০৫:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

বরিশালে বিদ্রোহীদের চাপে কোণঠাসা বিএনপি প্রার্থীরা

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহে নেমেছেন দলটির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা ও তাঁদের সমর্থকরা। নিজ নিজ আসনে মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে না থাকা, আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতিতদের খোঁজখবর না নেওয়া এবং কোনো কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলছেন বিক্ষুব্ধরা।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া), বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী), বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) ও বরিশাল-৫ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এসব দাবিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ এমনকি সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটছে। দাবি মানা না হলে কেউ কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া)
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দীন স্বপন। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে এখনো মাঠে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) আকন কুদ্দুসুর রহমান।
স্বপনের মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই সোবাহান ও আকন কুদ্দুস সমর্থিত নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ইতোমধ্যে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলায় প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে একাধিক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এছাড়া আগৈলঝাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ স্বপনের মনোনয়ন বাতিল করে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহানকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে রাজপথে নামেন। তাদের অভিযোগ, ২০০১ সালে স্বপন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, হামলা ও মামলা হয়। সে সময় বহু মানুষ প্রাণভয়ে রামশীল এলাকায় আশ্রয় নেন। অভিযোগে বলা হয়, তখন সোবাহান হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়ে রক্ষাকবচের ভূমিকা পালন করেন।
দলীয় সূত্র বলছে, সোবাহানকে মনোনয়ন না দিলে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারেন। একইভাবে আকন কুদ্দুসুর রহমানের সমর্থকরাও পৃথক কর্মসূচি পালন করছেন। এসব কর্মসূচির ফলে স্বপন চাপের মুখে পড়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই সুযোগ কাজে লাগাতে তৎপর হয়ে উঠেছে সমমনা ইসলামী আট দলীয় জোট।
মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুস সোবাহান বলেন, “এ আসনে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি জনবিচ্ছিন্ন। মানুষ তাকে মেনে নেয়নি। জনগণ চাইলে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন করব।”
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী)
এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জয়নুল আবেদীনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং মুলাদী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সত্তার খান। তাদের সমর্থকরা ইতোমধ্যে একাধিক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
গত বুধবার জয়নুল আবেদীনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে আব্দুস সত্তার খানের সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। একই দাবিতে এর আগে বাবুগঞ্জে সেলিমা রহমানের সমর্থকরা মশাল মিছিলও করেন।
জেলা যুবদলের সহসভাপতি আওলাদ হোসেন বলেন, “জয়নুল আবেদীন একজন জনবিচ্ছিন্ন নেতা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি আগে দুবার নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। সেলিমা রহমান জনপ্রিয় নেত্রী ও আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত।”
অন্যদিকে আব্দুস সত্তার খান বলেন, “জনগণ আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়াতে চাপ দিচ্ছেন। প্রার্থী পরিবর্তন না হলে আমি জনগণের সিদ্ধান্তই মেনে নেব।”
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ)
এ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানকে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদের সমর্থকরা।
মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদ বলেন, “গত ১৭ বছর আওয়ামী দুঃশাসনে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। অথচ যিনি মনোনয়ন পেয়েছেন, তিনি দীর্ঘ সময় এলাকায় ছিলেন না। এ কারণেই নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ।”
বরিশাল-৫
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার। তবে কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাছের মো. রহমাতুল্লাহ ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাছরিন এখনো মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
গত ১৪ ডিসেম্বর সরোয়ারের উপস্থিতিতেই নাছরিন তার সমর্থকদের হামলার শিকার হন। এতে দলীয় কোন্দল আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। দলীয় সূত্রের মতে, এ আসনেও বিদ্রোহী প্রার্থীর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
বিএনপি যখন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিদ্রোহে জর্জরিত, তখন এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইসলামী ঐক্যজোটসহ অন্যান্য জোট। তারা ব্যাপক প্রচার চালিয়ে নির্বাচনে বড় চমক দেওয়ার আশায় রয়েছে।
বরিশালের চারটি আসনে বিএনপির এই অন্তর্দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত দলটির নির্বাচনী ফলাফলে কী প্রভাব ফেলে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০১:৪৯:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
১৭৭ বার পড়া হয়েছে

বরিশালে বিদ্রোহীদের চাপে কোণঠাসা বিএনপি প্রার্থীরা

আপডেট সময় ০১:৪৯:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহে নেমেছেন দলটির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা ও তাঁদের সমর্থকরা। নিজ নিজ আসনে মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে না থাকা, আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতিতদের খোঁজখবর না নেওয়া এবং কোনো কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলছেন বিক্ষুব্ধরা।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া), বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী), বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) ও বরিশাল-৫ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এসব দাবিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ এমনকি সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটছে। দাবি মানা না হলে কেউ কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া)
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দীন স্বপন। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে এখনো মাঠে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) আকন কুদ্দুসুর রহমান।
স্বপনের মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই সোবাহান ও আকন কুদ্দুস সমর্থিত নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ইতোমধ্যে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলায় প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে একাধিক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এছাড়া আগৈলঝাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ স্বপনের মনোনয়ন বাতিল করে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহানকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে রাজপথে নামেন। তাদের অভিযোগ, ২০০১ সালে স্বপন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, হামলা ও মামলা হয়। সে সময় বহু মানুষ প্রাণভয়ে রামশীল এলাকায় আশ্রয় নেন। অভিযোগে বলা হয়, তখন সোবাহান হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়ে রক্ষাকবচের ভূমিকা পালন করেন।
দলীয় সূত্র বলছে, সোবাহানকে মনোনয়ন না দিলে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারেন। একইভাবে আকন কুদ্দুসুর রহমানের সমর্থকরাও পৃথক কর্মসূচি পালন করছেন। এসব কর্মসূচির ফলে স্বপন চাপের মুখে পড়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই সুযোগ কাজে লাগাতে তৎপর হয়ে উঠেছে সমমনা ইসলামী আট দলীয় জোট।
মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুস সোবাহান বলেন, “এ আসনে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি জনবিচ্ছিন্ন। মানুষ তাকে মেনে নেয়নি। জনগণ চাইলে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন করব।”
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী)
এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জয়নুল আবেদীনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং মুলাদী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সত্তার খান। তাদের সমর্থকরা ইতোমধ্যে একাধিক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
গত বুধবার জয়নুল আবেদীনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে আব্দুস সত্তার খানের সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। একই দাবিতে এর আগে বাবুগঞ্জে সেলিমা রহমানের সমর্থকরা মশাল মিছিলও করেন।
জেলা যুবদলের সহসভাপতি আওলাদ হোসেন বলেন, “জয়নুল আবেদীন একজন জনবিচ্ছিন্ন নেতা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি আগে দুবার নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। সেলিমা রহমান জনপ্রিয় নেত্রী ও আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত।”
অন্যদিকে আব্দুস সত্তার খান বলেন, “জনগণ আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়াতে চাপ দিচ্ছেন। প্রার্থী পরিবর্তন না হলে আমি জনগণের সিদ্ধান্তই মেনে নেব।”
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ)
এ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানকে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদের সমর্থকরা।
মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদ বলেন, “গত ১৭ বছর আওয়ামী দুঃশাসনে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। অথচ যিনি মনোনয়ন পেয়েছেন, তিনি দীর্ঘ সময় এলাকায় ছিলেন না। এ কারণেই নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ।”
বরিশাল-৫
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার। তবে কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাছের মো. রহমাতুল্লাহ ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাছরিন এখনো মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
গত ১৪ ডিসেম্বর সরোয়ারের উপস্থিতিতেই নাছরিন তার সমর্থকদের হামলার শিকার হন। এতে দলীয় কোন্দল আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। দলীয় সূত্রের মতে, এ আসনেও বিদ্রোহী প্রার্থীর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
বিএনপি যখন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিদ্রোহে জর্জরিত, তখন এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইসলামী ঐক্যজোটসহ অন্যান্য জোট। তারা ব্যাপক প্রচার চালিয়ে নির্বাচনে বড় চমক দেওয়ার আশায় রয়েছে।
বরিশালের চারটি আসনে বিএনপির এই অন্তর্দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত দলটির নির্বাচনী ফলাফলে কী প্রভাব ফেলে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।।