সেলিমা রহমানের মনোনয়ন দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বিক্ষোভ মানববন্ধন
প্রথম দফায় সারাদেশে ২৩৭ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। কিন্তু এরমধ্যে নেই বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর দ্বন্দ্ব নাকি জোটের শরিকদের আসন ছাড়ের জন্য এখানে প্রার্থী ঘোষণা হয়নি, তা স্পষ্ট করেনি বিএনপি। তবে এই আশা-নিরাশার মাঝেই বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমের রহমানকে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দীর্ঘ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে ওই বিক্ষোভ ও ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এসময় উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাংশের নেতৃত্বে রহমতপুর এলাকায় বরিশাল বিমানবন্দর মোড় থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারী কয়েক হাজার বিএনপি নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার সাধারণ মানুষসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীদের অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়।
মানববন্ধন সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ইসরত হোসেন কচি তালুকদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা কৃষকদলের আহবায়ক মো. মোহসীন আলম, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মো. আওলাদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, কামাল সরদার, সেলিম সরদার, দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিলন খান, মাধবপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুব তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সদস্য পারভেজ মৃধা, মনিরুজ্জামান মিল্টন, মিজানুর রহমান, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আরিফুর রহমান রতন তালুকদার, সহ-সভাপতি মাহবুব আলম, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান রবীন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জহির, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

মানববন্ধন সমাবেশে বক্তারা বেগম সেলিমা রহমানকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত বেগম সেলিমা রহমান দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল-৩ আসনের মানুষের পাশে থেকেছেন। তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করে আগামী নির্বাচনে তাকে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করতে হবে। ত্যাগী ও জনপ্রিয় এই নেত্রীকে উপেক্ষা করে বিগত দিনে দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তৃণমূলে বিদ্রোহ দেখা দেবে। এতে সংগঠন দুর্বল হবে এবং এই নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
উল্লেখ্য, বরিশালের ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতে প্রার্থী ঘোষণা করলেও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে এখনো দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি বিএনপি। ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ, হতাশা আর অনিশ্চয়তা। গত ৩ নভেম্বর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭টি আসনে মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। কিন্তু তাতে বরিশাল-৩ আসনটি শূন্য রাখা হয়। এই আসনটি বিএনপির জোটের শরিক এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে এমন খবর চাউর হয় নির্বাচনী এলাকায়। তবে দলটির হাইকমান্ডের একটি সূত্রের দাবি, বেগম সেলিমা রহমানের সাথে এই আসনে মনোনয়নের পাওয়ার যুদ্ধে লড়ছেন আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। শীর্ষ এই দুইজন প্রভাবশালী নেতার দ্বন্দ্বের কারণেই এই আসনে এখনো প্রার্থী দেয়নি বিএনপি।
এই দুই শীর্ষ নেতা ছাড়াও বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ এবং বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক মুলাদী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার খান। তবে সেলিমা রহমানকে মনোনয়ন দিলে এই দুই নেতা তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে বেগম সেলিমা রহমান, ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ এবং আব্দুস সাত্তার খান একই মঞ্চে একাধিকবার সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ এবং ৩১ দফার সমর্থনে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে সম্মিলিতভাবে অংশ নিয়েছেন। অপরদিকে আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন মনোনয়ন দৌড়ে একাই লড়ছেন। তিনিও পৃথকভাবে তার অনুসারী বিএনপি নেতাকর্মী নিয়ে বাবুগঞ্জ এবং মুলাদী উপজেলায় বিভিন্ন নির্বাচনী সভা-সমাবেশ আর প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন বিএনপির টিকেট, তা জানতে হয়তো আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। #




















