গৌরনদী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা বদিউজ্জামান মিন্টুর
রিপোর্ট:-সৈকত নাসিমঃ
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু। তার এই ঘোষণার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বদিউজ্জামান মিন্টু গৌরনদী উপজেলার রাজনৈতিক, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে একজন জনবান্ধব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি সংবাদ প্রতিবেদন:
গৌরনদী পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা বদিউজ্জামান মিন্টুর, দোয়া চাইলেন পৌরবাসীর কাছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, গৌরনদী:
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গৌরনদী পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু। এ উপলক্ষে তিনি গৌরনদী পৌরবাসী, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বদিউজ্জামান মিন্টুকে একজন কর্মীবান্ধব, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। তাদের দাবি, আগামী পৌর নির্বাচনে গৌরনদী পৌরসভার মেয়র হিসেবে বদিউজ্জামান মিন্টুকেই দেখতে চান তারা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির রাজনীতিতে একটানা ৪১ বছর সক্রিয় থাকা মিন্টু রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উতরাই অতিক্রম করেছেন। বিগত সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে প্রায় ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে তাকে। এছাড়া হত্যার উদ্দেশ্যে সাতবার হামলারও শিকার হন তিনি। তবে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের মুখেও রাজনৈতিক আদর্শ থেকে একচুলও সরে দাঁড়াননি এই নেতা।
নেতাকর্মীরা জানান, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে বদিউজ্জামান মিন্টু সবসময় রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও সুস্থ হয়ে আবারও আন্দোলনের মাঠে ফিরে আসেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে ১৯৮৪ সালে গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনীতিতে পদার্পণ করেন বদিউজ্জামান মিন্টু। পরবর্তীতে ছাত্রদল, যুবদল এবং বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তার রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে—চাঁদশী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি, সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও সভাপতি, বরিশাল জেলা উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক এবং বর্তমানে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার কারণে বদিউজ্জামান মিন্টু গৌরনদী পৌরসভার মেয়র পদে একজন শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে বদিউজ্জামান মিন্টু বলেন, “রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রজীবন থেকে আজ পর্যন্ত বিএনপির একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে রাজপথে রয়েছি। আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়। জনগণ এবং কর্মীরাই আমার মূল শক্তি।”
তিনি আরও বলেন, “দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ চাইছেন আমি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গৌরনদী পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন করি। তাদের এই ভালোবাসা ও প্রত্যাশাকে সম্মান জানিয়ে আমি মেয়র পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”
বদিউজ্জামান মিন্টু আশা প্রকাশ করে বলেন, “আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ, সংগ্রাম ও দলের প্রতি আনুগত্য বিবেচনা করে দলের নীতিনির্ধারকরা জনগণের প্রত্যাশার যথাযথ মূল্যায়ন করবেন।”গৌরনদী পৌরসভার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উন্নয়ন, জনসেবা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে বদিউজ্জামান মিন্টুর প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে। ফলে আসন্ন পৌর নির্বাচনে তাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে বদিউজ্জামান মিন্টু বলেন, “গৌরনদী পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, দুর্নীতিমুক্ত ও নাগরিকবান্ধব পৌরসভায় রূপান্তরিত করার লক্ষ্য নিয়েই আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পৌরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে আমি সবসময় কাজ করেছি এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “নাগরিক সেবার মান উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে একটি উন্নত পৌরসভা গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির একজন ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে বদিউজ্জামান মিন্টুর রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা। দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তার ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে। ফলে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে তিনি শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।
ঘোষণার পর থেকে গৌরনদী পৌর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তার সমর্থকরা মনে করছেন, নির্বাচিত হলে তিনি পৌরসভার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
এদিকে বদিউজ্জামান মিন্টুর মেয়র পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা আশা প্রকাশ করেন, তার নেতৃত্বে গৌরনদী পৌরসভা উন্নয়ন ও সুশাসনের নতুন দিগন্তে প্রবেশ করবে।
আসন্ন গৌরনদী পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নানা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তখন বদিউজ্জামান মিন্টুর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা নির্বাচনী পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
























