সেনাবাহিনীর অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী শহীদ প্যাদাসহ ৮ সহযোগী আটক
কালের ধারা নিউজঃ
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি শহীদ প্যাদা (৪৯) এবং তার আট সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে শহীদ প্যাদাকে তার নিজ বাসভবন থেকে এবং তার সহযোগীদের শহীদ প্যাদার মালিকানাধীন মাছের ঘের এলাকা থেকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটককৃতরা ওই এলাকায় মাদক সেবনে লিপ্ত ছিল। শহীদ প্যাদা ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর ওপর জুলুম-নির্যাতন, চাঁদাবাজি, লুটপাট, জমি দখল, অর্থ আত্মসাৎ এবং অবৈধভাবে বালুমহল দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযান চলাকালে আটককৃতদের কাছ থেকে ইয়াবা, গাঁজা, মাদক সেবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম, বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে আটককৃত শীর্ষ সন্ত্রাসী শহীদ প্যাদা ও তার সহযোগী শামীম শেখ, শামীম মৃধা, সিরাজুল ইসলাম, শাওন শেখ, ফারুক শেখ, ওয়াশিম বেপারী, মামুন খান ও সুলতানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭ পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন ৬ পদাতিক ব্রিগেডের ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি বিশেষ দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানিক দল সূত্রে জানানো হয়, মাদক কারবারি ও সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে সেনাবাহিনী সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে শীর্ষ সন্ত্রাসী শহীদ প্যাদা ও তার সহযোগীদের আটকের ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, শহীদ প্যাদা বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি পদে থাকার সুবাদে বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।
স্থানীয়দের দাবি, শহীদ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। তারা বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সরদার খালেদ হোসেন স্বপনের গরুর ফার্ম থেকে প্রকাশ্যে গরু লুট এবং সম্প্রতি তার মাছের ঘের থেকে কয়েক লাখ টাকার মাছ লুট করে নেয়। এছাড়া এলাকায় মাদক কারবার বাড়িয়ে দিয়ে পুরো অঞ্চলকে মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল বলে অভিযোগ করেন তারা।



















