বাবুগঞ্জে মাদ্রাসায় শিশু ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা
বরিশালের বাবুগঞ্জে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক। বলাৎকারের দায়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম মাসুম বিল্লাহ (২৬)। তিনি বাবুগঞ্জ থানার সামনে অবস্থিত আল ইকরা দারুল উলুম নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক এবং নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার চকহিয়াতপুর গ্রামের শাহাদাৎ হোসেনের ছেলে।
থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ রাত আনুমানিক ১টার দিকে হিফজ শাখার ১২ বছর বয়সী এক আবাসিক শিশু শিক্ষার্থীকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে পাশের কক্ষে নিয়ে যান মাদ্রাসা শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ। সেখানে তাকে রাতভর অনৈতিক শারীরিক নির্যাতনসহ বলাৎকার করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে নানান ভয়ভীতি দেখানো হয়। এতে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মারপিটের ভয়ে পরিবারের কাছে ঘটনাটি গোপন রাখে। পরবর্তীতে তার পায়ুপথে সংক্রমণ দেখা দিলে এবং মাদ্রাসায় যেতে অস্বীকৃতি জানালে পরিবারের সন্দেহ হয়। পরে সে বিষয়টি স্বীকার করে এবং এর আগেও শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ একাধিকবার তাকে বলাৎকার এবং শারীরিক নির্যাতন করেছে বলে পরিবারকে জানায়। ঘটনা জানার পরে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে রোববার রাতে বাবুগঞ্জ থানায় শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকারের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পালিয়ে যান অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসা পরিচালক মুফতি আমিনুল ইসলাম নাটোর জেলার বাসিন্দা হওয়ায় তিনিই সহকারী শিক্ষক মাসুম বিল্লাহকে নাটোর থেকে এনে অবৈধভাবে চাকরি দিয়েছেন এবং মাদ্রাসার একটি কক্ষে থাকতে দিয়েছেন। এর আগেও এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়। এবারও স্থানীয় বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করে থানার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন মাদ্রাসা পরিচালক মুফতি আমিনুল ইসলাম। অভিযুক্ত শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ পলাতক এবং মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোহাম্মদ এহতেশামুল ইসলাম বলেন, ‘ভিকটিমের বাবার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরে তা আমলে নিয়ে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের অবস্থান সনাক্ত করে তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। এটা মীমাংসাযোগ্য অপরাধ নয়। থানার বাইরে কেউ মীমাংসার চেষ্টা করছে কিনা তা আমাদের জানা নেই।’ #



















