০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইনসাফের লড়াই চালিয়ে যেতে হ্যাঁ ভোট চাইলেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ

❑ আরিফ আহমেদ মুন্না ✍️

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের ১০ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, ‘চব্বিশের জুলাই-আগস্টের টানা ৩৬ দিনের গণআন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, এটি ছিল দীর্ঘদিনের দুঃশাসন এবং ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সম্মিলিত বিদ্রোহ। এটি ছিল নতুন বাংলাদেশ গড়ার একটি ঐতিহাসিক লড়াই। জুলাই- আগস্টের সেই আন্দোলন ছিল এমন এক তরুণ সমাজের নেতৃত্বে, যারা আগে কখনো সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। কোটি কোটি তরুণ বুক চিতিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিয়েছিল- এই বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চাই। এই আন্দোলনের গভীরে ছিল বুকের ভেতরের ঝড়। সেই ঝড় কেন তৈরি হয়েছিল, তা না বুঝলে আগামী দিনের বাংলাদেশকে বোঝা যাবে না। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার ১০ দলীয় জোটের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হতে পাস করে মেধার শীর্ষে থেকেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়, আত্মীয়তার সুপারিশ বা তথাকথিত ‘চোতা’ না থাকায় যখন একজন তরুণ চাকরি পায় না, তখন তার বুকের ভেতর ঝড় ওঠে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে ব্যবসা আর সুবিধাভোগী রাজনীতির কোটানির্ভর বৈষম্য সেই ঝড়ের জন্ম দেয়। মামা-খালু ছাড়া চাকরির ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢোকা যায় না, এই উপলব্ধি লক্ষ লক্ষ তরুণ-যুবককে ক্ষুব্ধ করেছে। হাসপাতালে যখন দালাল ছাড়া চিকিৎসা মেলে না, কৃষক যখন ন্যায্য দামে সার, বীজ, কীটনাশক পায় না, প্রবাসী শ্রমিক ভাইয়েরা রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে যখন দেশে টাকা পাঠিয়েও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, তখন তাদের বুকের ভেতর ঝড় ওঠে। এসব কারণেই সেদিন কোটি মানুষের বুকের ভিতর ঝড় উঠেছিলো। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ সেদিন বিস্ফোরিত হয়েছিল।’

ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর যোগসাজশে মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরপরাধ মানুষকে গ্রেপ্তার, হয়রানি এবং ডিটেনশনে পাঠানো হচ্ছে। ঘুষ ছাড়া রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানে ন্যায্য সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এসব অনিয়ম-জুলুমের বিরুদ্ধেই ২০২৪ সালের গণআন্দোলন হয়েছিল। সেই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তারা স্পষ্ট করে বলে গেছেন- এমন বাংলাদেশ আমরা চাই না, যেখানে রাষ্ট্র পরতে পরতে মানুষের বিপক্ষে কাজ করে।’ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘১২ তারিখের ভোট শুধু দুই রঙের দুইটি কাগজে সিল মারা নয়, এটি বাংলাদেশ বদলে দেওয়ার একটি লড়াই। নতুন বাংলাদেশের নতুন রাজনীতি এবং পরিবর্তনকে যদি না বলা হয় তাহলে আগামী দিনগুলোতে দেশবাসীকে আগের মতোই জুলুম-নির্যাতনের মধ্যে বাঁচতে হবে। আগের মতোই দিল্লির আধিপত্যবাদের গোলামী করতে হবে। এখন আপনি গোলামী চাইবেন নাকি আজাদী চাইবেন, জুলুম চাইবেন নাকি ইনসাফ চাইবেন, সেটা বেছে নেওয়ার অধিকার একান্তই আপনার। তবে আপনি যদি মুক্তি চান, আজাদী চান, ইনসাফ চান, তবে আপনাকে হ্যাঁ-এর পক্ষেই রায় দিতে হবে।’

বাবুগঞ্জ উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ওই ১০ দলীয় জোটের প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাবুগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াত নেতা আজিজুর রহমান অলিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন খায়ের, এবি পার্টির জেলা ও মহানগরের যুগ্ম-আহবায়ক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সুজন তালুকদার, সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জি.এম রাব্বী, যুগ্ম-সদস্য সচিব ডাঃ তানভীর আহমেদ, বাবুগঞ্জ উপজেলা জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি সালাম মাঝি প্রমুখসহ ১০ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ এবং তাদের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। #

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপডেট সময় ১০:৫১:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
৬৬ বার পড়া হয়েছে

ইনসাফের লড়াই চালিয়ে যেতে হ্যাঁ ভোট চাইলেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ

আপডেট সময় ১০:৫১:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের ১০ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, ‘চব্বিশের জুলাই-আগস্টের টানা ৩৬ দিনের গণআন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, এটি ছিল দীর্ঘদিনের দুঃশাসন এবং ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সম্মিলিত বিদ্রোহ। এটি ছিল নতুন বাংলাদেশ গড়ার একটি ঐতিহাসিক লড়াই। জুলাই- আগস্টের সেই আন্দোলন ছিল এমন এক তরুণ সমাজের নেতৃত্বে, যারা আগে কখনো সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। কোটি কোটি তরুণ বুক চিতিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিয়েছিল- এই বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চাই। এই আন্দোলনের গভীরে ছিল বুকের ভেতরের ঝড়। সেই ঝড় কেন তৈরি হয়েছিল, তা না বুঝলে আগামী দিনের বাংলাদেশকে বোঝা যাবে না। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার ১০ দলীয় জোটের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হতে পাস করে মেধার শীর্ষে থেকেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়, আত্মীয়তার সুপারিশ বা তথাকথিত ‘চোতা’ না থাকায় যখন একজন তরুণ চাকরি পায় না, তখন তার বুকের ভেতর ঝড় ওঠে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে ব্যবসা আর সুবিধাভোগী রাজনীতির কোটানির্ভর বৈষম্য সেই ঝড়ের জন্ম দেয়। মামা-খালু ছাড়া চাকরির ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢোকা যায় না, এই উপলব্ধি লক্ষ লক্ষ তরুণ-যুবককে ক্ষুব্ধ করেছে। হাসপাতালে যখন দালাল ছাড়া চিকিৎসা মেলে না, কৃষক যখন ন্যায্য দামে সার, বীজ, কীটনাশক পায় না, প্রবাসী শ্রমিক ভাইয়েরা রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে যখন দেশে টাকা পাঠিয়েও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, তখন তাদের বুকের ভেতর ঝড় ওঠে। এসব কারণেই সেদিন কোটি মানুষের বুকের ভিতর ঝড় উঠেছিলো। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ সেদিন বিস্ফোরিত হয়েছিল।’

ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর যোগসাজশে মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরপরাধ মানুষকে গ্রেপ্তার, হয়রানি এবং ডিটেনশনে পাঠানো হচ্ছে। ঘুষ ছাড়া রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানে ন্যায্য সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এসব অনিয়ম-জুলুমের বিরুদ্ধেই ২০২৪ সালের গণআন্দোলন হয়েছিল। সেই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তারা স্পষ্ট করে বলে গেছেন- এমন বাংলাদেশ আমরা চাই না, যেখানে রাষ্ট্র পরতে পরতে মানুষের বিপক্ষে কাজ করে।’ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘১২ তারিখের ভোট শুধু দুই রঙের দুইটি কাগজে সিল মারা নয়, এটি বাংলাদেশ বদলে দেওয়ার একটি লড়াই। নতুন বাংলাদেশের নতুন রাজনীতি এবং পরিবর্তনকে যদি না বলা হয় তাহলে আগামী দিনগুলোতে দেশবাসীকে আগের মতোই জুলুম-নির্যাতনের মধ্যে বাঁচতে হবে। আগের মতোই দিল্লির আধিপত্যবাদের গোলামী করতে হবে। এখন আপনি গোলামী চাইবেন নাকি আজাদী চাইবেন, জুলুম চাইবেন নাকি ইনসাফ চাইবেন, সেটা বেছে নেওয়ার অধিকার একান্তই আপনার। তবে আপনি যদি মুক্তি চান, আজাদী চান, ইনসাফ চান, তবে আপনাকে হ্যাঁ-এর পক্ষেই রায় দিতে হবে।’

বাবুগঞ্জ উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ওই ১০ দলীয় জোটের প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাবুগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াত নেতা আজিজুর রহমান অলিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন খায়ের, এবি পার্টির জেলা ও মহানগরের যুগ্ম-আহবায়ক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সুজন তালুকদার, সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জি.এম রাব্বী, যুগ্ম-সদস্য সচিব ডাঃ তানভীর আহমেদ, বাবুগঞ্জ উপজেলা জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি সালাম মাঝি প্রমুখসহ ১০ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ এবং তাদের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। #