ড. আব্দুল মোমেন অজান্তেই এক ভয়ংকর সত্য ফাঁস করেছেন
হেলাল উদ্দিন :
ড. আব্দুল মোমেন অজান্তেই এক ভয়ংকর সত্য ফাঁস করেছেন। এটা কি নিছক বন্ধুত্ব, নাকি ক্ষমতার পালাবদলের সময়কার কোনো নীরব safe passage রাজনীতির ইঙ্গিত?
আওয়ামী সরকারের সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, ৫ আগস্টের পর টানা ৮ মাস তিনি দেশে আত্মগোপনে ছিলেন।
ঠিক এই সময়েই তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, বর্তমান অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমদ, তাকে ফোন করেছেন। অর্থাৎ ড. মোমেন কোথায় ছিলেন, কীভাবে আত্মগোপনে ছিলেন—তা কি তিনি জানতেন?
এই বক্তব্য আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন ড. মোমেন নিজেই বলছেন—“আমার বন্ধু সালেহউদ্দিন আমাকে ফোন করেছিলেন। তখন আলোচনা হচ্ছিল, তিনি চিফ অ্যাডভাইজার হতে পারেন। পরে ইউনূস সাহেবের নাম ঠিক হলে আমি তাকে বলি—ইউনূস ভাইকে বলো, মেন্ডেলার পথ ধরতে।”
ড. মোমেনের দাবি, এই পরামর্শ তিনি দিয়েছেন ২০২৪ সালের ৮ আগস্টের মধ্যেই। সময়টা খেয়াল করুন। তখন বাংলাদেশ উত্তাল।
ওই কয়েক দিন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য ছিল ভয়াবহ এক সময়—গ্রেপ্তার, হামলা ও প্রাণহানির আশঙ্কায় অনেকেই আত্মগোপনে ছিলেন।
এমন প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিরা কি অন্তর্বর্তী সরকারের কারও আশ্রয়-প্রশ্রয়েই আত্মগোপনে ছিলেন, পরে নিরাপদে দেশ ছাড়লেন?
ড. মোমেন তো তখন শুধু লুকিয়ে ছিলেন না। তিনি নতুন সরকারকে ‘মেন্ডেলার পথ’ ধরার পরামর্শও দিচ্ছিলেন।
অর্থাৎ, সেই চরম অস্থিতিশীল মুহূর্তে তিনি ছিলেন নিরাপদ, যোগাযোগে সক্রিয় এবং ভবিষ্যৎ সরকারের রূপরেখা নিয়ে পরামর্শদাতার ভূমিকায়।
বিশেষ করে যখন জানা যায়, তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাকে ফোন করে “খুশির খবর” জানাচ্ছিলেন—তখন প্রশ্নটা আরও জটিল হয়ে ওঠে। কীভাবে সম্ভব? হিসাব মিলছে না।
সরকারের কাছে তার অবস্থান অজানা ছিল না। আট মাস ধরে দেশে লুকিয়ে থেকেও তিনি কেন গ্রেপ্তার হলেন না?
এরপর নিরাপদে দেশ ত্যাগ করে ভারত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো আরও সন্দেহ তৈরি করে। যখন তিনি নিজেই দাবি করছেন, সরকারের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তিনি দেশ ত্যাগ করেছেন?
এতগুলো ঘটনা একসাথে ঘটলে সেগুলোকে নিছক কাকতালীয় বলা কঠিন। প্রশ্নটা অভিযোগের নয়, প্রশ্নটা রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার।































