০৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

বাবুগঞ্জে রাইসার দিনমজুর বাবার পাশে দাঁড়ালেন মশিউর চেয়ারম্যান

❑ আরিফ আহমেদ মুন্না ✍️

বরিশালের বাবুগঞ্জে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ১০ বছরের শিশু রাইসা মনিকে পুড়িয়ে হত্যার আলোচিত ঘটনার পরে এবার তার দিনমজুর বাবার পাশে দাঁড়িয়েছেন সাদা মনের মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিত দেহেরগতি ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মশিউর রহমান। সোমবার তিনি রাইসা মনির বাবাকে ডেকে মামলার অগ্রগতি এবং তার পরিবারের আর্থিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এসময় তিনি রাইসা মনির বাবা দিনমজুর নজরুল ইসলাম হাওলাদারকে ঘর মেরামতের জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করেন। এছাড়াও ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে তাদের পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে একাধিকবার পুরস্কারপ্রাপ্ত বাবুগঞ্জের দেহেরগতি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মশিউর রহমান বলেন, ‘দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের শিশু রাইসা মনির মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং হৃদয় বিদারক। এই ঘটনার সাথে যে বা যারাই জড়িত থাকুক তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এর পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। রাইসার বাবা নজরুল দিনমজুরি করেন। আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। বসতঘরের টিনের বেড়া ভেঙে গেছে। সামনে বর্ষা মৌসুমে তাদের পরিবারের কষ্টের কথা বিবেচনা করে ঘর মেরামতের জন্য কিছু অনুদান দিয়েছি। ভবিষ্যতেও যেকোনো প্রয়োজনে কিংবা বিপদে-আপদে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।’

উল্লেখ্য গত ১৫ মার্চ দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের দিনমজুর নজরুল ইসলাম হাওলাদারের ১০ বছরের শিশুকন্যা রাইসা মনিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশি বখাটে কিশোর সিফাত সিকদারের বিরুদ্ধে। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাইসার শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাইসাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রথমে তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে সেদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে নেওয়ার পথে একটি ভিডিও জবানবন্দি দেয় রাইসা মনি। ১১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে অগ্নিদগ্ধ শিশু রাইসাকে বলতে শোনা যায়- “আমারে খারাপ জিনিস কইছে, আমি হুনি নাই দেখে সিফাত আমার গায়ে আগুন দিছে।”

এদিকে এ ঘটনায় রাইসার বাবা নজরুল ইসলাম হাওলাদার বাদী হয়ে বখাটে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সিফাত সিকদার ও তার বাবা জালাল সিকদারকে আসামি করে বাবুগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরে আসামি গ্রেপ্তার না করে উল্টো বাদীর পরিবারকে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ১৮ মার্চ বিকেলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে এলাকাবাসী। মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে আসামি গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ভুঁইয়া ওরফে ব্যারিস্টার ফুয়াদ। তবে ওই আল্টিমেটামের সময় পার হওয়ার আগেই পরদিন ভোরবেলা বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের স্থানীয় এক নেতার হস্তক্ষেপে আসামি পিতা-পুত্র উভয়ে নাটকীয়ভাবে বাবুগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন। #

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০৬:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
১৪১ বার পড়া হয়েছে

বাবুগঞ্জে রাইসার দিনমজুর বাবার পাশে দাঁড়ালেন মশিউর চেয়ারম্যান

আপডেট সময় ০৬:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

বরিশালের বাবুগঞ্জে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ১০ বছরের শিশু রাইসা মনিকে পুড়িয়ে হত্যার আলোচিত ঘটনার পরে এবার তার দিনমজুর বাবার পাশে দাঁড়িয়েছেন সাদা মনের মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিত দেহেরগতি ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মশিউর রহমান। সোমবার তিনি রাইসা মনির বাবাকে ডেকে মামলার অগ্রগতি এবং তার পরিবারের আর্থিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এসময় তিনি রাইসা মনির বাবা দিনমজুর নজরুল ইসলাম হাওলাদারকে ঘর মেরামতের জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করেন। এছাড়াও ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে তাদের পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে একাধিকবার পুরস্কারপ্রাপ্ত বাবুগঞ্জের দেহেরগতি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মশিউর রহমান বলেন, ‘দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের শিশু রাইসা মনির মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং হৃদয় বিদারক। এই ঘটনার সাথে যে বা যারাই জড়িত থাকুক তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এর পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। রাইসার বাবা নজরুল দিনমজুরি করেন। আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। বসতঘরের টিনের বেড়া ভেঙে গেছে। সামনে বর্ষা মৌসুমে তাদের পরিবারের কষ্টের কথা বিবেচনা করে ঘর মেরামতের জন্য কিছু অনুদান দিয়েছি। ভবিষ্যতেও যেকোনো প্রয়োজনে কিংবা বিপদে-আপদে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।’

উল্লেখ্য গত ১৫ মার্চ দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের দিনমজুর নজরুল ইসলাম হাওলাদারের ১০ বছরের শিশুকন্যা রাইসা মনিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশি বখাটে কিশোর সিফাত সিকদারের বিরুদ্ধে। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাইসার শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাইসাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রথমে তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে সেদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে নেওয়ার পথে একটি ভিডিও জবানবন্দি দেয় রাইসা মনি। ১১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে অগ্নিদগ্ধ শিশু রাইসাকে বলতে শোনা যায়- “আমারে খারাপ জিনিস কইছে, আমি হুনি নাই দেখে সিফাত আমার গায়ে আগুন দিছে।”

এদিকে এ ঘটনায় রাইসার বাবা নজরুল ইসলাম হাওলাদার বাদী হয়ে বখাটে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সিফাত সিকদার ও তার বাবা জালাল সিকদারকে আসামি করে বাবুগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরে আসামি গ্রেপ্তার না করে উল্টো বাদীর পরিবারকে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ১৮ মার্চ বিকেলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে এলাকাবাসী। মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে আসামি গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ভুঁইয়া ওরফে ব্যারিস্টার ফুয়াদ। তবে ওই আল্টিমেটামের সময় পার হওয়ার আগেই পরদিন ভোরবেলা বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের স্থানীয় এক নেতার হস্তক্ষেপে আসামি পিতা-পুত্র উভয়ে নাটকীয়ভাবে বাবুগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন। #