ঘ সময় অর্থ্যাৎ একইদিন রাত অনুমান ১০ টা পর্যন্ত আমার চুলের কালার করিয়া চুলের কালার করা বাবদ আমার নিকট হতে নগদ ৫,০০০ (পাঁচ) হাজার টাকা বিল নেয়। পরের দিন পর্যন্ত আমার চুলের কাঙ্খিত কালার না আসায় এবং মাথার চুল ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে। তখন আমি ঘটনাটি এন এস বিউটি পার্লারের ফেইস বুক পেইজে ম্যাসেজ আকারে প্রেরন করলে তারা আমাকে কোন সমাধান না দিয়ে এলোমেলো কথাবার্তা বলতে থাকে এবং নানা ধরনের হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে আমার মাথার চুল বেশি পরিমানে পড়তে শুরু করলে আমি ডাক্তার দেখায়ে চিকিৎসা হতে থাকি। কিন্তু তাতেও আমার মাথার চুল পড়া কমে নাই। তখন বাধ্য হয়ে আমি ভোক্তা অধিকারে বিউটি পার্লারের নামে পরপর দুইটি অভিযোগ দায়ের করি যাহা ইং-১৫/০৪/২০২৬ তারিখ ও ২৩/০৪/২০২৬ তারিখ। যাহার শুনানীর তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে মর্মে ভোক্তা অধিকার ম্যাসেজ প্রদান করে। উক্ত অভিযোগ দায়ের করার পর আমার ব্যবহৃত ফেইস বুক আইডি Sathi Akter তে উক্ত বিবাদীগন সহ অপর বিবাদী নিশি এর স্বামী আবির হাসান(৩৫), পিতা-অজ্ঞাত, সাং-সাতদোহা পাড়া, থানা-মাগুরা সদর, জেলা- মাগুরাগন নানা ধরনের কুরুচিপূর্ন কথাবার্তা লিখে পোষ্ট করাসহ নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেছে। সর্বশেষ ঘটনার দিন ইং-১১/০৫/২০২৬ তারিখ রাত ০৯ টার সময় থেকে শুরু করে ইং-১২/০৫/২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ৩.৩০ টার সময় পর্যন্ত আমার ফেইস বুক আইডিতে নানা ধরনের হুমকি দিতে থাকে। আমার ধারনা সকল বিবাদীরা চুলের কালারের সাথে ক্ষতিকর মেডিসিন ব্যবহার করে আমার মাথার চুলের অপূরনীয় ক্ষতিসাধন করেছে এবং ঘটনাটি তাদেরকে জানানোর পর সকল বিবাদীরা বিষয়টি গোপন রাখার জন্য আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেছে। ঘটনাটির সাক্ষী মোঃ হাসিব পিতা- গোলাম কুদ্দুস, সাং-স্টেডিয়াম পাড়া, থানা-মাগুরা সদর, জেলা-মাগুরাসহ স্থানীয় ভাবে অনেকেই অবগত আছে। এমতাবস্থায়, উপরোক্ত বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য সাধারন ডাইরীভূক্ত করে রাখা একান্ত প্রয়োজন।

বিনীত, নাহিদা আক্তার সাথী।

ডিউটি অফিসার মোঃ সালাউদ্দিন, এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ ফারুক হোসেন এই ডায়েরী সংক্রান্তে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন অফিসার ইনচার্জ মাগুরা সদর থানা।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০৮:৫০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
২৫ বার পড়া হয়েছে

মাগুরার এন.এস বিউটি পার্লারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ স্কুল শিক্ষিকার

আপডেট সময় ০৮:৫০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধিঃ সুবির ঘোষ

মহাক্ষতি : ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ দায়ের!

মাগুরার শশী বিউটি পার্লারে চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য গিয়ে উল্টো চুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নাহিদা আক্তার সাথী নামে এক স্কুল শিক্ষিকা।
এ ঘটনায় তিনি মাগুরা জেলা কার্যালয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ভোক্তা অধিকার সহকারী পরিচালক মোহাঃ সজল আহম্মেদ এন.এস বিউটি পার্লার কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করলেও ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী নাহিদা আক্তার সাথীর অভিযোগ, গত মার্চ মাসের ১৬ তারিখে ঈদকে সামনে রেখে চুলে বিশেষ কালার ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তিনি মাগুরার “এন.এস বিউটি পার্লার”- মেকওভার উইথ শশী তে যান।
সেখানে দীর্ঘ প্রায় ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা ধরে তার চুলে ব্লিচ ও কালার ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীতে তার চুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, জায়গায় জায়গায় চুল ছিঁড়ে পড়ে যায় এবং মাথার কিছু অংশে টাকও দেখা দেয়।
তিনি বলেন, “আমি সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য পার্লারে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা এমনভাবে আমার চুল নষ্ট করেছে যে মানুষের সামনে যাওয়ার মতো অবস্থাও ছিল না। চুলগুলো একেবারে কুঁচকে গেছে, ভেঙে পড়ছে। এটা ঠিক করতে আমার দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।”
তিনি আরও জানান, পার্লারের সেবার জন্য তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
পরে চিকিৎসক দেখানো ও ওষুধপত্র মিলিয়ে আরও প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
এ ঘটনায় তিনি মাগুরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন।
শুনানি শেষে এন.এস বিউটি পার্লার কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। তবে নাহিদা আক্তার সাথীর দাবি, শুধুমাত্র জরিমানা নয়, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।
তিনি বলেন, “ফেসবুকে ভিডিও, ব্লগ করে মানুষকে আকৃষ্ট করে তারা ব্যবসা করছে। অথচ: অদক্ষ সেবার কারণে নারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল।”
তিনি দাবি করেন, নিজের ঘটনার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর আরও কয়েকজন নারী তার সঙ্গে যোগাযোগ করে একই পার্লারের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করার পর তিনি হুমকি-ধমকির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পার্লার মালিকের আত্মীয় পরিচয়ে একজন ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান। এ ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান।
এছাড়া মাগুরা প্রেসক্লাবের সাজ্জাদ হোসেন নামের এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও তিনি ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তোলেন।
তার দাবি, ওই সাংবাদিক সাজ্জাদ তাকে “মিউচুয়াল” করার প্রস্তাব দেন এবং রাজি না হওয়ায় চাকরি ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে হুমকি দেন।
এ সংক্রান্ত অডিও রেকর্ড তার কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি। নাহিদা আক্তার সাথী বলেন, “আমি চাই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হোক।
যারা অদক্ষ সেবা দিয়ে মানুষের সৌন্দর্য নষ্ট করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এন.এস বিউটি পার্লার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারাও গতকাল বৃহস্পতিবার ১৪ মে সকাল ১০ টার সময় মাগুরা ভোক্তা অধিকার সহকারী পরিচালক মোহাঃ সজল আহম্মেদ এর শোনানিতে উপস্থিত ছিলেন এবং বড় বড় চটাং কথাবার্তা বলছিলেন।

মাগুরা জেলা কার্যালয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক মোহাঃ সজল আহম্মেদ এর আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি উভয়পক্ষকে ফেসবুকে পোস্ট ও মোবাইল ফোনে হুমকি ধামকি দিতে নিষেধ করে দেন। আর নাহিদা আক্তার সাথীর মাথার চুলের ক্ষতির জন্য এন.এস বিউটি পার্লার কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

মাগুরা সদর থানা সাধারণ ডায়েরী করার লিখিত সূত্র থেকে জানা যায়, জিডি নং- ৮০৫
তারিখ: ১২/০৫/২০২৬ নাহিদা আক্তার সাথী (৩৫), পিতা- রতন বিশ্বাস, মাতা- কোহিনুর বেগম, ঠিকানা (স্থায়ী) গ্রাম- দেড়ুয়া, থানা মাগুরা সদর, জেলা- মাগুরা ও ঠিকানা (বর্তমান), স্টেডিয়ামপাড়া, ওয়ার্ড নং-০২, মাগুরা সদর, মাগুরা, খুলনা। গত ইং ১৬/০৩/২০২৬ তারিখ সকাল অনুমান ১১.৩০ টার সময় আমি চুলের কালার করার জন্য মাগুরা শহরের কাউন্সিল পাড়াস্থ এন এস বিউটি পার্লার নামীয় প্রতিষ্ঠানে যাই এবং উক্ত বিউটি পার্লারের মালিক বিবাদী শশী (২৫), মাইশা (২০), নিশি (৩০), সর্ব পিতা তৌহিদুল ইসলাম, সাং-কাউন্সিল পাড়া, থানা-মাগুরা সদর, জেলা- মাগুরাগন দীর্ঘ সময় অর্থ্যাৎ একইদিন রাত অনুমান ১০ টা পর্যন্ত আমার চুলের কালার করিয়া চুলের কালার করা বাবদ আমার নিকট হতে নগদ ৫,০০০ (পাঁচ) হাজার টাকা বিল নেয়। পরের দিন পর্যন্ত আমার চুলের কাঙ্খিত কালার না আসায় এবং মাথার চুল ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে। তখন আমি ঘটনাটি এন এস বিউটি পার্লারের ফেইস বুক পেইজে ম্যাসেজ আকারে প্রেরন করলে তারা আমাকে কোন সমাধান না দিয়ে এলোমেলো কথাবার্তা বলতে থাকে এবং নানা ধরনের হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে আমার মাথার চুল বেশি পরিমানে পড়তে শুরু করলে আমি ডাক্তার দেখায়ে চিকিৎসা হতে থাকি। কিন্তু তাতেও আমার মাথার চুল পড়া কমে নাই। তখন বাধ্য হয়ে আমি ভোক্তা অধিকারে বিউটি পার্লারের নামে পরপর দুইটি অভিযোগ দায়ের করি যাহা ইং-১৫/০৪/২০২৬ তারিখ ও ২৩/০৪/২০২৬ তারিখ। যাহার শুনানীর তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে মর্মে ভোক্তা অধিকার ম্যাসেজ প্রদান করে। উক্ত অভিযোগ দায়ের করার পর আমার ব্যবহৃত ফেইস বুক আইডি Sathi Akter তে উক্ত বিবাদীগন সহ অপর বিবাদী নিশি এর স্বামী আবির হাসান(৩৫), পিতা-অজ্ঞাত, সাং-সাতদোহা পাড়া, থানা-মাগুরা সদর, জেলা- মাগুরাগন নানা ধরনের কুরুচিপূর্ন কথাবার্তা লিখে পোষ্ট করাসহ নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেছে। সর্বশেষ ঘটনার দিন ইং-১১/০৫/২০২৬ তারিখ রাত ০৯ টার সময় থেকে শুরু করে ইং-১২/০৫/২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ৩.৩০ টার সময় পর্যন্ত আমার ফেইস বুক আইডিতে নানা ধরনের হুমকি দিতে থাকে। আমার ধারনা সকল বিবাদীরা চুলের কালারের সাথে ক্ষতিকর মেডিসিন ব্যবহার করে আমার মাথার চুলের অপূরনীয় ক্ষতিসাধন করেছে এবং ঘটনাটি তাদেরকে জানানোর পর সকল বিবাদীরা বিষয়টি গোপন রাখার জন্য আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেছে। ঘটনাটির সাক্ষী মোঃ হাসিব পিতা- গোলাম কুদ্দুস, সাং-স্টেডিয়াম পাড়া, থানা-মাগুরা সদর, জেলা-মাগুরাসহ স্থানীয় ভাবে অনেকেই অবগত আছে। এমতাবস্থায়, উপরোক্ত বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য সাধারন ডাইরীভূক্ত করে রাখা একান্ত প্রয়োজন।

বিনীত, নাহিদা আক্তার সাথী।

ডিউটি অফিসার মোঃ সালাউদ্দিন, এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ ফারুক হোসেন এই ডায়েরী সংক্রান্তে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন অফিসার ইনচার্জ মাগুরা সদর থানা।