৭১” মঞ্চ নাম দিয়ে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর অংশ হিসেবে ওই আয়োজন _ _ _এম আব্দুল্লাহ খান
✔️ বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ৭১ মঞ্চ নামের একটি নতুন গজানো সংগঠন গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে। ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবিদার একদল লোক সেখানে হাজির হয়ে ঘেরাও করে, শ্লোগান দিয়ে অনুষ্ঠানটি বাধাগ্রস্ত করে। তাদের দাবি- ৭১ মঞ্চ নাম দিয়ে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর অংশ হিসেবে ওই আয়োজন। এক পর্যায়ে পুলিশ এসে আয়োজক, আলোচকসহ সম্ভবত ১৬ জনকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। রাতে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দিয়ে আজ কোর্টে চালান দেয়। আদালত তাদের জেলে পাঠিয়েছে। কোর্ট প্রাঙ্গণে আটককৃতদের কয়েকজনের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া গণমাধ্যম ও ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে ঘুরছে।
✔️ আটক ১৬ জনের মধ্যে আলোচিত ৩ জন। লতিফ সিদ্দিকী বরাবরই আলোচিত। ধর্ম নিয়ে, হজ নিয়ে, আরও নানা বিষয়ে বিতর্কিত বক্তব্য ও ভূমিকার জন্যে রাজনীতিতে কোনঠাসা ছিলেন। আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছিল। যদিও ‘বঙ্গবন্ধু লীগে’ ভাই কাদের সিদ্দিকীর মতোই আছেন নিবেদিত। লতিফ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানে তাঁকে ডেকেছেন জেড আই খান পান্না। হালে শেখ হাসিনার জন্যে সবচেয়ে দরদী, সহমর্মি ও তাঁর পক্ষে আইনী লড়াইয়ের ঘোষণা দানকারী আইনজীবী তিনি । তার মানে হচ্ছে অনুষ্ঠানটির উদ্যোক্তা এই খান পান্না। তিনি কিন্তু অনুষ্ঠানে হাজির হননি বা হওয়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বলা হয়েছিল প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন- ড. কামাল হোসেন। তিনিও গরহাজির ছিলেন। গণফোরাম প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, ড. কামাল হোসেনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে প্রতারণামূলকভাবে।
আরেক আলোচিত বক্তা ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন। এই কার্জন কে? তিনি এক সময় দৈনিক সংবাদের সাংবাদিক ছিলেন। তখন তাঁকে দেখেছি আওয়ামী লীগ ও বাম রাজনীতির অ্যাক্টিভিজমে। বিশ্বিবদ্যালয় শিক্ষক হওয়ার পর সেই অ্যাক্টিভিজমে কোন ব্যত্যয় দেখিনি। একটি টকশোতে পেয়েছিলাম। শেখ হাসিনার প্রতি অন্ধ আনুগত্যের কারণেই যে পুরষ্কার হিসেবে ঢাবিতে চাকরি পেয়েছেন তা উল্লেখ বাহুল্য। গ্রেফতারের পর আরেকজন বীরত্ব প্রদর্শন করছেন, তিনি সাংবাদিক। মঞ্জুরুল আলম পান্না। তাঁর সাংবাদিকতার ক্যারিয়ার নিয়ে অনেকে ফেসবুকে অনেক আলাপ তুলেছেন। সেদিকে যাচ্ছি না। তিনি কিন্তু অনুষ্ঠানের সংবাদ কভার করতে যাননি। পান্না মূলতঃ অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক, সংগঠক। সাম্প্রতিক সময়ে পতিত ফ্যাসিস্টকে নরমালাইজ করতে যে কয়জন টিভি টকশোতে উচ্চকণ্ঠ, তাদের একজন পান্না। তাঁকে একটু বেশিই ক্রেজি দেখা যাচ্ছে। আরেক আলোচক জনতার মঞ্চের মূল সংগঠক আবু আলম শহীদ খান সম্পর্কে কয়েদিন আগে লিখেছিলাম।
✔️ এখন প্রশ্ন হলো অনুষ্ঠানটি কি আর দশটি আয়োজনের মতো সাধারণ গোলটেবিল আলোচনা ছিল? এ সংগঠনটি কবে পয়দা হলো? কারা এই সংগঠনের নেতৃত্ব? কে কোন পদে? অর্থের যোগানদাতা কে বা কারা?
✔️ রিপোর্টার্স ইউনিটি এক বিবৃতি দিয়ে অনুষ্ঠান ভন্ডুল ও আটকের নিন্দা করেছে। কিন্তু তারা হল বুকিংয়ের সময় কি একবারও জানতে চেয়েছে, যে এ সংগঠন কবে জন্মালো। একটা নাজুক সময়ে তারা যে বিষয়ে আলোচনা করতে চাচ্ছে তা কি স্বাভাবিক মনে হয়েছে? রিপোর্টার হিসেবে ইউনিটির নেতারা কি জানেন না যে আয়োজকদের সাম্প্রতিক ভূমিকা গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী? তাঁরা মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলেছেন, অনুষ্ঠান করার স্বাধীনতার কথা বলেছেন। জানার আগ্রহ, আগামীকাল আওয়ামী লীগ বা নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ কিংবা হিজবুত তাহরীর হল চাইলেও দেবেন? আওয়ামী লীগের সময়ে হল বুকিংয়ের আবেদন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠিয়ে তাদের ক্লিয়ারেন্স নেওয়ার নিয়ম হয়েছিল একবার। মাহমুদুর রহমানের সংবাদ সম্মেলনের জন্যে হল চেয়ে পাওয়া যায়নি। নিজেরা বিচার বিবেচনা না করলে আবারও হল বুকিং গোয়েন্দা সংস্থার এখতিয়ারে যাওয়ার আশংকা করি।
✔️ সাংবাদিক নিপীড়নের নিন্দা করি। গত ১৫ বছর সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিরামহীন লড়াই করেছি। এখনও প্রতিবাদ জানাচ্ছি, পাশে থাকার চেষ্টা করছি। কিন্তু সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না সাংবাদিকতার জন্যে গ্রেফতার হননি। হয়েছেন অ্যাক্টিভিজমের জন্যে। ড. ইউনূস সরকারকে উৎখাত করে ফ্যাসিস্টদের ফেরানোর জন্যে দিল্লিতে এস আলম যে আড়াই হাজার কোটি টাকা হস্তান্তর করেছেন তার ব্যবহার ডিআরইউর ওই অনুষ্ঠান থেকে শুরু হয়েছে কিনা তা সন্দেহ করার অবকাশ রয়েছে। ১৫ বছর সকল অপকর্ম ও অপশাসনের ঢাল ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শেখ মুজিবের দেবত্ব। এখন ফ্যাসিবাদ ফেরানোর পাটাতন তৈরি করার অপচেষ্টা চলছে একই হাতিয়ার দিয়ে। এটা বুঝার জন্যে রকেট সায়েন্স জানার দরকার নেই।

✔️ ডিবি অনুষ্ঠান থেকে হেফাজতে নিয়ে কেন সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দিল, তা তাদেরকে স্পষ্ট করতে হবে। তা নাহলে দেশ বিদেশে ভুল বার্তা দেবে। জিজ্ঞাসাবাদে দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টার কোন প্রমাণ পেয়ে থাকলে জানানো উচিত। না পেয়ে থাকলে তাদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিলো। গোয়েন্দা সংস্থার কাছে যদি এমন কোন তথ্য থেকে থাকে যে, ৭১ মঞ্চ পতিত আওয়ামী লীগের ছায়া সংগঠন। বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠান সফল হলে পরে আরও বড়ো পরিসরে এই ব্যানারে নামার প্রস্তুতির তথ্য থাকলে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত। তা না হলে গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের অনেকে বিভ্রান্ত হয়ে সরকারকে এক হাত নিচ্ছেন।


























