ফ্যাক্টচেক/ইন্দোনেশিয়ায় অগ্ন্যুৎপাত দাবিতে এআই নির্মিত ও পুরোনো ভিডিও প্রচার
📌 ফ্যাক্টচেক/ইন্দোনেশিয়ায় অগ্ন্যুৎপাত দাবিতে এআই নির্মিত ও পুরোনো ভিডিও প্রচার
────────────────────────────────────────────────────────────
সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট আনাক ক্রাকাতাউয়ে একাধিকবার অগ্ন্যুৎপাতে ঘটেছে। এ প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, এগুলো সেই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের দৃশ্য।
আলোচিত দাবিতে অপর একটি ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করেছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলএটিএন নিউজও অনলাইন সংবাদমাধ্যমফেস দ্য পিপল।
প্রচারিত ভিডিওতে একটি আগ্নেয়গিরি থেকে লাভার ফোয়ারা উঠতে এবং রাস্তায় মানুষজনকে ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। এ সময় একজনকে ইংরেজিতে ‘ও মাই গড, ইটস রকিং’ বলতেও শোনা যায়।
অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যমে সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির এমন কোনো ভিডিও পাওয়া যায়নি। পরে ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধানে ‘Dailyscienceinfo’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে হুবহু একইভিডিওপাওয়া যায়। ওই ভিডিওর ক্যাপশনে এটিকে ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ভয়াবহ মুহূর্তের দৃশ্য হিসেবে দাবি করা হয়। তবে অ্যাকাউন্টটি পর্যালোচনা করে বেশ কিছু এআই-নির্মিত ভিডিও পাওয়া যায়।
পরে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কি না, তা যাচাই করতে একাধিক এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুলের সহায়তা নেওয়া হয়। এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল ‘হাইভ মডারেশন’-এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।
প্রচারিত দ্বিতীয় ভিডিওর দৃশ্যে অগ্ন্যুৎপাতের সময় লাভা ও ছাই আকাশে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, দৃশ্যটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আনাক ক্রাকাতাউয়ের অগ্ন্যুৎপাতের নয়।
ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধানে ‘Martin Rietze’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে এর দীর্ঘ সংস্করণ পাওয়া যায়। ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর ‘Krakatau at night’ শিরোনামে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ওই ভিডিওর প্রথম ১০ সেকেন্ডের দৃশ্যের সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে। ভিডিওটির বিবরণী থেকে জানা যায়, এটি ২০১৮ সালের ২৪ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে আনাক ক্রাকাতাউয়ের অগ্ন্যুৎপাতের চিত্র। অগ্ন্যুৎপাতের দৃশ্যগুলো কোনো টাইমল্যাপস ছাড়াই বাস্তব সময়ে ধারণ করা হয়েছে বলেও বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর আনাক ক্রাকাতাউয়ের আগ্নেয়গিরি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদন থেকেওএকই তথ্যপাওয়া যায়।


