০৪:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আড়িয়ালখাঁর প্রআাহ বন্ধ হয়ে গয়নাঘাটা খালটি সংস্কারের অভাবে চরম কৃষিকাজ সংকট

নাসির উদ্দিন সৈকত , গৌরনদী (বরিশাল):
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী স্থান গয়নাঘাটা  থেকে এলাকায় আড়িয়ালখাঁ নদী-এর পানি প্রবাহের প্রবেশমুখ দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ভরাট হয়ে থাকায় চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা। একসময় এই প্রাকৃতিক খালটি ছিল এলাকার কৃষি, নৌ-যোগাযোগ ও বাণিজ্যের প্রধান ভরসা। এখন নাব্যতা হারিয়ে খালটি প্রায় মৃতপ্রায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড গয়নাঘাটা থেকে ত্রিমুখী পয়সারহাট নদীতে গিয়ে শেষ হওয়া এই খাল দিয়ে দীর্ঘদিন ট্রলার ও নৌকায় মালামাল পরিবহন এবং মানুষের যাতায়াত চলত। বর্ষা-শুষ্ক—দুই মৌসুমেই খালটি ছিল জীবন-জীবিকার অবলম্বন। কিন্তু খালের দুই পাশে স্থাপিত সুইচগেট দীর্ঘসময় বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে পলি জমে খাল ভরাট হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে নাব্যতা হারিয়ে ফেলে।
কৃষকদের অভিযোগ, খালগুলোর নাব্যতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। জমির ধান ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি না পেয়ে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে, আয় কমেছে—দুই দিক থেকেই কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে খালের প্রবেশমুখ পুনরুদ্ধার এবং দ্রুত খনন কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। একই সঙ্গে সুইচগেটগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষি উৎপাদন, নৌ-যোগাযোগ ও পরিবেশ—সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপেই কেবল এই ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক খালটির প্রাণ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০৪:০৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৬ বার পড়া হয়েছে

আড়িয়ালখাঁর প্রআাহ বন্ধ হয়ে গয়নাঘাটা খালটি সংস্কারের অভাবে চরম কৃষিকাজ সংকট

আপডেট সময় ০৪:০৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নাসির উদ্দিন সৈকত , গৌরনদী (বরিশাল):
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী স্থান গয়নাঘাটা  থেকে এলাকায় আড়িয়ালখাঁ নদী-এর পানি প্রবাহের প্রবেশমুখ দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ভরাট হয়ে থাকায় চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা। একসময় এই প্রাকৃতিক খালটি ছিল এলাকার কৃষি, নৌ-যোগাযোগ ও বাণিজ্যের প্রধান ভরসা। এখন নাব্যতা হারিয়ে খালটি প্রায় মৃতপ্রায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড গয়নাঘাটা থেকে ত্রিমুখী পয়সারহাট নদীতে গিয়ে শেষ হওয়া এই খাল দিয়ে দীর্ঘদিন ট্রলার ও নৌকায় মালামাল পরিবহন এবং মানুষের যাতায়াত চলত। বর্ষা-শুষ্ক—দুই মৌসুমেই খালটি ছিল জীবন-জীবিকার অবলম্বন। কিন্তু খালের দুই পাশে স্থাপিত সুইচগেট দীর্ঘসময় বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে পলি জমে খাল ভরাট হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে নাব্যতা হারিয়ে ফেলে।
কৃষকদের অভিযোগ, খালগুলোর নাব্যতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। জমির ধান ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি না পেয়ে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে, আয় কমেছে—দুই দিক থেকেই কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে খালের প্রবেশমুখ পুনরুদ্ধার এবং দ্রুত খনন কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। একই সঙ্গে সুইচগেটগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষি উৎপাদন, নৌ-যোগাযোগ ও পরিবেশ—সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপেই কেবল এই ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক খালটির প্রাণ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।