০৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

‌ডিপ স্টেট – – – হেলাল উদ্দিন

‘ডিপ স্টেট’—বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত শব্দ। শুনলে গা ছমছম করে। এক ধরনের শীতল বা অস্বস্তিকর অনুভূতি তৈরি হয়।

কারণ, এটি এমন এক ধারণা যেখানে রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রকৃত ক্ষমতা পর্দার আড়ালে থাকে।

‘ডিপ স্টেট’—শব্দটা শুধু একটি ধারণা নয়, বরং ক্ষমতার আড়ালে লুকানো বাস্তবতার ইঙ্গিত। এমন এক কাঠামো, যেখানে দৃশ্যমান রাষ্ট্র নয়, বরং অদৃশ্য শক্তিই প্রকৃত নিয়ন্ত্রক।

জনগণ ভোট দেয়, সরকার গঠিত হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয় অন্য কেউ—যারা সামনে আসে না, জবাবদিহিও করে না।

রাষ্ট্রের ভেতরে এই গোপন শক্তি সাধারণত প্রশাসন, সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামোর একটি স্থায়ী অংশ হিসেবে কাজ করে। সরকার আসে-যায়, কিন্তু তারা থেকে যায়।

‘জাতীয় স্বার্থ’—এই শব্দটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা অনেক সময় নিজেদের এজেন্ডা চাপিয়ে দেয়।

সমালোচকরা ‘ডিপ স্টেট’-কে ‘অদৃশ্য রাষ্ট্র’ বলেছেন—এটা কেবল রূপক নয়, বরং বাস্তবতার কাছাকাছি একটি বর্ণনা। কারণ, এই কাঠামো এমনভাবে কাজ করে, যেখানে নির্বাচিত নেতৃত্ব অনেক সময় কেবল আনুষ্ঠানিক মুখপাত্রে পরিণত হয়।

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই প্রভাব আরও স্পষ্ট। সেখানে গণতন্ত্র অনেক সময় একটি আচ্ছাদন মাত্র—পর্দার আড়ালে ক্ষমতার মূল সুতো থাকে সামরিক ও গোয়েন্দা মহলের হাতে। প্রয়োজনে তারা নির্বাচিত সরকারকে দুর্বল করে, এমনকি সরিয়েও দিতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পায় ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি Washington, D.C.-এ Narendra Modi ও Donald Trump-এর বৈঠকের পর। এক সাংবাদিক যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনে মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেন, ট্রাম্প তা অস্বীকার করেন।

কিন্তু এই অস্বীকার নিজেই নতুন প্রশ্ন তৈরি করে—তিনি কি ‘ডিপ স্টেট’-এর অস্তিত্বই অস্বীকার করলেন, নাকি শুধু সংশ্লিষ্ট ঘটনার দায় এড়ালেন?

দেশীয় রাজনীতিতে এই ইস্যু আরও বিস্ফোরক হয়ে ওঠে যখন Asif Mahmud Sajib Bhuiyan দাবি করেন, ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই একটি তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’ তাদের ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এতে দেশি-বিদেশি একাধিক শক্তি জড়িত—কিন্তু কারা তারা, তা তিনি প্রকাশ করেননি।
এখানেই মূল প্রশ্ন—এই অদৃশ্য শক্তিরা কারা? এবং তারা কী চায়?

বাস্তবতা হলো, ‘ডিপ স্টেট’ কখনো সরাসরি সামনে আসে না। তারা কাজ করে নীতিনির্ধারকদের মাধ্যমে। যখন কোনো সরকারের সিদ্ধান্তে হঠাৎ করে জনগণের স্বার্থের চেয়ে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ বড় হয়ে ওঠে, তখনই বোঝা যায়—সিদ্ধান্তটা কোথাও আরেক জায়গায় নেওয়া হয়েছে।

এটা অনেকটা ছায়া-সরকারের মতো। দৃশ্যমান সরকার কেবল স্বাক্ষর করে, কিন্তু নীতির জন্ম হয় অন্য কোথাও। ফলে গণতন্ত্র থাকে কাঠামোয়, কিন্তু কার্যত নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অদৃশ্য হাতের কাছে।

ডিপ স্টেট তাই শুধু একটি তাত্ত্বিক ধারণা নয়— ক্ষমতার এমন এক বাস্তবতা, যা গণতন্ত্রকে ভেতর থেকে খালি করে দিতে পারে।

যখন ডিপ স্টেট প্রভাবশালী হয়ে ওঠে, তখন রাষ্ট্র আর জনগণের জন্য কাজ করে না; বরং একটি সীমিত গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার যন্ত্রে পরিণত হয়।

তাহলে কি ডঃ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করেছে দেশে বিদেশে থাকা শক্তিশালী অদৃশ্য শক্তি?? এই প্রশ্ন এখন আর অস্বাভাবিক নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ১১:৪৭:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
৬ বার পড়া হয়েছে

‌ডিপ স্টেট – – – হেলাল উদ্দিন

আপডেট সময় ১১:৪৭:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

‘ডিপ স্টেট’—বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত শব্দ। শুনলে গা ছমছম করে। এক ধরনের শীতল বা অস্বস্তিকর অনুভূতি তৈরি হয়।

কারণ, এটি এমন এক ধারণা যেখানে রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রকৃত ক্ষমতা পর্দার আড়ালে থাকে।

‘ডিপ স্টেট’—শব্দটা শুধু একটি ধারণা নয়, বরং ক্ষমতার আড়ালে লুকানো বাস্তবতার ইঙ্গিত। এমন এক কাঠামো, যেখানে দৃশ্যমান রাষ্ট্র নয়, বরং অদৃশ্য শক্তিই প্রকৃত নিয়ন্ত্রক।

জনগণ ভোট দেয়, সরকার গঠিত হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয় অন্য কেউ—যারা সামনে আসে না, জবাবদিহিও করে না।

রাষ্ট্রের ভেতরে এই গোপন শক্তি সাধারণত প্রশাসন, সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামোর একটি স্থায়ী অংশ হিসেবে কাজ করে। সরকার আসে-যায়, কিন্তু তারা থেকে যায়।

‘জাতীয় স্বার্থ’—এই শব্দটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা অনেক সময় নিজেদের এজেন্ডা চাপিয়ে দেয়।

সমালোচকরা ‘ডিপ স্টেট’-কে ‘অদৃশ্য রাষ্ট্র’ বলেছেন—এটা কেবল রূপক নয়, বরং বাস্তবতার কাছাকাছি একটি বর্ণনা। কারণ, এই কাঠামো এমনভাবে কাজ করে, যেখানে নির্বাচিত নেতৃত্ব অনেক সময় কেবল আনুষ্ঠানিক মুখপাত্রে পরিণত হয়।

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই প্রভাব আরও স্পষ্ট। সেখানে গণতন্ত্র অনেক সময় একটি আচ্ছাদন মাত্র—পর্দার আড়ালে ক্ষমতার মূল সুতো থাকে সামরিক ও গোয়েন্দা মহলের হাতে। প্রয়োজনে তারা নির্বাচিত সরকারকে দুর্বল করে, এমনকি সরিয়েও দিতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পায় ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি Washington, D.C.-এ Narendra Modi ও Donald Trump-এর বৈঠকের পর। এক সাংবাদিক যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনে মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেন, ট্রাম্প তা অস্বীকার করেন।

কিন্তু এই অস্বীকার নিজেই নতুন প্রশ্ন তৈরি করে—তিনি কি ‘ডিপ স্টেট’-এর অস্তিত্বই অস্বীকার করলেন, নাকি শুধু সংশ্লিষ্ট ঘটনার দায় এড়ালেন?

দেশীয় রাজনীতিতে এই ইস্যু আরও বিস্ফোরক হয়ে ওঠে যখন Asif Mahmud Sajib Bhuiyan দাবি করেন, ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই একটি তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’ তাদের ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এতে দেশি-বিদেশি একাধিক শক্তি জড়িত—কিন্তু কারা তারা, তা তিনি প্রকাশ করেননি।
এখানেই মূল প্রশ্ন—এই অদৃশ্য শক্তিরা কারা? এবং তারা কী চায়?

বাস্তবতা হলো, ‘ডিপ স্টেট’ কখনো সরাসরি সামনে আসে না। তারা কাজ করে নীতিনির্ধারকদের মাধ্যমে। যখন কোনো সরকারের সিদ্ধান্তে হঠাৎ করে জনগণের স্বার্থের চেয়ে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ বড় হয়ে ওঠে, তখনই বোঝা যায়—সিদ্ধান্তটা কোথাও আরেক জায়গায় নেওয়া হয়েছে।

এটা অনেকটা ছায়া-সরকারের মতো। দৃশ্যমান সরকার কেবল স্বাক্ষর করে, কিন্তু নীতির জন্ম হয় অন্য কোথাও। ফলে গণতন্ত্র থাকে কাঠামোয়, কিন্তু কার্যত নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অদৃশ্য হাতের কাছে।

ডিপ স্টেট তাই শুধু একটি তাত্ত্বিক ধারণা নয়— ক্ষমতার এমন এক বাস্তবতা, যা গণতন্ত্রকে ভেতর থেকে খালি করে দিতে পারে।

যখন ডিপ স্টেট প্রভাবশালী হয়ে ওঠে, তখন রাষ্ট্র আর জনগণের জন্য কাজ করে না; বরং একটি সীমিত গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার যন্ত্রে পরিণত হয়।

তাহলে কি ডঃ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করেছে দেশে বিদেশে থাকা শক্তিশালী অদৃশ্য শক্তি?? এই প্রশ্ন এখন আর অস্বাভাবিক নয়।