০২:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

ইতা‌লি‌তে বাঙ্গালী একজন লুৎফর রহমান

লুৎফর রহমান তালুকদার বাংলাদেশি মানুষ,যি‌নি ইতালি পাসপোর্টধারী নাগরিক

৩০ অক্টোবর ১৯৫০ স‌নে ব‌রিশা‌লের ঝালকাঠি জেলা সদর উপজেলার মধ্য চাদকাঠী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জম্মগ্রহন ক‌রেন ।

তার পিতার নাম তোরাব আলী তালুকদার। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।

লুৎফর রহমান তালুকদার ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ৯ নম্বর সেক্টরে বেস ক্যাম্প কমান্ডার মেহেদী আলী ইমামের অধীনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরিতে যোগ দেন।
পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস উদ্বোধনের সময় তিনি ইতালিতে প্রেরিত হন এবং দূতাবাসে চাকরিজীবন শুরু করেন।

তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পরদিন থেকেই তিনি দূতাবাসে যাওয়া বন্ধ করে দেন।
তিনি জানান, “সেদিন শুক্রবার ছিল—ইতালিতে ছুটির দিন। আমি বাসায় ছিলাম। তখন বিবিসি ও সিএনএনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের হত্যার খবর প্রচারিত হয়। খবরটি শুনে আমি কান্নায় ভেঙে পড়ি।”

পরদিন তিনি পদত্যাগপত্র লিখে ডাকযোগে পাঠান। এরপর জানতে পারেন, খন্দকার মোশতাক আহমদের সরকার তাঁকে ব্ল্যাকলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বাধ্য হয়ে তিনি সুইজারল্যান্ডে চলে যান।
পরবর্তীতে হিউম্যান রাইটস কমিশনের সহায়তায় পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব পান এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন। পরে ইতালিতে ফিরে এসে ইতালীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর ইতালিতে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক ইকবাল আতাহার। সে সময় পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ইকবাল আতাহার স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাঁকেই তখন ইতালিতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল।

লুৎফর রহমান তালুকদার প্রথম বাংলাদেশি মানুষ,যি‌নি ইতালি পাসপোর্টধারী নাগরিক (১৯৮১ সাল)। ১৯৭৭ সা‌লের ২২ ফেব্রুয়ারী ইতা‌লিতে প্রথম কো‌নো বাংলা‌দেশী সংগঠন “বাংলা‌দেশ সাংস্কৃ‌তিক স‌মি‌তি ” প্রতিষ্ঠা ক‌রেন ।

১৯৯৩ সা‌লে তি‌নি রোমা পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচন ক‌রেন, কিন্তু পরা‌জিত হ‌য়ে‌ছিলন।

১৯৯৪ সা‌লে ইতা‌লি‌তে ব‌রিশালবাসী‌দের নি‌য়ে ব‌রিশাল বিভাগ স‌মি‌তি গঠন ক‌রেন ( ৯৭ সা‌লে কার্যক্রম শুরু ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপ‌তি । দির্ঘ ১৬/১৭ বছর দা‌য়িত্ব পালন ক‌রেন । ১৯৯৩ তে মা‌সিক “রো‌মের সময়” না‌মে এক‌টি বাংলা প‌ত্রিকা প্রকাশ ক‌রেন,এবং তি‌নি প্রতিষ্ঠাতা প্রকাশক সম্পাদক ছি‌লেন । তি‌নি ফ্রি প‌ত্রিকা বি‌লি কর‌তেন । তি‌নি বাংলা প্রেসক্লাব না‌মে ইতা‌লি‌তে সাংবা‌দিক সংগঠনের প্রধান উপ‌দেস্টা।

বর্তমানে তাঁর বয়স ৭৬ বছর। বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় তিনি ভুগছেন।
গতকাল, ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ছিল তাঁর ৭৫তম জন্মদিন—৭৬ বছরে পদার্পণ করেছেন তিনি।

ইতালিতেই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং এক পুত্র সন্তানের জনক।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ১১:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
২৪৮ বার পড়া হয়েছে

ইতা‌লি‌তে বাঙ্গালী একজন লুৎফর রহমান

আপডেট সময় ১১:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

লুৎফর রহমান তালুকদার বাংলাদেশি মানুষ,যি‌নি ইতালি পাসপোর্টধারী নাগরিক

৩০ অক্টোবর ১৯৫০ স‌নে ব‌রিশা‌লের ঝালকাঠি জেলা সদর উপজেলার মধ্য চাদকাঠী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জম্মগ্রহন ক‌রেন ।

তার পিতার নাম তোরাব আলী তালুকদার। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।

লুৎফর রহমান তালুকদার ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ৯ নম্বর সেক্টরে বেস ক্যাম্প কমান্ডার মেহেদী আলী ইমামের অধীনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরিতে যোগ দেন।
পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস উদ্বোধনের সময় তিনি ইতালিতে প্রেরিত হন এবং দূতাবাসে চাকরিজীবন শুরু করেন।

তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পরদিন থেকেই তিনি দূতাবাসে যাওয়া বন্ধ করে দেন।
তিনি জানান, “সেদিন শুক্রবার ছিল—ইতালিতে ছুটির দিন। আমি বাসায় ছিলাম। তখন বিবিসি ও সিএনএনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের হত্যার খবর প্রচারিত হয়। খবরটি শুনে আমি কান্নায় ভেঙে পড়ি।”

পরদিন তিনি পদত্যাগপত্র লিখে ডাকযোগে পাঠান। এরপর জানতে পারেন, খন্দকার মোশতাক আহমদের সরকার তাঁকে ব্ল্যাকলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বাধ্য হয়ে তিনি সুইজারল্যান্ডে চলে যান।
পরবর্তীতে হিউম্যান রাইটস কমিশনের সহায়তায় পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব পান এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন। পরে ইতালিতে ফিরে এসে ইতালীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর ইতালিতে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক ইকবাল আতাহার। সে সময় পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ইকবাল আতাহার স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাঁকেই তখন ইতালিতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল।

লুৎফর রহমান তালুকদার প্রথম বাংলাদেশি মানুষ,যি‌নি ইতালি পাসপোর্টধারী নাগরিক (১৯৮১ সাল)। ১৯৭৭ সা‌লের ২২ ফেব্রুয়ারী ইতা‌লিতে প্রথম কো‌নো বাংলা‌দেশী সংগঠন “বাংলা‌দেশ সাংস্কৃ‌তিক স‌মি‌তি ” প্রতিষ্ঠা ক‌রেন ।

১৯৯৩ সা‌লে তি‌নি রোমা পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচন ক‌রেন, কিন্তু পরা‌জিত হ‌য়ে‌ছিলন।

১৯৯৪ সা‌লে ইতা‌লি‌তে ব‌রিশালবাসী‌দের নি‌য়ে ব‌রিশাল বিভাগ স‌মি‌তি গঠন ক‌রেন ( ৯৭ সা‌লে কার্যক্রম শুরু ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপ‌তি । দির্ঘ ১৬/১৭ বছর দা‌য়িত্ব পালন ক‌রেন । ১৯৯৩ তে মা‌সিক “রো‌মের সময়” না‌মে এক‌টি বাংলা প‌ত্রিকা প্রকাশ ক‌রেন,এবং তি‌নি প্রতিষ্ঠাতা প্রকাশক সম্পাদক ছি‌লেন । তি‌নি ফ্রি প‌ত্রিকা বি‌লি কর‌তেন । তি‌নি বাংলা প্রেসক্লাব না‌মে ইতা‌লি‌তে সাংবা‌দিক সংগঠনের প্রধান উপ‌দেস্টা।

বর্তমানে তাঁর বয়স ৭৬ বছর। বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় তিনি ভুগছেন।
গতকাল, ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ছিল তাঁর ৭৫তম জন্মদিন—৭৬ বছরে পদার্পণ করেছেন তিনি।

ইতালিতেই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং এক পুত্র সন্তানের জনক।