০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

ও‌সি হেলা‌লের ঘুষ দুর্নী‌তির বিরু‌দ্ধে নিউজ করায় ৫ টি মিথ‌্যা মামলায় কারাগা‌রে সাংবা‌দিক আনোয়ার

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থানার তৎকালীন ওসি আল হেলাল মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় দৈনিক গণকণ্ঠের সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনকে তিনি মোট ৫টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখান। অভিযোগ রয়েছে, এসব ‘সাজানো মামলায়’ কয়েক মাস ধরে আনোয়ার কারাগারে রয়েছেন।

সাংবাদিক আনোয়ারের পরিবার জানায়, ওসির ভয়ে তারা টানা দুই মাস নিজ বাড়িতে থাকতে পারেননি। এসআই জাহেদুল নামে এক কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতেন বলেও পরিবারটি অভিযোগ করে। সহযোগিতা চাইলে আমি বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করি। প্রায় ১৫ দিন আগে ওসি আল হেলাল মাহমুদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে আনোয়ারের মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বলেন আপনি নিউজ করেন, আপনার নিউজে আমার কিছুই হবে না।”

সাংবা‌দিক খাইরুল আলম রা‌ফিক ব‌লেন, একজন সাংবাদিক হিসেবে সহকর্মীর বিপদে এগিয়ে আসাই আমার দায়িত্ব। কিন্তু এরপরই ওসি আল হেলাল মাহমুদ একটি বাটপার সিন্ডিকেটের উস্কানিতে আমাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করেন। আমি প্রতিক্রিয়া দেখাইনি, বরং অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছিলাম। চারটি তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের পরই কর্তৃপক্ষ তাকে ভুরুঙ্গামারী থানা থেকে তাকে রাজশাহী রেঞ্জে বদলি করেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগের তদন্ত চলমান।

সংবাদ প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় ওসি আল হেলাল মাহমুদ এআই দিয়ে তৈরি কিছু ছবি আমার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে হুমকি দেন। তিনি ভেবেছিলেন এসব কৃত্রিম ছবি পাঠালে আমি ভয় পেয়ে থেমে যাব—কিন্তু তা হয়নি। সূত্র জানায়, তার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি রাজশাহীর স্থানীয় সাংবাদিকরাও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।
পুরো ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় জনমনে এবং সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক সমালোচনা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০৭:১০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
৯ বার পড়া হয়েছে

ও‌সি হেলা‌লের ঘুষ দুর্নী‌তির বিরু‌দ্ধে নিউজ করায় ৫ টি মিথ‌্যা মামলায় কারাগা‌রে সাংবা‌দিক আনোয়ার

আপডেট সময় ০৭:১০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থানার তৎকালীন ওসি আল হেলাল মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় দৈনিক গণকণ্ঠের সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনকে তিনি মোট ৫টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখান। অভিযোগ রয়েছে, এসব ‘সাজানো মামলায়’ কয়েক মাস ধরে আনোয়ার কারাগারে রয়েছেন।

সাংবাদিক আনোয়ারের পরিবার জানায়, ওসির ভয়ে তারা টানা দুই মাস নিজ বাড়িতে থাকতে পারেননি। এসআই জাহেদুল নামে এক কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতেন বলেও পরিবারটি অভিযোগ করে। সহযোগিতা চাইলে আমি বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করি। প্রায় ১৫ দিন আগে ওসি আল হেলাল মাহমুদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে আনোয়ারের মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বলেন আপনি নিউজ করেন, আপনার নিউজে আমার কিছুই হবে না।”

সাংবা‌দিক খাইরুল আলম রা‌ফিক ব‌লেন, একজন সাংবাদিক হিসেবে সহকর্মীর বিপদে এগিয়ে আসাই আমার দায়িত্ব। কিন্তু এরপরই ওসি আল হেলাল মাহমুদ একটি বাটপার সিন্ডিকেটের উস্কানিতে আমাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করেন। আমি প্রতিক্রিয়া দেখাইনি, বরং অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছিলাম। চারটি তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের পরই কর্তৃপক্ষ তাকে ভুরুঙ্গামারী থানা থেকে তাকে রাজশাহী রেঞ্জে বদলি করেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগের তদন্ত চলমান।

সংবাদ প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় ওসি আল হেলাল মাহমুদ এআই দিয়ে তৈরি কিছু ছবি আমার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে হুমকি দেন। তিনি ভেবেছিলেন এসব কৃত্রিম ছবি পাঠালে আমি ভয় পেয়ে থেমে যাব—কিন্তু তা হয়নি। সূত্র জানায়, তার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি রাজশাহীর স্থানীয় সাংবাদিকরাও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।
পুরো ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় জনমনে এবং সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক সমালোচনা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।