০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

গণঅধিকার পরিষদের দ্বিতীয় ধাপের প্রার্থী ঘোষণাঃ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি ও রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করতে দ্বিতীয় ধাপের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে গণঅধিকার পরিষদ। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় সবগুলো অঞ্চলে প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি এবার নির্বাচনী মাঠে “পূর্ণ শক্তি” নিয়ে নামছে বলে জানিয়েছে দলটির শীর্ষ নেতারা।

দলটির একাধিক নেতা জানান, জনগণের রাজনীতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতেই এই ধাপের প্রার্থী ঘোষণা। দ্বিতীয় ধাপের তালিকায় মোট ১২০টিরও বেশি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা অঞ্চলে নতুন মুখের উপস্থিতি

ঢাকা-১ থেকে শুরু করে ঢাকা-১৮ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে তরুণ, পেশাজীবী ও সামাজিক কর্মীদের প্রাধান্য দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ।
ঢাকা-০১ এ আব্দুল জব্বার, ঢাকা-০২ এ ফারুক হোসেন, ঢাকা-০৩ এ মো. সাজ্জাদ,
এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ সিটির অন্তর্ভুক্ত একাধিক আসনে—ঢাকা-১১, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বরে—দলটি চমকপ্রদ নতুন প্রার্থী রেখেছে।

মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা

বরিশাল বিভাগে দ্বিতীয় ধাপের তালিকায় বরিশাল-১ এ মো.ইলিয়াস মিয়া,  বরিশাল-৩ এ এইচ.এম. ফারদিন ইয়ামিন, বরিশাল-৫ এ রফিকুল ইসলামকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি।
পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরেও নতুন মুখকে এগিয়ে দিয়ে তরুণ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখেছে গণঅধিকার পরিষদ।

রংপুর বিভাগে সমন্বিত দলীয় প্রস্তুতি

রংপুর অঞ্চলে দলটি এবার সবচেয়ে বড় পরিসরে প্রার্থী দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়ে একাধিক আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দলটির উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় ভূমিকাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
বিশেষ করে দিনাজপুর-১, ২, ৪, ৫, ৬ ও গাইবান্ধা-১ ও ৫—এই আসনগুলোতে প্রতিযোগিতা জমবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

খুলনা–যশোর–নড়াইল–কুষ্টিয়া অঞ্চলে বিস্তৃত প্রার্থী তালিকা

দ্বিতীয় ধাপে খুলনা-১, ৪; যশোর-৪, ৫, ৬; নড়াইল-১, ২; ঝিনাইদহ-৩, ৪; মাগুরা-১; কুষ্টিয়া-৪—এভাবে প্রায় প্রতিটি জেলাতেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি।
এই অঞ্চলগুলোয় সংগঠন শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিতে চান নেতৃত্ব।

ময়মনসিংহ বিভাগে শক্ত নেটওয়ার্ক

ময়মনসিংহ ও শেরপুর–জামালপুর–নেত্রকোনা মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে।
বিশেষ করে ময়মনসিংহ–২, ৩, ৪, ৬, ৮ ও ১১ নম্বরে অভিজ্ঞতা ও নতুনত্বের সমন্বয়ে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে বিস্তৃত প্রস্তুতি

চট্টগ্রাম মহানগর ও বিভাগে উল্লেখযোগ্য ১৩টিরও বেশি আসনে মনোনয়ন দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ।
চট্টগ্রাম-১ থেকে ১৫ পর্যন্ত একাধিক আসনে তরুণ, শিক্ষিত ও সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দিয়ে দলটি উপকূলীয় অঞ্চলে আলাদা অবস্থান নিতে চাইছে।

রাঙামাটি (২৯৯) ও কক্সবাজার-২ এও রয়েছে দলটির প্রার্থী।

কুমিল্লা–ফেনী–লক্ষ্মীপুর–ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধারাবাহিকতা

কুমিল্লা-৯, ফেনী-২,৩; লক্ষ্মীপুর-১,২,৩ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩,৪,৫ নম্বরে দলটি নিজেদের উপস্থিতি আরও সুসংহত করেছে।
এছাড়া চাঁদপুর-১ ও ৩, নোয়াখালী-৩—এসব জায়গায়ও সক্রিয় প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।

রাজবাড়ী–ফরিদপুর–গোপালগঞ্জে নতুন বার্তা

ফরিদপুর-২, রাজবাড়ী-১, শরীয়তপুর-১,২ এবং গোপালগঞ্জ-১ ও ৩ নম্বর আসনেও প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি রাজনৈতিকভাবে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সিলেট বিভাগে প্রার্থীর উপস্থিতি

সিলেট–হবিগঞ্জ–সুনামগঞ্জ–মৌলভীবাজার জেলায় দলটি বিস্তৃত প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
সিলেট-১ থেকে ৬, হবিগঞ্জ-১ থেকে ৩, সুনামগঞ্জ-৩,৪,৫ এবং মৌলভীবাজার-২,৩,৪ নম্বরে প্রার্থী দিয়ে দলটি সিলেট অঞ্চলে শক্ত অবস্থান নিতে চায়।

রাজশাহী–নাটোর–নওগাঁ–সিরাজগঞ্জে সুসংগঠিত তালিকা

রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জেও বিস্তৃত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে গণঅধিকার পরিষদ।
বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ জেলার ১ থেকে ৬—সব আসনেই প্রার্থী দিয়ে দলটি এখানে বড় পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,

দলটি এবার সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে,

তৃণমূলের তরুণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছে,

এবং বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার কৌশল আরও জোরদার করছে।

গণঅধিকার পরিষদের এই ব্যাপক প্রার্থী ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। অনেকেই বলছেন, প্রতীক পেলেই দলটি এবার সারাদেশে কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করতে পারবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০৭:০৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
২১৪ বার পড়া হয়েছে

গণঅধিকার পরিষদের দ্বিতীয় ধাপের প্রার্থী ঘোষণাঃ

আপডেট সময় ০৭:০৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি ও রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করতে দ্বিতীয় ধাপের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে গণঅধিকার পরিষদ। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় সবগুলো অঞ্চলে প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি এবার নির্বাচনী মাঠে “পূর্ণ শক্তি” নিয়ে নামছে বলে জানিয়েছে দলটির শীর্ষ নেতারা।

দলটির একাধিক নেতা জানান, জনগণের রাজনীতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতেই এই ধাপের প্রার্থী ঘোষণা। দ্বিতীয় ধাপের তালিকায় মোট ১২০টিরও বেশি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা অঞ্চলে নতুন মুখের উপস্থিতি

ঢাকা-১ থেকে শুরু করে ঢাকা-১৮ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে তরুণ, পেশাজীবী ও সামাজিক কর্মীদের প্রাধান্য দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ।
ঢাকা-০১ এ আব্দুল জব্বার, ঢাকা-০২ এ ফারুক হোসেন, ঢাকা-০৩ এ মো. সাজ্জাদ,
এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ সিটির অন্তর্ভুক্ত একাধিক আসনে—ঢাকা-১১, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বরে—দলটি চমকপ্রদ নতুন প্রার্থী রেখেছে।

মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা

বরিশাল বিভাগে দ্বিতীয় ধাপের তালিকায় বরিশাল-১ এ মো.ইলিয়াস মিয়া,  বরিশাল-৩ এ এইচ.এম. ফারদিন ইয়ামিন, বরিশাল-৫ এ রফিকুল ইসলামকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি।
পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরেও নতুন মুখকে এগিয়ে দিয়ে তরুণ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখেছে গণঅধিকার পরিষদ।

রংপুর বিভাগে সমন্বিত দলীয় প্রস্তুতি

রংপুর অঞ্চলে দলটি এবার সবচেয়ে বড় পরিসরে প্রার্থী দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়ে একাধিক আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দলটির উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় ভূমিকাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
বিশেষ করে দিনাজপুর-১, ২, ৪, ৫, ৬ ও গাইবান্ধা-১ ও ৫—এই আসনগুলোতে প্রতিযোগিতা জমবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

খুলনা–যশোর–নড়াইল–কুষ্টিয়া অঞ্চলে বিস্তৃত প্রার্থী তালিকা

দ্বিতীয় ধাপে খুলনা-১, ৪; যশোর-৪, ৫, ৬; নড়াইল-১, ২; ঝিনাইদহ-৩, ৪; মাগুরা-১; কুষ্টিয়া-৪—এভাবে প্রায় প্রতিটি জেলাতেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি।
এই অঞ্চলগুলোয় সংগঠন শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিতে চান নেতৃত্ব।

ময়মনসিংহ বিভাগে শক্ত নেটওয়ার্ক

ময়মনসিংহ ও শেরপুর–জামালপুর–নেত্রকোনা মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে।
বিশেষ করে ময়মনসিংহ–২, ৩, ৪, ৬, ৮ ও ১১ নম্বরে অভিজ্ঞতা ও নতুনত্বের সমন্বয়ে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে বিস্তৃত প্রস্তুতি

চট্টগ্রাম মহানগর ও বিভাগে উল্লেখযোগ্য ১৩টিরও বেশি আসনে মনোনয়ন দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ।
চট্টগ্রাম-১ থেকে ১৫ পর্যন্ত একাধিক আসনে তরুণ, শিক্ষিত ও সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দিয়ে দলটি উপকূলীয় অঞ্চলে আলাদা অবস্থান নিতে চাইছে।

রাঙামাটি (২৯৯) ও কক্সবাজার-২ এও রয়েছে দলটির প্রার্থী।

কুমিল্লা–ফেনী–লক্ষ্মীপুর–ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধারাবাহিকতা

কুমিল্লা-৯, ফেনী-২,৩; লক্ষ্মীপুর-১,২,৩ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩,৪,৫ নম্বরে দলটি নিজেদের উপস্থিতি আরও সুসংহত করেছে।
এছাড়া চাঁদপুর-১ ও ৩, নোয়াখালী-৩—এসব জায়গায়ও সক্রিয় প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।

রাজবাড়ী–ফরিদপুর–গোপালগঞ্জে নতুন বার্তা

ফরিদপুর-২, রাজবাড়ী-১, শরীয়তপুর-১,২ এবং গোপালগঞ্জ-১ ও ৩ নম্বর আসনেও প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি রাজনৈতিকভাবে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সিলেট বিভাগে প্রার্থীর উপস্থিতি

সিলেট–হবিগঞ্জ–সুনামগঞ্জ–মৌলভীবাজার জেলায় দলটি বিস্তৃত প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
সিলেট-১ থেকে ৬, হবিগঞ্জ-১ থেকে ৩, সুনামগঞ্জ-৩,৪,৫ এবং মৌলভীবাজার-২,৩,৪ নম্বরে প্রার্থী দিয়ে দলটি সিলেট অঞ্চলে শক্ত অবস্থান নিতে চায়।

রাজশাহী–নাটোর–নওগাঁ–সিরাজগঞ্জে সুসংগঠিত তালিকা

রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জেও বিস্তৃত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে গণঅধিকার পরিষদ।
বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ জেলার ১ থেকে ৬—সব আসনেই প্রার্থী দিয়ে দলটি এখানে বড় পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,

দলটি এবার সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে,

তৃণমূলের তরুণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছে,

এবং বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার কৌশল আরও জোরদার করছে।

গণঅধিকার পরিষদের এই ব্যাপক প্রার্থী ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। অনেকেই বলছেন, প্রতীক পেলেই দলটি এবার সারাদেশে কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করতে পারবে।