০১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ঝিনাইদহের ঘোড়শালে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।।

শীতের আগমনী বার্তা শুরু হতেই ঝিনাইদহের ঘোড়শাল গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে খেজুর রস সংগ্রহের ব্যস্ততা। গ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে সারি সারি খেজুরগাছে এখন দেখা যাচ্ছে রসের হাঁড়ি, আর রাতের শেষ প্রহরে টুপটাপ রস পড়ার টানে দৌড়াদৌড়ি করছেন গাছিরা।

রাজশাহী অঞ্চল থেকে আগত অভিজ্ঞ গাছিরা এবার আগেভাগেই ঘোড়শাল এলাকায় ডেরা বেঁধেছেন। তাঁরা জানান, এবারের মৌসুমে গাছের অবস্থাও ভালো, ঠান্ডা ঠিকমতো পড়তে শুরু করায় রসের স্বাদ ও ঘনত্ব যথেষ্ট উন্নত। ফলে তৈরি হওয়া গুড় ও পাটালির মানও আগের বছরের তুলনায় আরও ভালো হবে বলে আশা করছেন তারা।

ভোরে সংগ্রহ করা রস নিয়ে স্থানীয় খড়ির চুল্লিতে চলছে গুড় বানানোর কাজ। হাঁড়ির উপচে পড়া ধোঁয়া আর মিষ্টি সুবাস পুরো গ্রামজুড়ে এক শীতকালীন উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিনই তৈরী হচ্ছে টকটকে লাল গুড়, পাশাপাশি পাটালি প্রস্তুত হচ্ছে জমাট বেধে।

এলাকার বাসিন্দারা বলেন, শীতকাল আসলেই ঘোড়শালের প্রকৃতি যেন নতুন রূপ নেয়। গাছিদের কুয়াশা ভেজা সকাল, রস সংগ্রহের টুংটাং শব্দ আর উনুনের ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে থাকা মিষ্টি গন্ধ—সব মিলিয়ে গ্রামজুড়ে শীতের আলাদা আবহ তৈরি হয়।

ব্যবসায়ীরাও আশা করছেন, মানসম্মত গুড় ও পাটালির কারণে এ বছর বাজারে চাহিদা আরও বাড়বে। স্থানীয়দের মতে, ঘোড়শাল গ্রাম এখন ঝিনাইদহের খেজুর রসের অন্যতম প্রধান উৎপাদনকারী এলাকায় পরিণত হয়েছে।

শুধু পেট ভরানো মিষ্টতা নয়—গাছিদের শ্রম, দক্ষতা ও গ্রামের সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে তৈরি হওয়া এই খেজুর গাছের রস, গুড় এবং পাটালি শীতের ঐতিহ্যকে ধরে রাখছে নতুন করে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০৮:৫৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
১৩৫ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহের ঘোড়শালে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

আপডেট সময় ০৮:৫৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।।

শীতের আগমনী বার্তা শুরু হতেই ঝিনাইদহের ঘোড়শাল গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে খেজুর রস সংগ্রহের ব্যস্ততা। গ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে সারি সারি খেজুরগাছে এখন দেখা যাচ্ছে রসের হাঁড়ি, আর রাতের শেষ প্রহরে টুপটাপ রস পড়ার টানে দৌড়াদৌড়ি করছেন গাছিরা।

রাজশাহী অঞ্চল থেকে আগত অভিজ্ঞ গাছিরা এবার আগেভাগেই ঘোড়শাল এলাকায় ডেরা বেঁধেছেন। তাঁরা জানান, এবারের মৌসুমে গাছের অবস্থাও ভালো, ঠান্ডা ঠিকমতো পড়তে শুরু করায় রসের স্বাদ ও ঘনত্ব যথেষ্ট উন্নত। ফলে তৈরি হওয়া গুড় ও পাটালির মানও আগের বছরের তুলনায় আরও ভালো হবে বলে আশা করছেন তারা।

ভোরে সংগ্রহ করা রস নিয়ে স্থানীয় খড়ির চুল্লিতে চলছে গুড় বানানোর কাজ। হাঁড়ির উপচে পড়া ধোঁয়া আর মিষ্টি সুবাস পুরো গ্রামজুড়ে এক শীতকালীন উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিনই তৈরী হচ্ছে টকটকে লাল গুড়, পাশাপাশি পাটালি প্রস্তুত হচ্ছে জমাট বেধে।

এলাকার বাসিন্দারা বলেন, শীতকাল আসলেই ঘোড়শালের প্রকৃতি যেন নতুন রূপ নেয়। গাছিদের কুয়াশা ভেজা সকাল, রস সংগ্রহের টুংটাং শব্দ আর উনুনের ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে থাকা মিষ্টি গন্ধ—সব মিলিয়ে গ্রামজুড়ে শীতের আলাদা আবহ তৈরি হয়।

ব্যবসায়ীরাও আশা করছেন, মানসম্মত গুড় ও পাটালির কারণে এ বছর বাজারে চাহিদা আরও বাড়বে। স্থানীয়দের মতে, ঘোড়শাল গ্রাম এখন ঝিনাইদহের খেজুর রসের অন্যতম প্রধান উৎপাদনকারী এলাকায় পরিণত হয়েছে।

শুধু পেট ভরানো মিষ্টতা নয়—গাছিদের শ্রম, দক্ষতা ও গ্রামের সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে তৈরি হওয়া এই খেজুর গাছের রস, গুড় এবং পাটালি শীতের ঐতিহ্যকে ধরে রাখছে নতুন করে।