০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

গৌরনদীতে চোরের বেপরোয়া তৎপরতা, মসজিদও রেহাই পাচ্ছে না-চরম আতঙ্কে এলাকাবাসী

গৌরনদী বরিশাল প্রতিনিধিঃ

‎বরিশালের গৌরনদী পৌর এলাকায় চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রা ছাড়িয়ে এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। একের পর এক বসতবাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান টার্গেট করে সংঘবদ্ধ চক্র বেপরোয়াভাবে চুরি চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে পুরো এলাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ পালরদী এলাকার ডাক্তার সমীর চাকলাদারের বাড়ির আঙিনা থেকে উন্নত মানের প্রায় ৪০০ মিটার বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। এর কিছু দিন পূর্বে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সংলগ্ন দক্ষিণ পালরদী বাইতুল জান্নাত জামে মসজিদ থেকে আইপিএস ও ব্যাটারি চুরি হয়, যা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে।

‎এতেই শেষ নয় দক্ষিণ পালরদী বাইতুল ফালা জামে মসজিদ থেকেও মটর, বৈদ্যুতিক তার এবং দানবাক্স চুরি করা হয়েছে। এমনকি গোলাম মালেক মৃধা সড়কের হাইওয়ে সংলগ্ন একই মসজিদের দানবাক্স ভেঙে নগদ অর্থ লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় স্পষ্ট হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে এলাকাটিকে টার্গেট করেছে।

‎দক্ষিণ পালরদী বাইতুল জান্নাত জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাহফুজ মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একই এলাকায় বারবার এমন চুরির ঘটনা প্রমাণ করে যে অপরাধীরা সম্পূর্ণভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মসজিদের মতো পবিত্র স্থানও আজ তাদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না—এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও নিন্দনীয়। আমরা প্রশাসনের কাছে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হবে, অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

‎ভুক্তভোগী ডাক্তার সমীর চাকলাদার বলেন, সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে, আমার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। আমার দৃঢ় সন্দেহ, এসব চুরির সঙ্গে জড়িতরা মাদকের সাথে সম্পৃক্ত। মাদকের অর্থ জোগাড় করতেই তারা এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

‎বাইতুল ফালা জামে মসজিদের মুসল্লী ও স্থানীয় বাসিন্দা এস এম জুলফিকার ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনায় আমরা সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। মসজিদের দানবাক্স পর্যন্ত ভেঙে নেওয়া হচ্ছে, এটি আমাদের জন্য লজ্জা ও আতঙ্কের বিষয়। আমরা প্রশাসনের কঠোর ও দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করছি, যেন এই চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায়।

‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, দৃশ্যমান আইনশৃঙ্খলা তৎপরতা না থাকায় অপরাধীরা দিন দিন আরও সাহসী হয়ে উঠছে। দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০৫:০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
২ বার পড়া হয়েছে

গৌরনদীতে চোরের বেপরোয়া তৎপরতা, মসজিদও রেহাই পাচ্ছে না-চরম আতঙ্কে এলাকাবাসী

আপডেট সময় ০৫:০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

গৌরনদী বরিশাল প্রতিনিধিঃ

‎বরিশালের গৌরনদী পৌর এলাকায় চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রা ছাড়িয়ে এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। একের পর এক বসতবাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান টার্গেট করে সংঘবদ্ধ চক্র বেপরোয়াভাবে চুরি চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে পুরো এলাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ পালরদী এলাকার ডাক্তার সমীর চাকলাদারের বাড়ির আঙিনা থেকে উন্নত মানের প্রায় ৪০০ মিটার বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। এর কিছু দিন পূর্বে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সংলগ্ন দক্ষিণ পালরদী বাইতুল জান্নাত জামে মসজিদ থেকে আইপিএস ও ব্যাটারি চুরি হয়, যা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে।

‎এতেই শেষ নয় দক্ষিণ পালরদী বাইতুল ফালা জামে মসজিদ থেকেও মটর, বৈদ্যুতিক তার এবং দানবাক্স চুরি করা হয়েছে। এমনকি গোলাম মালেক মৃধা সড়কের হাইওয়ে সংলগ্ন একই মসজিদের দানবাক্স ভেঙে নগদ অর্থ লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় স্পষ্ট হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে এলাকাটিকে টার্গেট করেছে।

‎দক্ষিণ পালরদী বাইতুল জান্নাত জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাহফুজ মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একই এলাকায় বারবার এমন চুরির ঘটনা প্রমাণ করে যে অপরাধীরা সম্পূর্ণভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মসজিদের মতো পবিত্র স্থানও আজ তাদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না—এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও নিন্দনীয়। আমরা প্রশাসনের কাছে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হবে, অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

‎ভুক্তভোগী ডাক্তার সমীর চাকলাদার বলেন, সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে, আমার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। আমার দৃঢ় সন্দেহ, এসব চুরির সঙ্গে জড়িতরা মাদকের সাথে সম্পৃক্ত। মাদকের অর্থ জোগাড় করতেই তারা এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

‎বাইতুল ফালা জামে মসজিদের মুসল্লী ও স্থানীয় বাসিন্দা এস এম জুলফিকার ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনায় আমরা সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। মসজিদের দানবাক্স পর্যন্ত ভেঙে নেওয়া হচ্ছে, এটি আমাদের জন্য লজ্জা ও আতঙ্কের বিষয়। আমরা প্রশাসনের কঠোর ও দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করছি, যেন এই চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায়।

‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, দৃশ্যমান আইনশৃঙ্খলা তৎপরতা না থাকায় অপরাধীরা দিন দিন আরও সাহসী হয়ে উঠছে। দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।