১২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রেমে ব্যর্থতা, এক যুগ ধরে শেকলবন্দি মামুন! চিকিৎসার অভাবে নিভে যাচ্ছে জীবনের আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রেমিকার বিয়ের আঘাত সইতে না পেরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন মামুন। সেই থেকে কেটে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। এখন ৩৫ বছর বয়সী মামুন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের মোসলেম ব্যাপারীর ঘরে শেকলবন্দি অবস্থায় কাটাচ্ছেন তাঁর দিন। অর্থাভাবে থমকে গেছে চিকিৎসা, নিভু নিভু হয়ে যাচ্ছে এক তরুণের জীবনের প্রদীপ।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় সহপাঠীর সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন মামুন। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই প্রেমিকার বিয়ে হয়ে গেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। এক সময় হারিয়ে ফেলেন মানসিক ভারসাম্য।

মামুনের মা সোনা বানু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

ছেলে আমার খুব মেধাবী ছিল। প্রেমিকার বিয়ের পর থেকেই সব কিছু পাল্টে যায়। প্রায় আট বছর এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়িয়েছে। একবার হারিয়ে গিয়ে বাগেরহাট থেকে তাকে উদ্ধার করি। এরপর থেকে বাধ্য হয়ে শেকলে বেঁধে রাখি, যাতে আর হারিয়ে না যায়।”

 

প্রায় ১২ বছর ধরে এভাবেই শেকলবন্দি জীবন কাটছে মামুনের। পরিবারের সামান্য আয়-রোজগারে নিয়মিত চিকিৎসা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ধীরে ধীরে আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে মামুনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা।

বাবা মোসলেম ব্যাপারী বলেন,অর্থের অভাবে ছেলের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। স্বাভাবিক থাকলে ওকে আটকে রাখার প্রয়োজন হতো না। এখন শুধু চাই, কেউ যেন ছেলের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়—সে যেন আবার আগের মতো হাসতে পারে।”

 

গ্রামের মানুষজনও বলছেন, মামুনের চিকিৎসা করালে হয়তো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব। তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শেকলে বাঁধা এক তরুণের জীবনের এই গল্প শুধু দুঃখের নয়, বরং সমাজের দায়িত্ববোধের প্রশ্নও জাগিয়ে দেয়। মামুনের মতো আরও অনেক মানুষ আমাদের আশেপাশে হয়তো অপেক্ষা করছে একটুখানি সহানুভূতি আর সাহায্যের হাতের জন্য।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ১০:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
১০৮ বার পড়া হয়েছে

প্রেমে ব্যর্থতা, এক যুগ ধরে শেকলবন্দি মামুন! চিকিৎসার অভাবে নিভে যাচ্ছে জীবনের আলো

আপডেট সময় ১০:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রেমিকার বিয়ের আঘাত সইতে না পেরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন মামুন। সেই থেকে কেটে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। এখন ৩৫ বছর বয়সী মামুন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের মোসলেম ব্যাপারীর ঘরে শেকলবন্দি অবস্থায় কাটাচ্ছেন তাঁর দিন। অর্থাভাবে থমকে গেছে চিকিৎসা, নিভু নিভু হয়ে যাচ্ছে এক তরুণের জীবনের প্রদীপ।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় সহপাঠীর সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন মামুন। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই প্রেমিকার বিয়ে হয়ে গেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। এক সময় হারিয়ে ফেলেন মানসিক ভারসাম্য।

মামুনের মা সোনা বানু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

ছেলে আমার খুব মেধাবী ছিল। প্রেমিকার বিয়ের পর থেকেই সব কিছু পাল্টে যায়। প্রায় আট বছর এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়িয়েছে। একবার হারিয়ে গিয়ে বাগেরহাট থেকে তাকে উদ্ধার করি। এরপর থেকে বাধ্য হয়ে শেকলে বেঁধে রাখি, যাতে আর হারিয়ে না যায়।”

 

প্রায় ১২ বছর ধরে এভাবেই শেকলবন্দি জীবন কাটছে মামুনের। পরিবারের সামান্য আয়-রোজগারে নিয়মিত চিকিৎসা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ধীরে ধীরে আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে মামুনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা।

বাবা মোসলেম ব্যাপারী বলেন,অর্থের অভাবে ছেলের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। স্বাভাবিক থাকলে ওকে আটকে রাখার প্রয়োজন হতো না। এখন শুধু চাই, কেউ যেন ছেলের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়—সে যেন আবার আগের মতো হাসতে পারে।”

 

গ্রামের মানুষজনও বলছেন, মামুনের চিকিৎসা করালে হয়তো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব। তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শেকলে বাঁধা এক তরুণের জীবনের এই গল্প শুধু দুঃখের নয়, বরং সমাজের দায়িত্ববোধের প্রশ্নও জাগিয়ে দেয়। মামুনের মতো আরও অনেক মানুষ আমাদের আশেপাশে হয়তো অপেক্ষা করছে একটুখানি সহানুভূতি আর সাহায্যের হাতের জন্য।