বরিশালের দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে শিক্ষকের কাছে চাদা দাবির অভিযোগ
ভ্যাট–ট্যাক্স পরিশোধ করেছেন কি না—এই জেরে শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে
এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষকের কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি চার হাজার টাকা আদায় করা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে বরিশালের দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষক একটি ভিডিও বার্তায় বিষয়টি তুলে ধরে গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক, দৈনিক জনকণ্ঠের বরিশাল স্টাফ রিপোর্টার ও গৌরনদী প্রেসক্লাবের সদস্য খোকন আহম্মেদ হীরা এবং দৈনিক কালবেলার গৌরনদী প্রতিনিধি হাসান মাহমুদ আগৈলঝাড়া উপজেলার ভাল্লুকশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাওলানা সরোয়ার হোসেনকে ডেকে নিয়ে বাৎসরিক ভ্যাট–ট্যাক্স পরিশোধের কথা বলেন ।

শিক্ষক সরোয়ার হোসেন জানান, আমি শিক্ষকতা করি, আয়ের আয়কর (ভ্যাট ট্যাক্স ) প্রদান করি কি না ? এই কথা বলে আমাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং রিপোর্ট করার হুমকি দিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি নার্ভাস হয়ে যাই এবং তাদেরকে চার হাজার টাকা পরিশোধ করি ।
বাকি টাকা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে আয়কর ফাকি দেয়ার সংবাদ প্রকাশ করা হবে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে আমাকে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়।
টাকা কেনো দিয়েছেন প্রশ্ন করা হলে শিক্ষক বলেন, আমি ভয়ভীতির মধ্যে পড়ে বাধ্য হয়ে নিজের কাছে থাকা ৪ হাজার টাকা তাদের হাতে তুলে দেই ।
ঘটনার পর তিনি পুরো বিষয়টি ভিডিও গণমাধ্যমে পাঠান, সেখানে তিনি নিজেকে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছেন বলে উল্লেখ করেন।
এ ঘটনার পর স্থানীয় শিক্ষক সমাজ ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ওই শিক্ষকের ভাগ্নে দৈনিক মানবকন্ঠের গৌরনদী প্রতিনিধি এই এম সুমন জানান, আমার মামা শিক্ষক সরোয়ার হোসেনের ফোন পেয়ে অভিযুক্ত সাংবাদিক হাসান মাহমুদ হাসানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আপনি আসেন, আপনার সঙ্গে একান্তে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।” অন্য সাংবাদিক খোকন আহম্মেদ হীরা ফোন রিসিভড করেন নি ।
অন্যদিকে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের একটি অংশ জানিয়েছে, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
গৌরনদী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















