১১:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

গৌরনদীতে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশে শোকজ, জবাবে উকিল নোটিশ

 

গৌরনদী প্রতিনিধিঃ

বরিশালের গৌরনদীতে দুই শিক্ষকের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় প্রেসক্লাবের তিন সাংবাদিককে বহিষ্কারের শোকজ নোটিশ দিয়েছেন প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনির। তবে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা পৃথকভাবে আইনজীবীর মাধ্যমে তিনটি উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন।

 

রোববার গৌরনদী প্রেসক্লাবের সদস্য ও দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি আরিফিন রিয়াদ, দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি মোল্লা ফারুক হাসান এবং দৈনিক যায়যায় দিনের প্রতিনিধি রাজিব ইসলাম তারিমের পক্ষে পৃথক তিনটি নোটিশ জারি করেন বরিশাল জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম রিয়াজুর ইসলাম রিয়াজ।

 

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় গৌরনদী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনির ওই তিন সাংবাদিককে বহিষ্কারের শোকজ নোটিশ দেন। তবে স্থানীয় সাংবাদিকরা এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের অভিযোগ, আহ্বায়কের পদক্ষেপ সংবিধান প্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষতি করার পাশাপাশি প্রেসক্লাবের ভাবমূর্তিকেও কলঙ্কিত করেছে।

উকিল নোটিশে বলা হয়, আহবায়ক মনিরুজ্জামান মনির যে নোটিশ দিয়েছেন সেখানে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা প্রকৃতপক্ষে দুই শিক্ষকের অনিয়ম আড়াল করার অপচেষ্টা।

 

 

জানা গেছে, স্কুল ও কলেজ (নীতিমালা ২০২২, অনুচ্ছেদ ১১.১৭), মাদ্রাসা (নীতিমালা ২০১৮, সংশোধিত ২০২০, অনুচ্ছেদ ১১.১০) (ক) সরকারি বিধি বহির্ভূত ভাবে গৌরনদীর নাঠৈ রিজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মু. শাহিন ও গরঙ্গল দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ফারহান হোসেন নান্নু শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা একত্রে করে আসছেন। সম্প্রতি বিদ্যালেয়র ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরীর কাছ থেকে কোন প্রকার ছুটি না নিয়েই সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে কক্সবাজারে পিকনিকে যান প্রধান শিক্ষক শাহিন । অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক নান্নু অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে একই পিকনিকে অংশ নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের তথ্য সরবরাহ করলে কয়েকটি জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে ‘গৌরনদীতে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে এ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের পর প্রেসক্লাব আহবায়ক মনিরুজ্জামান ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিহিংসা বশত সাংবাদিক আরিফিন রিয়াদ ও রাজিব ইসলাম তারিমকে আসন্ন পিআইবি প্রশিক্ষণের তালিকা থেকে বাদ দেন। এমনকি এ নিয়ে সাংবাদিক মোল্লা ফারুক হাসান প্রেসক্লাবের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দুঃখ প্রকাশ করলে তার ওপরেও ক্ষিপ্ত হন। পরবর্তীতে তিন সাংবাদিককেই ‘কারণ দর্শানো নোটিশ’ দিয়ে প্রেসক্লাব থেকে বহিষ্কারের পাঁয়তারা শুরু করেন তিনি।

 

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের দাবি, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণেই এই নোটিশ জারি করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে মনিরুজ্জামান মনির আহবায়কের ক্ষমতার অপব্যবহার করে গলায় প্রেসকার্ড ঝুলিয়ে উপজেলার সুন্দরদী এলাকায় একটি জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় তার একটি মারমুখি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সংস্লিষ্ট তিনজন সাংবাদিক ঘটনাটি প্রকাশের প্রস্তুতি নিলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নোটিশ জারি করেন।

 

আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, সাংবাদিক রাজিব ইসলাম তারিমকে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য ফোনে চাপ দেন মনির। অন্যথায় তাকেসহ তার সহকর্মীদের মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় জড়ানো হবে বলে হুমকি দেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়েরও চেষ্টাও করেন।

সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, একজন প্রেসক্লাব আহবায়কের কোনো এখতিয়ার নেই সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার। যা সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের সরাসরি পরিপন্থী। তারা আরও জানান, কূটকৌশল ও অসৎ উদ্দেশ্যে শোকজ ইস্যুর তারিখ ও হাতে পাওয়ার তারিখ ভিন্ন রেখে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যাতে সাংবাদিকরা যথাযথ সময়ে জবাব দিতে না পারেন।

সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত এখনও চলমান। তদন্ত শেষ না হওয়া সত্ত্বেও আহবায়ক মনিরুজ্জামান কী প্রমাণ বা সরকারি নথির ভিত্তিতে সংবাদটিকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়েছেন? তাদের অভিযোগ, এ ধরনের মন্তব্য চলমান তদন্তকে প্রভাবিত করার স্পষ্ট অপচেষ্টা এবং ব্যক্তিগত পূর্বাগ্রহের বহিঃপ্রকাশ যা দায়িত্বশীল পদে থেকে একজন সংগঠনের আহবায়কের জন্য গর্হিত কাজ।

 

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা বলেন, এটি শুধু আমাদের ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয় নয় এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।

বরিশাল জজকোর্টের অ্যাডভোকেট এসএম রিয়াজুর ইসলাম রিয়াজ বলেন, আমার মক্কেলগণ সাংবাদিকতার পেশাগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং অবৈধ প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তিনজন সাংবাদিকের পক্ষে পৃথকভাবে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং এই নোটিশের যথাযথ ব্যাখ্যা ও প্রমাণ প্রদানের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। অ্যাডভোকেট রিয়াজ আরও বলেন, একজন প্রেসক্লাব আহবায়ক সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশে হস্তক্ষেপ করার কোনো এখতিয়ার রাখেন না। এমন হস্তক্ষেপ সংবিধান ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমাদের ক্লায়েন্টের পক্ষে শোকজ নোটিশ প্রত্যাহারের পাশাপাশি লিখিতভাবে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তা না হলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মানহানি মামলা, হুমকি প্রদান, চাঁদাবাজি, ষড়যন্ত্র এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হবে।

এ ঘটনায় গৌরনদীসহ বরিশাল অঞ্চলের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে থেকে ব্যক্তিস্বার্থে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো শুধু সংগঠনের মর্যাদা নষ্ট করছে না বরং সাধারণ মানুষের চোখে পুরো গণমাধ্যমের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে গৌরনদী প্রেসক্লাবের আহবায়ক খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনিরের মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে তার নম্বর বন্ধ থাকায় তার কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ০৮:৪০:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
২২৮ বার পড়া হয়েছে

গৌরনদীতে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশে শোকজ, জবাবে উকিল নোটিশ

আপডেট সময় ০৮:৪০:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫

 

গৌরনদী প্রতিনিধিঃ

বরিশালের গৌরনদীতে দুই শিক্ষকের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় প্রেসক্লাবের তিন সাংবাদিককে বহিষ্কারের শোকজ নোটিশ দিয়েছেন প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনির। তবে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা পৃথকভাবে আইনজীবীর মাধ্যমে তিনটি উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন।

 

রোববার গৌরনদী প্রেসক্লাবের সদস্য ও দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি আরিফিন রিয়াদ, দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি মোল্লা ফারুক হাসান এবং দৈনিক যায়যায় দিনের প্রতিনিধি রাজিব ইসলাম তারিমের পক্ষে পৃথক তিনটি নোটিশ জারি করেন বরিশাল জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম রিয়াজুর ইসলাম রিয়াজ।

 

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় গৌরনদী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনির ওই তিন সাংবাদিককে বহিষ্কারের শোকজ নোটিশ দেন। তবে স্থানীয় সাংবাদিকরা এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের অভিযোগ, আহ্বায়কের পদক্ষেপ সংবিধান প্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষতি করার পাশাপাশি প্রেসক্লাবের ভাবমূর্তিকেও কলঙ্কিত করেছে।

উকিল নোটিশে বলা হয়, আহবায়ক মনিরুজ্জামান মনির যে নোটিশ দিয়েছেন সেখানে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা প্রকৃতপক্ষে দুই শিক্ষকের অনিয়ম আড়াল করার অপচেষ্টা।

 

 

জানা গেছে, স্কুল ও কলেজ (নীতিমালা ২০২২, অনুচ্ছেদ ১১.১৭), মাদ্রাসা (নীতিমালা ২০১৮, সংশোধিত ২০২০, অনুচ্ছেদ ১১.১০) (ক) সরকারি বিধি বহির্ভূত ভাবে গৌরনদীর নাঠৈ রিজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মু. শাহিন ও গরঙ্গল দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ফারহান হোসেন নান্নু শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা একত্রে করে আসছেন। সম্প্রতি বিদ্যালেয়র ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরীর কাছ থেকে কোন প্রকার ছুটি না নিয়েই সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে কক্সবাজারে পিকনিকে যান প্রধান শিক্ষক শাহিন । অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক নান্নু অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে একই পিকনিকে অংশ নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের তথ্য সরবরাহ করলে কয়েকটি জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে ‘গৌরনদীতে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে এ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের পর প্রেসক্লাব আহবায়ক মনিরুজ্জামান ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিহিংসা বশত সাংবাদিক আরিফিন রিয়াদ ও রাজিব ইসলাম তারিমকে আসন্ন পিআইবি প্রশিক্ষণের তালিকা থেকে বাদ দেন। এমনকি এ নিয়ে সাংবাদিক মোল্লা ফারুক হাসান প্রেসক্লাবের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দুঃখ প্রকাশ করলে তার ওপরেও ক্ষিপ্ত হন। পরবর্তীতে তিন সাংবাদিককেই ‘কারণ দর্শানো নোটিশ’ দিয়ে প্রেসক্লাব থেকে বহিষ্কারের পাঁয়তারা শুরু করেন তিনি।

 

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের দাবি, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণেই এই নোটিশ জারি করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে মনিরুজ্জামান মনির আহবায়কের ক্ষমতার অপব্যবহার করে গলায় প্রেসকার্ড ঝুলিয়ে উপজেলার সুন্দরদী এলাকায় একটি জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় তার একটি মারমুখি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সংস্লিষ্ট তিনজন সাংবাদিক ঘটনাটি প্রকাশের প্রস্তুতি নিলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নোটিশ জারি করেন।

 

আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, সাংবাদিক রাজিব ইসলাম তারিমকে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য ফোনে চাপ দেন মনির। অন্যথায় তাকেসহ তার সহকর্মীদের মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় জড়ানো হবে বলে হুমকি দেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়েরও চেষ্টাও করেন।

সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, একজন প্রেসক্লাব আহবায়কের কোনো এখতিয়ার নেই সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার। যা সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের সরাসরি পরিপন্থী। তারা আরও জানান, কূটকৌশল ও অসৎ উদ্দেশ্যে শোকজ ইস্যুর তারিখ ও হাতে পাওয়ার তারিখ ভিন্ন রেখে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যাতে সাংবাদিকরা যথাযথ সময়ে জবাব দিতে না পারেন।

সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত এখনও চলমান। তদন্ত শেষ না হওয়া সত্ত্বেও আহবায়ক মনিরুজ্জামান কী প্রমাণ বা সরকারি নথির ভিত্তিতে সংবাদটিকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়েছেন? তাদের অভিযোগ, এ ধরনের মন্তব্য চলমান তদন্তকে প্রভাবিত করার স্পষ্ট অপচেষ্টা এবং ব্যক্তিগত পূর্বাগ্রহের বহিঃপ্রকাশ যা দায়িত্বশীল পদে থেকে একজন সংগঠনের আহবায়কের জন্য গর্হিত কাজ।

 

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা বলেন, এটি শুধু আমাদের ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয় নয় এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।

বরিশাল জজকোর্টের অ্যাডভোকেট এসএম রিয়াজুর ইসলাম রিয়াজ বলেন, আমার মক্কেলগণ সাংবাদিকতার পেশাগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং অবৈধ প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তিনজন সাংবাদিকের পক্ষে পৃথকভাবে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং এই নোটিশের যথাযথ ব্যাখ্যা ও প্রমাণ প্রদানের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। অ্যাডভোকেট রিয়াজ আরও বলেন, একজন প্রেসক্লাব আহবায়ক সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশে হস্তক্ষেপ করার কোনো এখতিয়ার রাখেন না। এমন হস্তক্ষেপ সংবিধান ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমাদের ক্লায়েন্টের পক্ষে শোকজ নোটিশ প্রত্যাহারের পাশাপাশি লিখিতভাবে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তা না হলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মানহানি মামলা, হুমকি প্রদান, চাঁদাবাজি, ষড়যন্ত্র এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হবে।

এ ঘটনায় গৌরনদীসহ বরিশাল অঞ্চলের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে থেকে ব্যক্তিস্বার্থে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো শুধু সংগঠনের মর্যাদা নষ্ট করছে না বরং সাধারণ মানুষের চোখে পুরো গণমাধ্যমের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে গৌরনদী প্রেসক্লাবের আহবায়ক খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনিরের মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে তার নম্বর বন্ধ থাকায় তার কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।