০৬:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

গৌরনদীতে আইনি জয়ের পরও হয়রানির শিকার আলামিন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, গৌরনদী:
‎বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পূর্ব চন্দ্রহার গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত একটি মামলায় আদালতের স্পষ্ট রায় এবং একাধিকবার আদালত নিযুক্ত কমিশনের মাধ্যমে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার পরও মো. আলামিন ভূইয়া নামের এক ব্যবসায়ীকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং আইনের শাসন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

‎তথ্যসূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের হরলাল মিস্ত্রি (৬৩), পিতা মৃত কৃষ্ণকান্ত মিস্ত্রি, ২০১৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর দলিল নং ২৬৮৬/১৩ এর মাধ্যমে মো. শহিদ ভূইয়ার ছেলে মো. আলামিন ভূইয়া (২৮), মো. রাজীব ভূইয়া (৩৬) ও মো. সাকিল ভূইয়া (১৯)-এর কাছে চন্দ্রহার বাজারের ৪ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। জমিটির চৌহদ্দি অনুযায়ী পূর্বে ক্লাব, পশ্চিমে ফারুক বেপারী, দক্ষিণে সরকারি রাস্তা এবং উত্তরে মালিক নিজে।

‎অভিযোগ রয়েছে, সাব-কবলা দলিল সম্পন্ন হওয়ার পর অধিক মুনাফার আশায় হরলাল মিস্ত্রি পূর্বের বিক্রয়কৃত জমি পুনরুদ্ধারের অপচেষ্টা চালিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং সেই ধারাবাহিকতায় আলামিন ভূইয়াকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির মধ্যে ফেলেন।

‎পরবর্তীতে মো. আলামিন ভূইয়া তার অংশের জমি যথাযথ নিয়মে মিউটেশন সম্পন্ন করেন (খতিয়ান নং ১৭৩, বিএস খতিয়ান নং ৫০, মৌজা পূর্ব চন্দ্রহার)। তবে জমি ক্রয়ের পর থেকেই বিরোধের সূত্রপাত হলে হরলাল মিস্ত্রি ২০১৫ সালের ২ মে বরিশাল সিভিল জজ আদালতে মামলা (নং ৪৮/২০১৫) দায়ের করেন।

‎দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ২২ মে আদালত আলামিন ভূইয়ার পক্ষে সুস্পষ্ট রায় প্রদান করে। রায়ের আলোকে ২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর আদালতের নিযুক্ত এডভোকেট কমিশনার কামাল হোসেন হাওলাদার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সরেজমিনে গিয়ে লিখিতভাবে জমির দখল বুঝিয়ে দেন।

‎তবুও বিরোধ থামেনি। বরং পুনরায় ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল বরিশাল জজ কোর্টের এডভোকেট কমিশনার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন একই প্রক্রিয়ায় আলামিন ভূইয়াকে জমির দখল বুঝিয়ে দেন, যা আদালতের রায় বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট প্রমাণ।

‎বর্তমানে ওই জমির ওপর সরকারি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ৪ তলা ফাউন্ডেশনের উপর ৩ তলা ভবন নির্মাণ করে সেখানে বসবাস ও ব্যবসা পরিচালনা করছেন আলামিন ভূইয়া।

‎কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আদালতের চূড়ান্ত রায় ও দুই দফা কমিশনের মাধ্যমে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার পরও একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আলামিন ভূইয়াকে নানাভাবে হয়রানি করে যাচ্ছে। কখনো মিথ্যা অভিযোগ, কখনো সামাজিকভাবে চাপ সৃষ্টি—এমনকি ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাকে অস্থির করে তোলার অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি আদালতের রায়ের প্রতি অবজ্ঞা এবং আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন।

‎আলামিন ভূইয়া বলেন, “আমি বৈধভাবে জমি ক্রয় করেছি, আদালতের রায় পেয়েছি এবং দুইবার কমিশনের মাধ্যমে দখল বুঝে পেয়েছি। এরপরও আমাকে অন্যায়ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এটি শুধু আমার প্রতি অন্যায় নয়, বরং আদালতের রায়ের প্রতি অবমাননাকর আচরণ। আমি প্রশাসন ও আদালতের কাছে ন্যায্য বিচার এবং নিরাপত্তা চাই।”

‎এ বিষয়ে হরলাল মিস্ত্রির ছেলে সজল মিস্ত্রির মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে হরলাল মিস্ত্রির সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানানো হয়। তবে তাকে পাওয়া না যাওয়ায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

‎স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, আদালতের চূড়ান্ত রায় কার্যকর হওয়ার পরও যদি একজন নাগরিককে বারবার হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে তা রাষ্ট্রের আইনি কাঠামো ও ন্যায়বিচারের প্রতি চ্যালেঞ্জস্বরূপ। তারা বলেন, আদালতের রায় অমান্য করা বা তা বাস্তবায়নে বাধা প্রদান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

‎এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে আদালতের রায় যথাযথভাবে কার্যকর থাকে, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং অযাচিত হয়রানি চিরতরে বন্ধ করা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০২:০০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
১৫ বার পড়া হয়েছে

গৌরনদীতে আইনি জয়ের পরও হয়রানির শিকার আলামিন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

আপডেট সময় ০২:০০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, গৌরনদী:
‎বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পূর্ব চন্দ্রহার গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত একটি মামলায় আদালতের স্পষ্ট রায় এবং একাধিকবার আদালত নিযুক্ত কমিশনের মাধ্যমে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার পরও মো. আলামিন ভূইয়া নামের এক ব্যবসায়ীকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং আইনের শাসন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

‎তথ্যসূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের হরলাল মিস্ত্রি (৬৩), পিতা মৃত কৃষ্ণকান্ত মিস্ত্রি, ২০১৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর দলিল নং ২৬৮৬/১৩ এর মাধ্যমে মো. শহিদ ভূইয়ার ছেলে মো. আলামিন ভূইয়া (২৮), মো. রাজীব ভূইয়া (৩৬) ও মো. সাকিল ভূইয়া (১৯)-এর কাছে চন্দ্রহার বাজারের ৪ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। জমিটির চৌহদ্দি অনুযায়ী পূর্বে ক্লাব, পশ্চিমে ফারুক বেপারী, দক্ষিণে সরকারি রাস্তা এবং উত্তরে মালিক নিজে।

‎অভিযোগ রয়েছে, সাব-কবলা দলিল সম্পন্ন হওয়ার পর অধিক মুনাফার আশায় হরলাল মিস্ত্রি পূর্বের বিক্রয়কৃত জমি পুনরুদ্ধারের অপচেষ্টা চালিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং সেই ধারাবাহিকতায় আলামিন ভূইয়াকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির মধ্যে ফেলেন।

‎পরবর্তীতে মো. আলামিন ভূইয়া তার অংশের জমি যথাযথ নিয়মে মিউটেশন সম্পন্ন করেন (খতিয়ান নং ১৭৩, বিএস খতিয়ান নং ৫০, মৌজা পূর্ব চন্দ্রহার)। তবে জমি ক্রয়ের পর থেকেই বিরোধের সূত্রপাত হলে হরলাল মিস্ত্রি ২০১৫ সালের ২ মে বরিশাল সিভিল জজ আদালতে মামলা (নং ৪৮/২০১৫) দায়ের করেন।

‎দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ২২ মে আদালত আলামিন ভূইয়ার পক্ষে সুস্পষ্ট রায় প্রদান করে। রায়ের আলোকে ২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর আদালতের নিযুক্ত এডভোকেট কমিশনার কামাল হোসেন হাওলাদার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সরেজমিনে গিয়ে লিখিতভাবে জমির দখল বুঝিয়ে দেন।

‎তবুও বিরোধ থামেনি। বরং পুনরায় ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল বরিশাল জজ কোর্টের এডভোকেট কমিশনার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন একই প্রক্রিয়ায় আলামিন ভূইয়াকে জমির দখল বুঝিয়ে দেন, যা আদালতের রায় বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট প্রমাণ।

‎বর্তমানে ওই জমির ওপর সরকারি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ৪ তলা ফাউন্ডেশনের উপর ৩ তলা ভবন নির্মাণ করে সেখানে বসবাস ও ব্যবসা পরিচালনা করছেন আলামিন ভূইয়া।

‎কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আদালতের চূড়ান্ত রায় ও দুই দফা কমিশনের মাধ্যমে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার পরও একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আলামিন ভূইয়াকে নানাভাবে হয়রানি করে যাচ্ছে। কখনো মিথ্যা অভিযোগ, কখনো সামাজিকভাবে চাপ সৃষ্টি—এমনকি ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাকে অস্থির করে তোলার অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি আদালতের রায়ের প্রতি অবজ্ঞা এবং আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন।

‎আলামিন ভূইয়া বলেন, “আমি বৈধভাবে জমি ক্রয় করেছি, আদালতের রায় পেয়েছি এবং দুইবার কমিশনের মাধ্যমে দখল বুঝে পেয়েছি। এরপরও আমাকে অন্যায়ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এটি শুধু আমার প্রতি অন্যায় নয়, বরং আদালতের রায়ের প্রতি অবমাননাকর আচরণ। আমি প্রশাসন ও আদালতের কাছে ন্যায্য বিচার এবং নিরাপত্তা চাই।”

‎এ বিষয়ে হরলাল মিস্ত্রির ছেলে সজল মিস্ত্রির মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে হরলাল মিস্ত্রির সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানানো হয়। তবে তাকে পাওয়া না যাওয়ায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

‎স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, আদালতের চূড়ান্ত রায় কার্যকর হওয়ার পরও যদি একজন নাগরিককে বারবার হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে তা রাষ্ট্রের আইনি কাঠামো ও ন্যায়বিচারের প্রতি চ্যালেঞ্জস্বরূপ। তারা বলেন, আদালতের রায় অমান্য করা বা তা বাস্তবায়নে বাধা প্রদান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

‎এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে আদালতের রায় যথাযথভাবে কার্যকর থাকে, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং অযাচিত হয়রানি চিরতরে বন্ধ করা যায়।