০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

বাবুগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে জাতীয় গণহত্যা দিবস পালিত

❑ আরিফ আহমেদ মুন্না ✍️

বরিশালের বাবুগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৫ মার্চ (বুধবার) গণহত্যা দিবসে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনার সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে নিহত শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভার সূচনা করা হয়। উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ ইসমাইল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ প্রদীপ কুমার সরকার, বাবুগঞ্জ থানার ওসি শেখ মোঃ এহতেশামুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক গোলাম মোস্তফা, বিআরডিবি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন স্বপন এবং বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘বাবুগঞ্জ উপজেলার সাতমাইল এলাকায় বরিশাল ক্যাডেট কলেজের পেছনের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে শহীদদের একটি গণকবর রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সেখানে অক্টোবর মাসের একদিনেই শতাধিক মানুষকে ধরে এনে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করেছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। অথচ সেই গণকবর গত ৫৫ বছরেও বধ্যভূমির স্বীকৃতি পায়নি। সেখানে গড়ে ওঠেনি কোনো স্মৃতিস্তম্ভ। গণহত্যার সাক্ষী সেই স্মৃতি বিজড়িত জায়গাটি দখল করে রেখেছে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ। তারা সেই জায়গাটি সংরক্ষণ করেনি কিংবা শহীদদের স্মরণে কোনো স্থাপনাও নির্মাণ করেনি।’

আলোচনা সভার সভাপতি বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব, আমাদের অহংকারের একটা জায়গা। আমি যখন কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দেখি তখন শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে। যখন কোনো মুক্তিযোদ্ধার দুঃখ-কষ্টের কথা শুনি তখন নিজের অজান্তেই চোখ ভিজে যায়। মুক্তিযুদ্ধকে আমাদের ধারণ করতে হবে এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। তারা ২৫ মার্চের গণহত্যার সেই ভয়াবহতা দেখেনি, মুক্তিযুদ্ধের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলো তাদের অজানা। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদের সবার।’ #

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০১:৫০:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
২৫ বার পড়া হয়েছে

বাবুগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে জাতীয় গণহত্যা দিবস পালিত

আপডেট সময় ০১:৫০:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

বরিশালের বাবুগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৫ মার্চ (বুধবার) গণহত্যা দিবসে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনার সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে নিহত শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভার সূচনা করা হয়। উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ ইসমাইল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ প্রদীপ কুমার সরকার, বাবুগঞ্জ থানার ওসি শেখ মোঃ এহতেশামুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক গোলাম মোস্তফা, বিআরডিবি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন স্বপন এবং বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘বাবুগঞ্জ উপজেলার সাতমাইল এলাকায় বরিশাল ক্যাডেট কলেজের পেছনের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে শহীদদের একটি গণকবর রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সেখানে অক্টোবর মাসের একদিনেই শতাধিক মানুষকে ধরে এনে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করেছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। অথচ সেই গণকবর গত ৫৫ বছরেও বধ্যভূমির স্বীকৃতি পায়নি। সেখানে গড়ে ওঠেনি কোনো স্মৃতিস্তম্ভ। গণহত্যার সাক্ষী সেই স্মৃতি বিজড়িত জায়গাটি দখল করে রেখেছে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ। তারা সেই জায়গাটি সংরক্ষণ করেনি কিংবা শহীদদের স্মরণে কোনো স্থাপনাও নির্মাণ করেনি।’

আলোচনা সভার সভাপতি বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব, আমাদের অহংকারের একটা জায়গা। আমি যখন কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দেখি তখন শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে। যখন কোনো মুক্তিযোদ্ধার দুঃখ-কষ্টের কথা শুনি তখন নিজের অজান্তেই চোখ ভিজে যায়। মুক্তিযুদ্ধকে আমাদের ধারণ করতে হবে এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। তারা ২৫ মার্চের গণহত্যার সেই ভয়াবহতা দেখেনি, মুক্তিযুদ্ধের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলো তাদের অজানা। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদের সবার।’ #