০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

সন্ধ্যার তীরে বন্ধুর গলাকাটা দেহ, মস্তক এখনো নিখোঁজ

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় গলাকাটা ও মাথাবিহীন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক যুবকের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের গনপাড়া গ্রামের গোপাল চন্দ্র দাস (৪০) বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, লাশের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মামুন মিয়ার ইটভাটার দক্ষিণুপশ্চিম পাশে সন্ধ্যা নদীর তীর থেকে গলাকাটা ও মস্তকবিহীন একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি পিরোজপুর জেলা মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনার সময় ইটভাটার আশপাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় একটি মোটরসাইকেলের গতিবিধি ধরা পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে সাদা রঙের একটি আরটিআর মোটরসাইকেলে করে তিন যুবক ইটভাটার ভেতরে প্রবেশ করেন। মোটরসাইকেলের মাঝখানে বসা ছিলেন গোপাল চন্দ্র দাস।

প্রায় ১২ মিনিট পর, বিকেল ৩টা ২৭ মিনিটের দিকে ওই মোটরসাইকেলে দুই যুবক দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে যান। পুলিশ বলছে, তারা কীভাবে বরিশাল থেকে ওই ইটভাটায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর কিছুক্ষণ পর ইটভাটার এক কর্মচারী নদীর পাড়ে গিয়ে মস্তকবিহীন লাশটি দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নিহত গোপাল চন্দ্র দাসের পরিচিত দুই ব্যক্তির ওপর সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁদের একজনের নাম সম্রাট এবং অন্যজন মো. রাজু। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বন্ধুত্বের সম্পর্কের আড়ালে কোনো বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তদন্তে মাদক কিংবা নারীঘটিত বিরোধের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের ধারণা, অন্য কোনো স্থান থেকে গোপালকে নির্জন ওই এলাকায় নিয়ে এসে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর লাশটি নদীর তীরে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। তবে এখনো পর্যন্ত নিহতের মস্তক উদ্ধার করা যায়নি।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পিবিআই, সিআইডি ও র‍্যাবের সদস্যরাও তদন্তে কাজ করছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, সন্দেহভাজনদের একজনকে ইতিমধ্যে বরিশাল থেকে আটক করা হয়েছে। অপরজনের গতিবিধি পুলিশের নজরে রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। আগামীকাল রবিবার এই বিষয়ে পুলিশ আনুষ্টানিকভাবে জানানোর কথা রয়েছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো গোপাল চন্দ্র দাসের মাথার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি কৌতূহলও বাড়ছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদঘাটনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা শনিবার থানায় এসে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। পারিবারিক সূত্রও ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছে না।
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে হতা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০৯:৪৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
৩ বার পড়া হয়েছে

সন্ধ্যার তীরে বন্ধুর গলাকাটা দেহ, মস্তক এখনো নিখোঁজ

আপডেট সময় ০৯:৪৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় গলাকাটা ও মাথাবিহীন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক যুবকের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের গনপাড়া গ্রামের গোপাল চন্দ্র দাস (৪০) বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, লাশের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মামুন মিয়ার ইটভাটার দক্ষিণুপশ্চিম পাশে সন্ধ্যা নদীর তীর থেকে গলাকাটা ও মস্তকবিহীন একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি পিরোজপুর জেলা মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনার সময় ইটভাটার আশপাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় একটি মোটরসাইকেলের গতিবিধি ধরা পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে সাদা রঙের একটি আরটিআর মোটরসাইকেলে করে তিন যুবক ইটভাটার ভেতরে প্রবেশ করেন। মোটরসাইকেলের মাঝখানে বসা ছিলেন গোপাল চন্দ্র দাস।

প্রায় ১২ মিনিট পর, বিকেল ৩টা ২৭ মিনিটের দিকে ওই মোটরসাইকেলে দুই যুবক দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে যান। পুলিশ বলছে, তারা কীভাবে বরিশাল থেকে ওই ইটভাটায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর কিছুক্ষণ পর ইটভাটার এক কর্মচারী নদীর পাড়ে গিয়ে মস্তকবিহীন লাশটি দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নিহত গোপাল চন্দ্র দাসের পরিচিত দুই ব্যক্তির ওপর সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁদের একজনের নাম সম্রাট এবং অন্যজন মো. রাজু। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বন্ধুত্বের সম্পর্কের আড়ালে কোনো বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তদন্তে মাদক কিংবা নারীঘটিত বিরোধের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের ধারণা, অন্য কোনো স্থান থেকে গোপালকে নির্জন ওই এলাকায় নিয়ে এসে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর লাশটি নদীর তীরে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। তবে এখনো পর্যন্ত নিহতের মস্তক উদ্ধার করা যায়নি।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পিবিআই, সিআইডি ও র‍্যাবের সদস্যরাও তদন্তে কাজ করছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, সন্দেহভাজনদের একজনকে ইতিমধ্যে বরিশাল থেকে আটক করা হয়েছে। অপরজনের গতিবিধি পুলিশের নজরে রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। আগামীকাল রবিবার এই বিষয়ে পুলিশ আনুষ্টানিকভাবে জানানোর কথা রয়েছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো গোপাল চন্দ্র দাসের মাথার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি কৌতূহলও বাড়ছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদঘাটনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা শনিবার থানায় এসে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। পারিবারিক সূত্রও ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছে না।
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে হতা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।