০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

গৌরনদীর কসবা: ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা ও ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষ্য

বরিশাল জেলা প্রতিনিধিঃ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কসবা গ্রাম—ইতিহাসের পথ ধরে হাঁটলে যার নাম বারবার ফিরে আসে। মোগল আমলের স্মৃতিবাহী এই গ্রামে এখনো অটুটভাবে দাঁড়িয়ে আছে হযরত দুধ কুমার মল্লিক (রঃ)-এর পবিত্র মাজার শরিফ, যা স্থানীয় মানুষের কাছে এক ঐতিহ্যের প্রতীক ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তির স্থান।

লোককথায় জানা যায়—ইয়েমেনের বাদশাহর দ্বিতীয় পুত্র ছিলেন হযরত দুধ কুমার মল্লিক (রঃ)। শিশুকাল থেকেই তিনি অন্যসব খাবার বর্জন করে শুধু গাভীর দুধ পান করতেন। সেই থেকেই তাঁর নামে যুক্ত হয় “দুধ কুমার” উপাধি। প্রায় সাড়ে চারশ’ বছর আগে, অর্থাৎ ১৬০০ সালের দিকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি উপমহাদেশের এই অঞ্চলে আসেন। ধর্মপ্রচার, মানবসেবা ও আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে তিনি অল্প সময়েই মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন।

আজও লাখেরাজ কসবা গ্রামের এই মাজারে দাঁড়ালে ইতিহাসের গভীর নীরবতা অনুভূত হয়। শত বছরের পুরোনো স্থাপত্য, আশপাশের পরিবেশ এবং মসজিদের সৌন্দর্য যেন দর্শনার্থীদের অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস—এ স্থান শুধু ঐতিহ্যের সাক্ষীই নয়, বরং পবিত্রতার ছোঁয়ায় ভরপুর একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র।

প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন মানত করতে, দোয়া চাইতে ও ইতিহাস জানতে। কসবার এই মাজার তাই শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং গৌরনদীর প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার মিলনস্থল—গৌরনদীর কসবা আজো বয়ে চলেছে সেই প্রাচীন আলো।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০৪:০২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
৫ বার পড়া হয়েছে

গৌরনদীর কসবা: ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা ও ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষ্য

আপডেট সময় ০৪:০২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

বরিশাল জেলা প্রতিনিধিঃ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কসবা গ্রাম—ইতিহাসের পথ ধরে হাঁটলে যার নাম বারবার ফিরে আসে। মোগল আমলের স্মৃতিবাহী এই গ্রামে এখনো অটুটভাবে দাঁড়িয়ে আছে হযরত দুধ কুমার মল্লিক (রঃ)-এর পবিত্র মাজার শরিফ, যা স্থানীয় মানুষের কাছে এক ঐতিহ্যের প্রতীক ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তির স্থান।

লোককথায় জানা যায়—ইয়েমেনের বাদশাহর দ্বিতীয় পুত্র ছিলেন হযরত দুধ কুমার মল্লিক (রঃ)। শিশুকাল থেকেই তিনি অন্যসব খাবার বর্জন করে শুধু গাভীর দুধ পান করতেন। সেই থেকেই তাঁর নামে যুক্ত হয় “দুধ কুমার” উপাধি। প্রায় সাড়ে চারশ’ বছর আগে, অর্থাৎ ১৬০০ সালের দিকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি উপমহাদেশের এই অঞ্চলে আসেন। ধর্মপ্রচার, মানবসেবা ও আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে তিনি অল্প সময়েই মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন।

আজও লাখেরাজ কসবা গ্রামের এই মাজারে দাঁড়ালে ইতিহাসের গভীর নীরবতা অনুভূত হয়। শত বছরের পুরোনো স্থাপত্য, আশপাশের পরিবেশ এবং মসজিদের সৌন্দর্য যেন দর্শনার্থীদের অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস—এ স্থান শুধু ঐতিহ্যের সাক্ষীই নয়, বরং পবিত্রতার ছোঁয়ায় ভরপুর একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র।

প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন মানত করতে, দোয়া চাইতে ও ইতিহাস জানতে। কসবার এই মাজার তাই শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং গৌরনদীর প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার মিলনস্থল—গৌরনদীর কসবা আজো বয়ে চলেছে সেই প্রাচীন আলো।