০২:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

গাজায় সৈন‌্য পাঠা‌নো ! কার নি‌র্দেশে? না‌কি উৎসা‌হি হ‌য়ে ?

হেলাল উদ্দিন : আমেরিকা অনুরোধ করেনি, ইসরায়েলও চায়নি—তারপরও বাংলাদেশ অতি উৎসাহী হয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়াই গাজায় সৈন্য পাঠানোর আগ্রহ দেখিয়েছে।

এখন দেশ-বিদেশে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে, আর প্রশ্ন উঠছে আমাদের কূটনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে।

যে বাংলাদেশ এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও ইরাক ও আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠাতে অস্বীকার করেছিল, সেই বাংলাদেশই এখন গাজায় সৈন্য পাঠানোর আগ্রহ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে—এই বৈপরীত্যই সবাইকে ভাবাচ্ছে।

ইসরায়েল এখন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তুরস্ক বা পাকিস্তানের সৈন্য তারা নেবে না। বাংলাদেশের সৈন্য নেবে কি না, সেটাও প্রশ্নসাপেক্ষ।

অথচ ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কাছে সৈন্য চেয়েছিল, তখনকার বিএনপি সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল—জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া কোনো সেনা পাঠানো হবে না।

জনমতের চাপ ও মুসলিম বিশ্বের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সেদিন বাংলাদেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছিল।

ঠিক একইভাবে ২০০৯ সালের দিকে আফগানিস্তানে তালেবান বিরোধী যুদ্ধে সহায়তার জন্য সৈন্য পাঠানোর অনুরোধও বাংলাদেশ নাকচ করেছিল।

তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বলেছিল, বাংলাদেশ সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না বরং পুনর্গঠন ও বেসামরিক সহায়তা দেবে।
এখন সেই নীতিগত দৃঢ়তা কোথায়?

আজকের সরকার কেন এমন একতরফা আগ্রহ দেখাচ্ছে, যেখানে আমেরিকা বা ইসরায়েলও আনুরোধ করেনি?

জনমতের চাপের মুখে এখন সরকার ধীরে চলো নীতি নিয়েছে, কিন্তু প্রশ্ন রয়েই যায়—আমাদের পররাষ্ট্রনীতি কি এতটাই নমনীয় হয়ে গেছে যে আমরা নিজেরা গিয়েই তুষ্টির নীতি নিচ্ছি?

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ১০:০১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
১২৯ বার পড়া হয়েছে

গাজায় সৈন‌্য পাঠা‌নো ! কার নি‌র্দেশে? না‌কি উৎসা‌হি হ‌য়ে ?

আপডেট সময় ১০:০১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

হেলাল উদ্দিন : আমেরিকা অনুরোধ করেনি, ইসরায়েলও চায়নি—তারপরও বাংলাদেশ অতি উৎসাহী হয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়াই গাজায় সৈন্য পাঠানোর আগ্রহ দেখিয়েছে।

এখন দেশ-বিদেশে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে, আর প্রশ্ন উঠছে আমাদের কূটনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে।

যে বাংলাদেশ এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও ইরাক ও আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠাতে অস্বীকার করেছিল, সেই বাংলাদেশই এখন গাজায় সৈন্য পাঠানোর আগ্রহ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে—এই বৈপরীত্যই সবাইকে ভাবাচ্ছে।

ইসরায়েল এখন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তুরস্ক বা পাকিস্তানের সৈন্য তারা নেবে না। বাংলাদেশের সৈন্য নেবে কি না, সেটাও প্রশ্নসাপেক্ষ।

অথচ ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কাছে সৈন্য চেয়েছিল, তখনকার বিএনপি সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল—জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া কোনো সেনা পাঠানো হবে না।

জনমতের চাপ ও মুসলিম বিশ্বের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সেদিন বাংলাদেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছিল।

ঠিক একইভাবে ২০০৯ সালের দিকে আফগানিস্তানে তালেবান বিরোধী যুদ্ধে সহায়তার জন্য সৈন্য পাঠানোর অনুরোধও বাংলাদেশ নাকচ করেছিল।

তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বলেছিল, বাংলাদেশ সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না বরং পুনর্গঠন ও বেসামরিক সহায়তা দেবে।
এখন সেই নীতিগত দৃঢ়তা কোথায়?

আজকের সরকার কেন এমন একতরফা আগ্রহ দেখাচ্ছে, যেখানে আমেরিকা বা ইসরায়েলও আনুরোধ করেনি?

জনমতের চাপের মুখে এখন সরকার ধীরে চলো নীতি নিয়েছে, কিন্তু প্রশ্ন রয়েই যায়—আমাদের পররাষ্ট্রনীতি কি এতটাই নমনীয় হয়ে গেছে যে আমরা নিজেরা গিয়েই তুষ্টির নীতি নিচ্ছি?