গৌরনদীতে পূর্ব বিরোধের জেরে হামলা, আহত ৪
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সালতা গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের ৪ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। পাশাপাশি হামলার সময় স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের সালতা গ্রামের বাসিন্দা চম্পা বেগম (৫০) তার স্বামী মজিবর খান ও ছেলেদের নিয়ে পুরাতন বসতবাড়ির পাশের জমিতে কৃষিকাজ করে আসছিলেন। জমির পানি নিষ্কাশন নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় ড্রেনের মাধ্যমে পানি সরানোর ব্যবস্থা করা হলেও এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২৩ মার্চ ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটের সময় মজিবর খান ও তার ছেলে ইমরান খান জমি থেকে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের পথরোধ করে। এ সময় আসামিরা এলোপাথাড়িভাবে মারধর শুরু করে।
হামলায় মজিবর খানকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে পড়ে থাকা অবস্থায় মারধর করা হয়। এ সময় ইমরান খান এগিয়ে এলে তার ওপরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তার হাত ও মাথায় গুরুতর জখম হয়।
পরবর্তীতে পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। চম্পা বেগম অভিযোগ করেন, হামলার সময় তাকে মারধর করে তার গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং কানে থাকা ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
এছাড়া তার অপর ছেলে আসিফ খানকেও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় চম্পা বেগম বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। অভিযোগে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার পুলিশ জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
































