কালকিনিতে চাঁদাবাজির মামলা নিয়ে ধূম্রজাল: নেপথ্যে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের
কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধিঃ
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া ইউনিয়নের মোল্লার হাট বাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার বাদী ও আসামিপক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিন্ন তথ্যে জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালু ব্যবসায়ী ফিরোজ হাওলাদার বাদী হয়ে কালকিনি থানায় ইসমাইল সরদারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার প্রকৃত কারণ চাঁদাবাজি নয়, বরং দীর্ঘদিনের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাওনা টাকা নিয়ে ফিরোজ হাওলাদারের সঙ্গে মামলার প্রধান আসামি ইসমাইল সরদারের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। উপস্থিত ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে ফিরোজ হাওলাদার ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা চালালে স্থানীয়রা তাকে বাধা দেয় এবং অস্ত্রটি কেড়ে নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ভুক্তভোগী ইসমাইল সরদার অভিযোগ করে বলেন, “আমি ফিরোজের দোকান থেকে নিয়মিত তেল কিনতাম। আমার কিছু টাকা পাওনা ছিল। সেই টাকা চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর হামলা করেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টা চালান। এখন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উল্টো আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়েছেন।” তিনি আরও দাবি করেন, তার ভাইসহ এমন ব্যক্তিদেরও মামলায় আসামি করা হয়েছে যারা ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন না।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উদ্যোগ নিলেও বাদীপক্ষ তাতে সাড়া দেয়নি। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টি আপস-মীমাংসার পরামর্শ দেওয়া হলেও মামলা দায়ের হওয়ায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে ‘চাঁদাবাজি’র তকমা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে কি না।
কালকিনি থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।





























