০৩:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিল্পের মহারাজ নজরুল ছিলেন প্রেম দ্রোহ সাম্য মানবতার মহাকবিঃ বাবুগঞ্জে স্মরণোৎসবে বক্তারা

❑ আরিফ আহমেদ মুন্না ✍️

‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন শিল্পের মহারাজ। শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির এমন কোনো অঙ্গন নেই যেখানে তাঁর বিচরণ ছিল না। সেই বিচরণ ছিল দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী এক রাজাধিরাজের মতোই। একই সাথে ইসলামী গজল এবং সনাতনী শ্যামাসঙ্গীত কৃষ্ণসঙ্গীত লেখার মতো গভীর বৈপরীত্যের প্রতিভায় পৃথিবীতে নজরুল ছাড়া দ্বিতীয়জন সৃষ্টি হয়নি। অসাম্প্রদায়িক শব্দটা শুধু তাঁর নামের সাথেই শোভা পায়। কবি হিসেবেও নজরুল ছিলেন প্রেম, দ্রোহ, সাম্য ও মানবতার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ একজন মহাকবি।’ বরিশাল লোকসাহিত্য একাডেমির আয়োজনে নজরুল স্মরণোৎসব-২০২৬’এর আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

গত রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই স্মরণোৎসবে বক্তারা আরো বলেন, ‘বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্রোহ শিখেছিলেন কোনো পাঠশালা কিংবা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে নয়; তিনি বিদ্রোহ শিখেছিলেন নিজের জীবনের কাছ থেকে। অভাব তাঁকে শিখিয়েছে সংগ্রাম করতে। বঞ্চনা তাঁকে শিখিয়েছে প্রতিবাদ করতে। সামাজিক বৈষম্য তাঁকে শিখিয়েছে সাম্যের কথা বলতে। ঔপনিবেশিক শাসন তাঁকে শিখিয়েছে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতে। কাজী নজরুল ইসলাম শুধু একজন কবি ছিলেন না; তিনি ছিলেন সৈনিক, সাংবাদিক, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীতজ্ঞ, ধর্মীয় পন্ডিত, শিক্ষক, দার্শনিক, রাজনৈতিক কর্মী এবং মানবতাবাদী একজন অকুতোভয় যোদ্ধা।’

বরিশাল লোকসাহিত্য একাডেমির চেয়ারম্যান দেশি-বিদেশি পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি মুস্তাফা হাবীবের সভাপতিত্বে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণোৎসবের ওই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক অমৃত লাল দে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মাহবুবুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারি বিএম কলেজের সাবেক অধ্যাপক আকতার উদদীন চৌধুরী, আগৈলঝাড়া সরকারি কলেজের প্রভাষক কবি পথিক মোস্তফা ও দৈনিক বাংলাদেশ বাণী পত্রিকার সম্পাদক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আযাদ আলাউদ্দীন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন সাংবাদিক, কলামিস্ট, সুশাসন ব্যক্তিত্ব ও কবি আরিফ আহমেদ মুন্না।

সভায় অন্যান্য আলোচকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের জেলা সভাপতি বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী জাকির হোসেন সবুজ, আগরপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক স্বপন কুমার বড়াল, জৈনুদ্দিন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কবি স.ম জসিম উদ্দিন ও লেখক মাহমুদ ইউসুফ। বাচিক শিল্পী ও আবৃত্তিকার জাহিদ হোসেন হৃদয়ের সঞ্চালনায় স্মরণোৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আগরপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবায়দুল হক শাহীন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবিতা পরিষদের বরিশাল জেলা সম্পাদক কবি মাহবুব রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক রাঙা প্রভাত পত্রিকার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রনি, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক (খন্ডকালীন) শাহিন মাহমুদসহ বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ।

নজরুল স্মরণোৎসবের ওই আলোচনা সভার ফাঁকে ফাঁকে কবিতা আবৃত্তি, গান এবং নাচের পর্ব সমগ্র অনুষ্ঠানে নান্দনিক রূপ দিয়ে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। কবিতা পাঠের আসরে আবৃত্তি করেন উদীয়মান কবি আহমেদ বেলাল, কবি জিয়াউল হক, কবি শোয়েব আহমেদ ও কবি জিল্লুর রহমান। মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পর্বে শিল্পী জগলুল আহমেদ শামীম এবং শাহরিয়ার হিমুর পরিচালনায় নজরুল সংগীতের সুরের মূর্ছনা আর নৃত্যের তালে উপস্থিত সবাইকে বিমোহিত করে স্থানীয় শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে লোকসাহিত্য একাডেমির পক্ষ থেকে অতিথি এবং আলোচকদের সম্মাননা স্মারক গ্রন্থ উপহার দেওয়া হয়। #

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০৮:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩৯ বার পড়া হয়েছে

শিল্পের মহারাজ নজরুল ছিলেন প্রেম দ্রোহ সাম্য মানবতার মহাকবিঃ বাবুগঞ্জে স্মরণোৎসবে বক্তারা

আপডেট সময় ০৮:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন শিল্পের মহারাজ। শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির এমন কোনো অঙ্গন নেই যেখানে তাঁর বিচরণ ছিল না। সেই বিচরণ ছিল দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী এক রাজাধিরাজের মতোই। একই সাথে ইসলামী গজল এবং সনাতনী শ্যামাসঙ্গীত কৃষ্ণসঙ্গীত লেখার মতো গভীর বৈপরীত্যের প্রতিভায় পৃথিবীতে নজরুল ছাড়া দ্বিতীয়জন সৃষ্টি হয়নি। অসাম্প্রদায়িক শব্দটা শুধু তাঁর নামের সাথেই শোভা পায়। কবি হিসেবেও নজরুল ছিলেন প্রেম, দ্রোহ, সাম্য ও মানবতার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ একজন মহাকবি।’ বরিশাল লোকসাহিত্য একাডেমির আয়োজনে নজরুল স্মরণোৎসব-২০২৬’এর আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

গত রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই স্মরণোৎসবে বক্তারা আরো বলেন, ‘বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্রোহ শিখেছিলেন কোনো পাঠশালা কিংবা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে নয়; তিনি বিদ্রোহ শিখেছিলেন নিজের জীবনের কাছ থেকে। অভাব তাঁকে শিখিয়েছে সংগ্রাম করতে। বঞ্চনা তাঁকে শিখিয়েছে প্রতিবাদ করতে। সামাজিক বৈষম্য তাঁকে শিখিয়েছে সাম্যের কথা বলতে। ঔপনিবেশিক শাসন তাঁকে শিখিয়েছে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতে। কাজী নজরুল ইসলাম শুধু একজন কবি ছিলেন না; তিনি ছিলেন সৈনিক, সাংবাদিক, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীতজ্ঞ, ধর্মীয় পন্ডিত, শিক্ষক, দার্শনিক, রাজনৈতিক কর্মী এবং মানবতাবাদী একজন অকুতোভয় যোদ্ধা।’

বরিশাল লোকসাহিত্য একাডেমির চেয়ারম্যান দেশি-বিদেশি পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি মুস্তাফা হাবীবের সভাপতিত্বে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণোৎসবের ওই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক অমৃত লাল দে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মাহবুবুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারি বিএম কলেজের সাবেক অধ্যাপক আকতার উদদীন চৌধুরী, আগৈলঝাড়া সরকারি কলেজের প্রভাষক কবি পথিক মোস্তফা ও দৈনিক বাংলাদেশ বাণী পত্রিকার সম্পাদক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আযাদ আলাউদ্দীন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন সাংবাদিক, কলামিস্ট, সুশাসন ব্যক্তিত্ব ও কবি আরিফ আহমেদ মুন্না।

সভায় অন্যান্য আলোচকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের জেলা সভাপতি বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী জাকির হোসেন সবুজ, আগরপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক স্বপন কুমার বড়াল, জৈনুদ্দিন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কবি স.ম জসিম উদ্দিন ও লেখক মাহমুদ ইউসুফ। বাচিক শিল্পী ও আবৃত্তিকার জাহিদ হোসেন হৃদয়ের সঞ্চালনায় স্মরণোৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আগরপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবায়দুল হক শাহীন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবিতা পরিষদের বরিশাল জেলা সম্পাদক কবি মাহবুব রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক রাঙা প্রভাত পত্রিকার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রনি, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক (খন্ডকালীন) শাহিন মাহমুদসহ বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ।

নজরুল স্মরণোৎসবের ওই আলোচনা সভার ফাঁকে ফাঁকে কবিতা আবৃত্তি, গান এবং নাচের পর্ব সমগ্র অনুষ্ঠানে নান্দনিক রূপ দিয়ে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। কবিতা পাঠের আসরে আবৃত্তি করেন উদীয়মান কবি আহমেদ বেলাল, কবি জিয়াউল হক, কবি শোয়েব আহমেদ ও কবি জিল্লুর রহমান। মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পর্বে শিল্পী জগলুল আহমেদ শামীম এবং শাহরিয়ার হিমুর পরিচালনায় নজরুল সংগীতের সুরের মূর্ছনা আর নৃত্যের তালে উপস্থিত সবাইকে বিমোহিত করে স্থানীয় শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে লোকসাহিত্য একাডেমির পক্ষ থেকে অতিথি এবং আলোচকদের সম্মাননা স্মারক গ্রন্থ উপহার দেওয়া হয়। #